মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

সাহিত্য ও সংস্কৃতি

চাঁদপুরের সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলঃ অতীত ও বর্তমান

(সাহিত্য ও সংস্কৃতি)

 

সাহিত্য ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে চাঁদপুর এর রয়েছে এক বিশেষ তাৎপর্যময় বৈশিষ্ট্য। বাংলাদেশের আবহমান সাহিত্য ও সংস্কৃতির একই প্রবাহের ক্ষুদ্র অংশ হয়েও এর স্বাতন্ত্র্য রয়েছে সৃষ্টির অবয়বে।

আধুনিক সংস্কৃতি ও সভ্যতার কেন্দ্রবিন্দু সাধারণতঃ শহর-বন্দর-নগর। কিন্তু চাঁদপুর জেলা শহরের গোড়াপত্তনের অনেক-অনেক বছর আগেই এই জেলার বিভিন্ন পল্লী গ্রামে গড়ে উঠেছিল সাহিত্য সংস্কৃতি চর্চার অসংখ্য প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের সাথে সেদিন সংশ্লিষ্ট প্রথিতযশা শিল্পী-সাহিত্যিক ও কলাকুশলীগণ। পল্লীর সহজ-সরল মানুষের বাস্তব জীবনের কাছাকাছি ঐ সময়ের শিল্পী সাহিত্যিকদের শিল্প ও সাহিত্য চর্চা অবিভক্ত ভারতবর্ষের সূধীজনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল বিশেষভাবে। ঐ সময়ে শিল্পীদের-সঙ্গীত আর অভিনয় মাতিয়ে তুলেছিল পল্লী গাঁয়ের মানুষের অনাবিল অন্তরকে। এমনিভাবে বাংলা ভাষা ভাষী মানুষের সাহিত্য সংস্কৃতির মহাসাগরের বিপুল স্রোত প্রবাহকে ননা উপাচারে সমৃদ্ধ করেছে এই জেলা।

‘‘চাঁদপুর ভরপুর জলেস্থলে,

মাটির মানুষ আর সোনার ফলে।’’

স্বভাব কবি মরহুম ইদ্রিস মিঞার চাঁদপুরের তথ্যলেখ্য সমৃদ্ধ কবিতার উপরোক্ত পংক্তিটি উদ্দেশ্যবিহীনভাবেই রচিত হয়নি। রচিত হয়নি শুধুমাত্র স্থান বিশেষের প্রশস্তির প্রয়োজনেই। পংক্তির অন্তর্নিহিতভাবে সম্যকভাবে বহন করে চলছে এক বিরাট তাৎপর্যময় অর্থবহ বাস্তবচিত্র। জেলার পশ্চিমাংশে প্রবাহমানা মেঘনার কলকল ছলছল ঐক্যতান সৃষ্টি করেছে এক সুরেলা আবেশ। সে আবেশের ছোঁয়াচ কালে কালে, যুগে যুগে মাতিয়ে তুলেছে এর তীরবর্তী বিস্তীর্ণ সমতল ভূমির সরল প্রাণ জনগণের অন্তরকে। জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে আসছে মেঘনারই শাখা-স্রো্তধারা ডাকাতিয়া। ডাকাতিয়া নামটির সাথে আপাতঃ ভাবে মিশে রয়েছে এটা ভীতিজনক ভাব। কিন্তু ডাকাতিয়ার এই ভীতিজনক নামের বাইরে রয়েছে এর অন্য এক মোহনীয় রূপ। ডাকাতিয়া এক অপরূপে সাজিয়েছে এই জেলার জনপদকে। তার স্বচ্ছস্রোতধারা দিয়ে প্রাচুর্য। এনেছে প্রাচুর্যপ্রাপ্তির প্রশান্তি। ফুলে ফুলে ভরপুর, গানে গানে সুমধুর এই মহকুমার প্রায় প্রতিটি জনপদ। প্রভাতের সাতরঙ্গা রশ্মিচ্ছটা, মেঘনা-ডাকাতিয়ার কলকল-ছলছল উচ্ছ্বলতান, প্রভাত পাখীর কল-কাকলী মোহনীয় করেছে সুদূর অতীতে- জেলার প্রত্যেক মানুষের অন্তরের সুকোমল তন্ত্রীকে। প্রকৃতির এই মনোমুগ্ধকর বৈচিত্র্যময় পরিবেশে এখানে সাহিত্য-নির্যাসের সুরভীতে আকৃষ্ট হয়ে জন্মেছে কত শিল্পী-সাহিত্যিক, সাংবাদিক। কালের আবর্তে তাঁদের অনেকের নাম আজ শুধু স্মৃতি হয়ে রয়েছে মানুষের অন্তরে।

 

