মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

ভৌগলিক প্রোফাইল

পরিচিতিঃ

তৎকালীন ত্রিপুরা জেলা পরবর্তীতে যা কুমিল্লা নামে পরিচিত যে তিনটি মহকুমা নিয়ে গঠিত ছিল চাঁদপুর তাদের অন্যতম। চাঁদপুর নামক এই জনপদটির ইতিহাস হাজার বছরের হলেও এর নামকরণের বয়স সাতশ বছরের বেশি নয়। মেঘনা, ডাকাতিয়া, ধনাগোদা নদীর কোল জুড়ে প্রায় বর্গাকার একটুকরো ঘন সবুজ ভূখন্ড নাম চাঁদপুর।

 

ভৌগোলিক পরিচয়ঃ

চাঁদপুর জেলার ভূ-তাত্ত্বিক গঠন হয়েছে প্লাইস্টোসিন ও হলোসীন যুগে। চাঁদপুর জেলার ভৌগোলিক ইতিহাসের সন্ধান পাওয়া যায় পার্গিটার রচিত পূর্ব-ভারতীয় দেশসমূহের প্রাচীনকালের মানচিত্রে। এই মানচিত্রে আজকের বাংলাদেশের এই অঞ্চলের দক্ষিণে সাগরনূপের, উত্তরে প্রাগজ্যোতিষ ও পূর্ব ভাগের পাহাড়ের পাদদেশের অঞ্চল ‘কিরাতাস’ নামে অভিহিত ছিল। তৎকালীন লোহিত নদীর (আজকের ব্রক্ষ্মপুত্র নদী) পলি দ্বারা ‘কিরাতাস’ অঞ্চল গঠিত। ‘কিরাতাস’ অঞ্চলের অধিকাংশ স্থান নিয়েই তৎকালীন কুমিল্লা জেলা গঠিত হয়েছিল। অর্থাৎ চাঁদপুর জেলাও উক্ত ‘কিরাতাস’ অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত ছিল। টমাস ওয়াটারের মানচিত্রে পূর্ব-ভারতীয় অঞ্চলের এ স্থানে তিতাস ও সম্ভবতঃ গোমতী নদীর গতিপথের দক্ষিণে ‘শ্রীক্ষেত্র’ নামক স্থানের অবস্থান দেখানো হয়েছে। বর্তমান চাঁদপুর জেলা এবং নোয়াখালী জেলার পশ্চিমাংশ নিয়ে তৎকালীন ‘শ্রীক্ষেত্র’ গঠিত হয়েছিল বলে অনেকে মনে করেন।

 

১৫৬০ খ্রিস্টাব্দের জীন্ ডি ব্যারোসের মানচিত্রে নদী তীরবর্তী ‘ট্রপো’র অবস্থান দেখানো হয়েছে। উক্ত ‘ট্রপো’ তৎকালীন ত্রিপুরা জেলা বা কুমিল্লা অঞ্চল। সুতরাং বর্তমান চাঁদপুরের ভৌগলিক অবস্থান নিকট ইতিহাসের দিকে দৃষ্টি দিলে তৎকালীন ত্রিপুরা জেলার অন্তর্ভুক্ত হিসেবে পাওয়া যায়। ১৬৫২ সালে পর্জুগীজ নাবিক স্যানসন দ্যা আবেভিল অঙ্কিত মানচিত্রে বান্দের নাম চিহ্নিত স্থানে একটি বড় নদী বন্দর ছিলো এবং সেটি চাঁদপুর বন্দর ছিলো। ১৭৭৯ খ্রি. ব্রিটিশ শাসনামলে ইংরেজ জরিপকারী মেজর জেমস্ রেনেল তৎকালীন বাংলার যে মানচিত্র এঁকেছিলেন তাতে কেবলমাত্র ত্রিপুরা জেলাই দেখানো হয়নি-- চাঁদপুর ও কুমিল্লার সঠিক অবস্থানও চিহ্নিত করা হয়েছে।

 

 

এই জেলার--

  
  উত্তরে মুন্সিগঞ্জ ও কুমিল্লা জেলা

  দক্ষিণে নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও বরিশাল জেলা

  পূর্বে কুমিল্লা জেলা এবং

  পশ্চিমে মেঘনা নদী, শরিয়তপুর ও মুন্সিগঞ্জ জেলা।

সংযুক্তি