মনসা মঙ্গল কাব্যে বর্ণিত উজ্জ্বয়িনী সম্ববতঃ

এ জেলার কচুয়া থানার উজ্জ্বয়িনী বা উজানী গ্রামের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়। উজ্জ্বয়িনীতে প্রাপ্ত বিশেষ বিশেষ নিদর্শন প্রকৃত তথ্যের কাছাকাছি পৌঁছে দেবে তথ্যানুসন্ধানী গবেষককে। উজ্জ্বয়িনীর অদূরে বালুকাময় বিস্তীর্ণ অঞ্চলের অবস্থান আর এর গঠন প্রকৃতি নির্দ্ধিধায় স্মরণ করিয়ে দেয় প্রাচীন সেই নদীর কথা-যে নদী দিয়ে বয়ে চলতো চাঁদ সওদাগরের সপ্তডিঙ্গা। কচুয়ার ‘‘মনসা মুড়ার’’ সাথে জড়িয়ে আছে ‘‘বেহুলা সুন্দরী’’র অবিস্মরণীয় কাহিনী। দুলাল রাজার ও থানা বিবির (থানেশ্বরী) দীঘির অবস্থান আজও স্মরণ করিয়ে দেয় অতীতের অনেক স্মৃতিবিজড়িত কাহিনীর কথা। চাঁদপুর নামের সাথে চাঁদ শাহ্ ফকির কিংবা চাঁদ সওদাগরের কীর্তি অমর হয়ে আছে। সেদিক থেকে বিচার বিশ্লেষণ করলে এই মহকুমা যে এক প্রাচীন গৌরবমন্ডিত ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির উত্তরাধিকারী, এ কথা নিঃসংকোচে অথচ সগর্বে বলা যায়। অবিভক্ত ভারতবর্ষের বাংলা ভাষাভাষী মানুষের শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্র যখন ছিল কোলকাতা, ঠিক সেসময় চাঁদপুরের সাথে কোলকাতার ছিল প্রত্যক্ষ যোগাযোগ। তৎকালীন পূর্ব বঙ্গের (বাংলাদেশের) কেন্দ্রস্থলে অবস্থান হেতু এতদ অঞ্চলের যোগাযোগের ক্ষেত্রে এই মহকুমার গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। তখনকার দিনে পূর্বাঞ্চলের প্রায় সকলকেই চাঁদপুরের পথ পেরিয়েই যেতে হতো কোলকাতায়। সেই কারণে কোলকাতাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠা শিল্প সংস্কৃতির স্পর্শে উজ্জীবিত ও আকৃষ্ট হয় এই মহকুমার বিভিন্ন অঞ্চলের অনেক কবি, শিল্পী, সাহিত্যিক ও সংস্কৃতি কর্মী। সে সময় থেকে সাহিত্য ও সংস্কতিরূপ স্রোতস্বিনীর সে প্রবহমানধারা উৎসারিত হয়ে এসেছে- কালের আবর্তে, রাজনীতির পট পরিবর্তনে, যুগের প্রয়োজনে। দৃষ্টিভঙ্গীর কারণে সেই ধারা হয়তো চলার পথে বাঁক নিয়েছে; হয়তো তার গতি কখনো হয়েছে মন্থর, কখনো দুর্বার, কখনো শান্ত, কখনো বা হয়েছে প্রশান্ত। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সেই ধারাকে কখনো স্থবিরতা গ্রাস করতে পারেনি। ঃ

 

 যাত্রাঃ

এ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যের আলোকে নিঃসন্দেহে বলা চলে যে, মুক্তাঙ্গনের যাত্রাভিনয়ের মাধ্যমেই মানুষের চিত্তবিনোদনের প্রয়োজনে চাঁদপুর থানার চালিতাতলিতেই সর্বপ্রথম প্রতিষ্ঠিত হয় ‘‘প্রাচ্যাভিনয় সম্প্রদায়’’ যা ঘোষাল অপেরা নামে সমধিক পরিচিত। কোলকাতার বাইরে এটিই বাংলাদেশের প্রথম যাত্রা দল। প্রতিষ্ঠাতা উমানাথ ঘোষালের পরিচালনায় ‘রাজা হরিচন্দ্র’, ‘সৎমা’, ‘দক্ষযজ্ঞ’ ইত্যাদি যাত্রাপালা চাঁদপুর, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিনীত হয় এবং বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করে। এই যাত্রা দলটির প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিল তৎকালীন কোম্পানী, ‘জার্ডিন্স স্কিনার এন্ড কোম্পানী, ডেভিড এন্ড কোম্পানী এবং ব্যক্তিগতভাবে ব্রজলাল কুন্ডু মহাশয়। এ দলের বেহুলা নাটক কুমিল্লা শহরে ২৬ রজনী অভিনীত হয়েছিল। ‘চিত্তরঞ্জন অপেরা’ ও ‘চাঁদপুর যাত্রা’ পার্টি বলে ২টি যাত্রাদল পরে আত্মপ্রকাশ করে কয়েকটি যাত্রাভিনয় উপহার দেয়।

 

প্রখ্যাত অভিনেতা, নাট্যকার, যন্ত্রশিল্পী, সঙ্গীতজ্ঞ ও যাত্রাপরিচালক উমানাথ ঘোষাল ছিলেন ঐ সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠাতা। তাঁরই রচিত ‘‘শ্রী গৌরাঙ্গ’’ ‘‘বেহুলা’’ ‘‘সর্বানন্দ’’প্রভৃতি যাত্রার বই সার্থকভাবেই মঞ্চস্থ করে তিনি আনন্দ-উদ্বোলিত করে তুলেছিলেন তৎকালীন পূর্ব বঙ্গের আপামর জনগণের অন্তরকে। ১৮৮০ সালে যাত্রা শুরু করে বহু চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে যাত্রা দলটি টিকেছিল ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত। এই দলেরই বিশিষ্ট গায়ক হরকুমার শীল ছিলেন অবিভক্ত ভারতবর্ষের সর্বজন চিত্তহারী সুকণ্ঠ গায়ক। কোলকাতার আর্য অপেরা, গণেশ অপেরা আর ভান্ডারী অপেরার মত যাত্রা দলগুলো তাঁর সুরেলা কণ্ঠকে বরণ করে নিয়েছিল সাদরে। পরবর্তীতে ঘোষাল পরিবারের বিশিষ্ট শিল্পী রেবতী ঘোষালের উপর দায়িত্ব অর্পিত হয় ঐ যাত্রাদলটি পরিচালনার। চরম আর্থিক সংকট হেতু ঐ ইতিহাস সৃষ্টিকারী যাত্রাদলটি চলতে গিয়ে হারিয়ে ফেলে তার পথ। ঐ যাত্রা দলটির  শেষ দিকে অর্থাৎ ১৯২৫-৩০ সালের মধ্যে বাজাপ্তি গ্রামে রমনী কুন্ডু নামীয় জনৈক স্কুল শিক্ষকের প্রচেষ্টায় জন্ম নেয় ‘‘চিত্তরঞ্জন অপেরা’’, ১৯২৭ সালে চাঁদপুর শহরে চাঁদপুর যাত্রা পার্টি নামে জন্ম নেয় একটি সৌখিন যাত্রাদল। স্বনামখ্যাত নগেন্দ্র চন্দ্র দে অর্থাৎ নগাদা ছিলেন এর সুযোগ্য পরিচালক। তিনি ছিলেন একাধারে পরিচালক, অভিনেতা, কুশলী, প্রযোজক এবং নিঃস্বার্থ সমাজসেবী। প্রায় ঐ সময়ে কচুয়ার সাচার ও পাথৈর গ্রামে ২টি যাত্রাদল গড়ে উঠে। ঐ সময়ে যাত্রাভিনয়ে যাঁরা উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন তাঁদের মধ্যে হরকুমার শীল, ফণি সিং, ভোলা সিং, পশুপতিসিং, মিঃ এলবার্ট, হিমাংশু চক্রবর্ত্তী, শীতল দত্ত, গোপাল অধিকারী, ওয়ারেস খান, নগেন্দ্র চক্রবর্ত্তী, সুধাংশু ঘোষ, ভানু মজুমদার, অনীল ঘোষ ও মরু ঘোষালের নাম উল্লেখযোগ্য। এঁদের প্রায় সকলেই আজ লোকান্তরিত। যাঁরা বেঁচে আছেন, তাঁরা আজও প্রেরণা দিয়ে যাচ্ছেন নবীনদেরকে। ঃ

 

 নাটকঃ

এ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যের নিরীখে বলা যায়, ১৯১০ সালে চাঁদপুর শহরের পুরাতন আদালত প্রাঙ্গণের বার লাইব্রেরির অস্থায়ী মঞ্চে (বর্তমানে নতুন বাজার পুলিশ ফাঁড়ি, পুরাণ আদালত পাড়া) স্বনামখ্যাত নাট্যকার ডি.এল. রারে ‘‘শাহজাহান’’ নাটকের সার্থক মঞ্চাভিনয়ের মাধ্যমেই চাঁদপুর মহকুমার নাট্য আন্দোলনের পরিকল্পিত পথযাত্রা শুরু হয়। চাঁদপুরের তৎকালীন লব্ধ প্রতিষ্ঠ আইনজীবীদের প্রচেষ্টার ফসল ছিল ঐ নাট্যাভিনয়। পরিচালক ছিলেন অক্ষয় কুমার দত্ত, যিনি পরিবর্তী সময়ে চাঁদপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছিলেন। ঐ সময়ে নাটক মঞ্চায়নের জন্য মহকুমার কোথাও কোন স্থায়ী মঞ্চ নির্মিত হয়নি। এর কয়েক বৎসর পর সম্ভবতঃ ১৯২০ কি ১৯২১ সালে পুরাণবাজারে ‘‘বীণাপাণি নাট্যমন্দির’’ প্রতিষ্ঠিত হলে প্রতি মাসে নিয়মিতভাবে নাটক মঞ্চস্থ হতে থাকে। ঐ একই সময়ে কখনো নিরোদ পার্কে (বর্তমান ৫নং নিউ মার্কেট), কখনো পাল বাজারের সন্নিকটে অবস্থিত অধুনালুপ্ত কর্মাশিয়াল ক্লাবে, কখনো রেলওয়ে মঞ্চে, কখনো বা চাঁদপুর শহরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত কালীবাড়ী প্রাঙ্গণের হরিবোলা সমিতির অস্থায়ী মঞ্চে প্রায় নিয়মিতভাবেই নাটক মঞ্চস্থ হতে থাকে। চাঁদপুরের প্রথম স্থায়ী মঞ্চ পুরাণবাজার মেরকাটিজ রোডস্থ ‘বীণাপাণি’ নাট্যমন্দির (বর্তমানে কোহিনূর সিনেমা হল)। তবে প্রথমে অস্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল পুরাণবাজার নিতাইগঞ্জে রাস্তার দক্ষিণ পার্শ্বে।

১৯৪০ খ্রিষ্টাব্দে (মতান্তরে ১৯৪২ সালে) টাউন হলের প্রতিষ্ঠার পর থেকে টাউন হলই হয়ে দাঁড়ায় নাটক, সঙ্গীত ও নৃত্য পরিবেশনের একমাত্র স্থান। ঐ সময়ে (১৯১০ থেকে ১৯৪৭) নাট্যান্দোলনের সাথে যাঁরা বিভিন্নভাবে জড়িত ছিলেন তাঁদের মধ্যে মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য, কালী প্রসাদ ওয়াস্তী, নগেন্দ্র চন্দ্র দে, বিলাস চক্রবর্তী, নগেশ চক্রবর্তী, ধীরেন্দ্র চন্দ্র সোম, আবদুল লতিফ চৌধুরী, ওয়ারেস খান, কালু মহলানবীশ, ডাঃ শরফ উদ্দীন আহমদ, আবদুল খালেক চৌধুরী প্রমুখের নাম উল্লেখযোগ্য। সেদিনের নাটকের অভিনয় সম্বন্ধে কিছু না বললে নাটকের সাথে যাঁরা যুক্ত ছিলেন তাঁদের প্রতি অবিচার করা হবে বলে মনে করছি। মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য ছিলেন চাঁদপুরের অধুনালুপ্ত ‘ন্যাশনাল’ স্কুলের (যেখানে বর্তমানে মাতৃপীঠ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ঠিক প্রায় সেখানেই এই স্কুল ছিল জাতীয়তাবাদী স্বাধীনতা সংগ্রামীদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত একটি বিশেষ ধরনের শিক্ষায়তন) একজন সুযোগ্য শিক্ষক। তিনি নাট্যাভিনয়ে এতই পারদর্শী ছিলেন যে, প্রখ্যাত অভিনেতা শিশির ভাদুরী ‘সীতা’ নাটকে বাল্মিকীর ভূমিকায় তাঁর অভিনয় দেখে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে ‘ঋৃষি’ উপাধি দিয়েছিলেন। মনোরঞ্জন বাবু পরবর্তী সময়ে দেশ বিভাগের পরে কোলকাতার নাট্য আন্দোলনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকেন এবং উল্লেখ করার মত বেশ ক’খানা নাটকও রচনা করেন। ২য় বিশ্বযুদ্ধ, ১৯৪৬ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা-হাঙ্গামা আর ১৯৪৭ সালের ভারতবর্ষের বিভক্তির কারণে কয়েক বছরের জন্য নাটক তথা সাংস্কৃতিক ক্রিয়াকান্ডের গতি কিছুটা মন্থর হয়ে আসে। অভাব অনটনের কারণে কেউ কেউ এ পথ ছেড়ে দিলেন, কেউ অবস্থার শিকার হয়ে করলেন দেশত্যাগ। যাঁরা শত বাধা বিপত্তি সত্বেও সংস্কৃতি চর্চার মমতা ত্যাগ করতে না পেরে এই কন্টকাকীর্ণ বন্ধুর ক্ষেত্রেই রয়ে গেলেন, তাঁদের সংযম, নিষ্ঠা, ঐকান্তিক প্রচেষ্টা, বিপুল কর্মোদ্যোগ আর অক্লান্ত সাধনার ফলশ্রুতিতেই মৃত প্রায় সংস্কৃতিবৃক্ষে আবার নতুন প্রাণের স্পন্দন জাগলো, গজিয়ে উঠলো শাখা-প্রশাখা, পত্র-পল্লব। অবশ্য এ কথা বলা অসঙ্গতঃ নয় যে, সেদিন সংস্কৃতির ক্ষেত্রে নেমে এসেছিল সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বধা-নিষেধ। ধর্মান্ধতা ও উগ্রসাম্প্রদায়িকতা যা শোষক শ্রেণীর হাতে শোষণের মাধ্যম হিসেবেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে যুগে যুগে, ওসবই রুদ্ধ করতে চেয়েছিল সংস্কৃতির গতিধারাকে। কিন্তু মুক্ত চিন্তার অধিকারী ও সমাজ প্রগতির লক্ষ্যে নিবেদিত ও উৎসর্গীকৃত সংস্কৃতিমনা ব্যক্তিবর্গের অব্যাহত প্রচেষ্টায় সাম্প্রদায়িক ভেদবুদ্ধিতে আচ্ছন্ন বিরুদ্ধবাদীদের সমস্ত চক্রান্ত ভেস্তে যায়। ১৯৪৭ সালের পর বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের পূর্ব সময় পর্যন্ত যারা নাটক প্রযোজনা, অভিনয়, পরিচালনা ও রচনার সাথে সম্যকভাবে যুক্ত ছিলেন, তাদের মধ্যে ডাঃ শরফ উদ্দীন, কালু মহলানবীশ, অধ্যাপক মফিজ উল্লাহ, নগেন্দ্র চন্দ্র দে, নগেশ চক্রবর্তী, এ.টি.এম আবেদ, এস.এন. রায়, নান্নু মিঞা, হারুন অর রশীদ, বিলাস চক্রবর্তী, মোফাজ্জল হোসেন মিঞা, পরাণ মৌলিক, ডাঃ নুরুর রহমান, ভানু মজুমদার, ফণীন্দ্র কুমার পাল, মালতি দে, বেনুলাল দে, সুনীল ঘোষ, মণীন্দ্র দে, মনোতোষ দে, হিমাংশু চৌধুরী, প্রেমাংশু গুহ, ঊষারাণী মজুমদার, গিয়াসউদ্দিন চৌধুরী, সামছুদ্দিন আহম্মদ, দীনেশ সাহা, ক্ষিতিশ চন্দ্র দে, সামছুল আলম চোকদার, মন্টু মজুমদার, ফখরুল ইসলাম, মনু ঘোষ, মনু বসু, বিমল কর, প্রদীপ দে, অজয় ভৌমিক, বিমল কর, ইউনুছ খান বেলাল, জীবন কানাই চক্রবর্তী, লিয়াকত হোসেন লেকু ও ননী গোপাল দে প্রমুখের নাম উল্লেখযোগ্য। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ক’বছর পূর্বে নান্নু মিয়া ও হারুন অর রশীদ মিয়ার যৌথ প্রচেষ্টায় ‘বহুরূপী নাট্যগোষ্ঠী’ আত্মপ্রকাশ করে কয়েকটি সফল নাটক নাট্যামোদীদেরকে উপহার দেয়। স্বাধীনতার অব্যবহিত পরে বাংলাদেশ টি.ভি’র প্রথিতযশা নাট্যকার ও অভিনেতা হুমায়ুন ফরিদী ‘বহুরূপী’র হাল ধরে চাঁদপুরের নাট্যাঙ্গনে সুস্থ আধুনিকতার নতুন আঙ্গিক এনে নাটকের ক্ষেত্রে নতুন যুগের সূচনা করেন। এরপরেই ‘বর্ণচোরা নাট্যগোষ্ঠী’ ও ‘অনন্যা নাট্যগোষ্ঠী’ আত্মপ্রকাশ করে। এর ক’বছর পর ‘মিতালী নাট্যগোষ্ঠী’ ‘শিল্পীতীর্থ নাট্যগোষ্ঠী’, নটরাজ সমাহার, অনুপম নাট্যগোষ্ঠী আত্মপ্রকাশ করে। মিতালী ও নটরাজ সমাহার আত্মপ্রকাশ করার পর ২/১ খানা নাটক মঞ্চায়নের পরেই নাট্যজগত থেকে বিদায় নেয়। বর্ণচোরা ও অনন্যা নাট্যগোষ্ঠী বেশ ক’বছর পর্যন্ত বেশ ক’খানা নাটক সফলভাবে মঞ্চস্থ করে। এই গোষ্ঠীর ক’জন উদ্যোগী প্রতিশ্রুতিবান ও প্রগতিশীল কর্মী বেশ ক’খানা নাটক লিখে মঞ্চায়িত করে এবং নতুন ধারার নাট্যান্দোলনের শ্লোগান তুলে সমসাময়িক বাস্তব সমস্যাকে মঞ্চে তুলে এনে দর্শকদেরকে উপহার দেয়। অনুপম নাট্যগোষ্ঠী’ও দর্শকদেরকে ক’টি নাটক উপহার দিয়েছে। শিল্পীতীর্থ তেমন উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারেনি। বর্তমান সময়ে চাঁদপুর জেলায় সর্বমোট ১৬টির অধিক নাট্য সংগঠন নাট্যাঙ্গনকে মুখরিত করে রেখেছে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নাট্য সংগঠনগুলো হচ্ছে- ‘বর্ণচোরা নাট্যগোষ্ঠী’, ‘অনন্যা নাট্যগোষ্ঠী’, ‘চাঁদপুর ড্রামা’, ‘অনুপম নাট্যগোষ্ঠী’, ‘চাঁদপুর থিয়েটার’, ‘বর্ণমালা থিয়েটার’, ‘অগ্নিতরুণ নাট্যগোষ্ঠী’, ‘মেঘনা থিয়েটার’, ‘হাইমচরের প্রজন্ম নাট্যগোষ্ঠী’, হাজীগঞ্জের ‘হাজীগঞ্জ থিয়েটার’, ফরিদঞ্জের ‘ফরিদগঞ্জ থিয়েটার’ ইত্যাদি।

 

বর্ণচোরা নাট্যগোষ্ঠী

‘বর্ণচোরা নাট্যগোষ্ঠী’ ১৯৭৪ সালের ১৭ আগস্ট ‘পাপমৃত্যু’ নাটক দিয়ে নাট্যাঙ্গনে প্রবেশ করে। বর্তমানে যারা এই প্রতিষ্ঠানকে টিকিয়ে রাখতে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করছেন তারা হচ্ছেন জনাব শাহিদুর রহমান চৌধুরী (প্রধান উপদেষ্টা), জীবন কানাই চক্রবর্তী, কাজী শাহাদাত, ইকরাম চৌধুরী, ইকবাল হোসেন পাটওয়ারী, শুকদেব রায় (সংগঠনের প্রাণপুরম্নষ), শরীফ চৌধুরী, ইয়াহিয়া কিরণ, মুজিবুর রহমান মজু, নজরুল ইসলাম, জিয়াউল হাসান টিটো, অভিজিত আচার্য, বিজয়, মধু, দিলীপ দাস, বাবু, জহিরুল হক, অরুণ সরকার, সারোয়ার হোসেন মুকুল, বিচিত্রা সাহা, কামরুন্নাহার প্রমুখ। এ প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের অন্তর্ভুক্ত। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী আয়োজিত নাট্য প্রতিযোগিতায় ২০১০ সালে শ্রেষ্ঠ জেলা নাট্যদল হিসাবে পুরস্কৃত হয়।

 

 

অনন্যা নাট্যগোষ্ঠী

‘অনন্যা নাট্যগোষ্ঠী’ নামীয় নাট্য সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাকাল ১৯৭৪ সালের ২৪শে অক্টোবর। বর্তমানে এই সংগঠনে যারা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছেন তারা হলেন শহীদ পাটওয়ারী, হানিফ পাটওয়ারী, হারুন আল রশিদ, চন্দন সরকার, চুন্নু, মৃণাল সরকার, মানিক দাস, আলমগীর, সীমা আক্তার, আশা, জসিম মেহেদী, হেলাল, শ্যামা ভট্টাচার্য প্রমুখ। এই প্রতিষ্ঠানে এ পর্যন্ত ৪৩টি নাটকের প্রদর্শনী হয়েছে ৩৭৫ বার। এ প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের অন্তর্ভুক্ত একটি উল্লেখযোগ্য নাট্য প্রতিষ্ঠান। ইতোপূর্বে এ প্রতিষ্ঠানটি জাতীয়ভাবে পুরস্কৃত হয়েছে এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী মঞ্চে কয়েকবার নাটক মঞ্চস্থ করেছে।

‘চাঁদপুর ড্রামা’

১৯৮৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর আত্মপ্রকাশ করে। প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য মরহুম আলতাফ হোসেন চৌধুরী, ননী গোপাল দে, জীবন কানাই চক্রবর্তী, এস.এম জয়নাল আবেদীন, মজিবুর রহমান দুলাল, গোপাল সাহা (রায়), শফিকুর রহমান, আহমেদ ফারুক, নজরুল ইসলাম রনি, তপন সরকার প্রমুখ। এ প্রতিষ্ঠানটি এ পর্যন্ত ৩৪টি নাটকের ২০৮ বার প্রদর্শনী সম্পন্ন করেছে। এদের বর্তমানে উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিরা হচ্ছেন ননী গোপাল দে, এস.এম জয়নাল আবেদীন, মুজিবুর রহমান দুলাল, নজরুল ইসলাম রনি, পরিমল চন্দ্র দাস নূপুর প্রমুখ।

বর্তমান সদস্য সংখ্যা     ঃ ৪৮ জন

মোট প্রযোজনা            ঃ ৩৪টি

প্রদর্শনী সংখ্যা            ঃ ২৬৮টি

বর্তমান সভাপতিঃ আলহাজ্ব এস.এম. জয়নাল আবেদীন (২০১১-২০১২)

বর্তমান সাধারণ সম্পাদকঃ এমদাদুল হক মিলন (২০১১-২০১২)

উল্লেখযোগ্য নাটকঃ ১) ওরা কদম আলী; ২) সেনাপতি; ৩) জীবনযুদ্ধ; ৪) নো-ভেকেন্সী; ৫) পলাশ ডাঙ্গার ময়না; ৬) রক্তে গড়া স্বাধীনতা; ৭) রঙ্গের মানুষ; ৮) একজন রাহেলা; ৯) বিশ্বত্রাতা শ্রী রামকৃষ্ণ; ১০) ফেরারী নিশান; ১১) খেলা খেলা; ১২) আলাপী আলাপী; ১৩) চোর চোর; ১৪) ফাঁস; ১৫) এখানে নোঙ্গর; ১৬) ওরা আছে বলেই; ১৭) ওরা কারা; ১৮) স্বাধীনতার সূর্য; ১৯) জাহেন আলীরে ধর; ২০) স্বাধীনতা।

 

উল্লেখযোগ্য নাট্যোৎসবঃ ১) ১৯৮৯ সালে ৫ দিনব্যাপী নাট্যোৎসব, স্থানঃ চাঁদপুর টাউন হল; ২) ১৯৯৩ সালে ৯ দিনব্যাপী নাট্যোৎসব, স্থানঃ চাঁদপুর ক্লাব; ৩) ২০০২ সালে ১১ দিনব্যাপী নাট্যোৎসব, স্থানঃ চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজ প্রাঙ্গন। প্রতিটি নাট্যোৎসবেই ঢাকাসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলার প্রখ্যাত নাট্যদলগুলো অংশগ্রহণ করে।

চাঁদপুরের বাহিরে সফল নাটক মঞ্চায়নঃ ঢাকা শিল্পকলা একাডেমী এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে এস.এম. জয়নাল আবেদীনের রচনায় ‘পলাশ ডাঙ্গার ময়না’; ফেনীর জহির রায়হান হলে এস.এম. জয়নাল আবেদীন এর রচনায় ‘রঙ্গের মানুষ’; কুমিল্লা টাউন হলে এ.বি. গুপ্তের রচনায় ‘‘ওরা কারা’’; কুমিল্লার পাঠশালায় ‘বিশ্বত্রাতা শ্রী রামকৃষ্ণ’।

২০০৪ সালে বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সদস্যপদ লাভ করে।

‘চাঁদপুর ড্রামা’র নিজস্ব নাট্যকার ও নাটকঃ

১। আলহাজ্ব এস.এম জয়নাল আবেদীন

পলাশ ডাঙ্গার ময়না, জীবনযুদ্ধ নো-ভেকেন্সী, ছুটি (ছোটদের নাটক), মাধব বাবুর তানপুরা, রঙ্গের মানুষ, অন্য মানুষ, একজন রাহেলা (পথ নাটক), টোকাই, রক্তে গড়া স্বাধীনতা, দুবাইওয়ালা (কাব্য নাটক), মিসির আলীর মেস, নবাব সিরাজদ্দৌলা (নবনাট্যায়ন), বেদের মেয়ে জোছনা, স্বর্গের সন্ধানে।

প্রকাশনা কাব্যগ্রন্থ (ঢাকায় একুশে’র বই মেলায় প্রকাশিত)ঃ

           ভালবাসি তোমাকে (২০০২), তুমি সেই মুক্তিযোদ্ধা (২০০৭)

উপন্যাস (ঢাকায় একুশে’র বই মেলায় প্রকাশিত)ঃ

           ঝড় (২০০৮)

সাধারণভাবে প্রকাশিতঃ

           প্রেম সমাধী (২০০৯)

নাট্যসামগ্রী (ঢাকায় একুশে’র বই মেলায় প্রকাশিত)ঃ

           পলাশ ডাঙ্গার ময়না (২০১০), রক্তে গড়া স্বাধীনতা (২০১১)

২। এস.বি. গুপ্ত

           স্বাধীনতার সূর্য, ওরা কারা

৩। ডাঃ দিলীপ কুমার অনু

           স্বাধীনতা এবং

‘চাঁদপুর ড্রামা’র অনন্য অর্জনঃ

১৯৮৬ সালে চাঁদপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমীর আয়োজনে আন্তঃজেলা নাট্যোৎসবে-

* শ্রেষ্ঠ নাটকের পুরস্কার (চোর চোর)

* শ্রেষ্ঠ পরিচালকের পুরস্কার (ননী গোপাল দে)

* শ্রেষ্ঠ অভিনেতা (মুজিবুর রহমান দুলাল)  

এই সংগঠনের পক্ষ থেকে ২০০২ সালে চাঁদপুরের বিশিষ্ট ব্যক্তিগণকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

বর্তমানে উল্লেখযোগ্য সদস্যের নামঃ

১। আলহাজ্ব এস.এম জয়নাল আবেদীন; ২। ননী গোপাল দে; ৩। মজিবুর রহমান দুলাল; ৪। তপন সরকার; ৫। মানিক পোদ্দার; ৬। নজরুল ইসলাম রনি; ৭। পরিমল দাস নূপুর; ৮। এমদাদুল হক মিলন; ৯। নাঈম আহমেদ; ১০। ইফা; ১১। অাঁখি; ১২। অনিতা নন্দী; ১৩। প্রদীপ কর্মকার।

 

অনুপম নাট্যগোষ্ঠী

        ‘অনুপম নাট্যগোষ্ঠী’,  চাঁদপুরের ঐতিহাসিক বাণিজ্যিক কেন্দ্র পুরাণবাজারে ১৯৭৬ সালে এর পথ চলা শুরু করে। ‘‘আমরা গতিময় নান্দনিক জীবনের জন্য’’ এই শ্লোগানের মাধ্যমে পথচলা শুরু করে অনুপম নাট্যগোষ্ঠী। অতঃপর ১৯৯৭ সালে পুরাণবাজারের নিতাইগঞ্জস্থ নাট্যবর্গ ও উন্মুক্ত পাঠদান স্থাপনের লক্ষ্যে এডঃ মোঃ জহিরউদ্দিন বাবর এর উদ্যোগে সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ের অনুদানে এবং সংগঠকদের সহযোগিতায় এবং সুধী সমাজের অনুপ্রেরণায় নির্মাণ করা হয় ‘অনুপম নাট্যগোষ্ঠী’। প্রতিষ্ঠানের সংবাধকবৃন্দ- বিল্লাল খাঁন, জাহাঙ্গীর আলম খোকা, আবু সুফিয়ান মিজি, শফিকুর রহমান, গোবিন্দ মন্ডল, শম্ভু আচার্যী, গৌতম চৌধুরী, সত্য মন্ডল, মিন্টু দাস, সিরাজুল ইসলাম ও অন্যান্য শুক্কুর। প্রতিষ্ঠাকালীন শিল্পীবৃন্দ- গোবিন্দমন্ডল, শম্ভু আচার্যী, গৌতম চৌধুরী, শুক্কুর বেপারী, মিন্টু দাস, গোপাল সুর, দেবপ্রসাদ ঘোষ (জয়গুরু), সত্য মন্ডল, ভারতী মন্ডল, বিল্লাল খান, শফিকুর রহমান, হরি মন্ডল, আরো অনেকে। উল্লেখযোগ্য অনুষ্ঠানসমূহঃ ১৯৯৪ সালে চাঁদপুরের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ নাট্যোৎসব পালিত হয়। সেখানে বাংলাদেশে কেন্দ্রীয় নাট্যসংগঠনগুলো ৭ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে নাটক প্রদর্শন করেন। এছাড়া ১৯৯৪ সালে সাবেক কমিউনিটি সেন্টার বর্তমান পৌর পাঠাগার পুরাণবাজারে ৩ দিন নাট্য উৎসব পালন করা হয়। সেখানেও ঢাকা ‘আরণ্যক নাট্যগোষ্ঠী’ ও ‘ঢাকা থিয়েটার’ নাটক প্রদর্শন করে। তাছাড়া জাতীয় উৎসব পালনসহ বিভিন্ন জেলায় সাংস্কৃতিক উৎসবের পাশাপাশি ধর্মীয় উৎসবে নাটক করে। ২০১০ সালে নিজস্ব মিলনায়তনে চলচ্চিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত করে। উল্লেখযোগ্য নাটকগুলোঃ ‘গ্রাস’, ‘মানুষ ভাসে’, ‘বগী হাসে’ ‘ক্ষত বিক্ষত’, ‘সুন্দর আলী বায়োস্কোপ’, ‘অপারেশন সার্চলাইট’, ‘মহুয়ার পালা’, ‘মহাবীর কৃষ্ণ’, ‘মহামায়া দুর্গা’, ‘এখন দুঃসময়’, ‘সবচন নির্বাসনে’, ‘ফলাফল নিম্নচাপ’, ‘এখানে নোঙ্গর’, ‘চাকর’ ইত্যাদি। ১৯৮৯ সালে চাঁদপুরের বর্ষাকালীন নাটো্যৎসবে শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসাবে অনুপম নাট্যগোষ্ঠীর গোবিন্দ মন্ডল পুরস্কৃত হয়।

বর্তমান সংগঠকবৃন্দঃ

জসিমউদ্দিন খাল বাবুল, বিল্লাল হোসেন খাঁন, আবু সুফিয়ান মিজি, সাবেক কমিশনার বিল্লাল হোসেন খান, জয়গুরু, গোবিন্দমন্ডল, সত্য মন্ডল, ভারতী মন্ডল, হরি মন্ডল, জাকারিয়া ভূঁইয়া (বতু), রঞ্জিত দত্ত, বোরহান খাঁন, অসীম মিশ্র, আনোয়ার হোসেন মাঝি, সালেহ আহম্মেদ, মুরাদ খাঁন, আনিছ বেপারী, জুলহাস আহম্মেদ, মাইনুদ্দিন বেপারী, শাজাহান কবির খোকা, অপু মন্ডল, কার্তিক সরকার, পংকজ দে, আশীষ দেবনাথ, শিশির সাহা প্রমুখ। ১৯৯২ সালের প্রথম বিজয় মেলা থেকে বর্তমান পর্যন্ত সকল মেলায় কার্যক্রমে অনুষ্ঠানে ‘অনুপম নাট্যগোষ্ঠী’ অংশগ্রহণ করে থাকে। এই সংগঠনের মহিলা অভিনেত্রী ভারতী মন্ডল, চাঁদপুরের নাট্য জগতে বিশেষ সুনামের সহিত অবদান রাখে। সকল নাট্য সংগঠনে তৎকালীন সময়ে চাঁদপুরের একমাত্র মহিলা অভিনেত্রী ভারতী মন্ডল অনুপম নাট্যগোষ্ঠী, সদস্য হওয়া সত্বে অন্যান্য নাট্যসংগঠনের নাটক তার প্রাণবন্ত অভিনয়ের দীপ্ত শিখায় প্রজ্জ্বলিত করে রাখে। কুমিল্লা নাট্য উৎসবে শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসাবে পুরস্কৃত হন।

 

চাঁদপুর থিয়েটার

 ‘চাঁদপুর থিয়েটার’ ১৯৮৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর চাঁদপুর থিয়েটার আত্মপ্রকাশ করে। এ প্রতিষ্ঠানটি ১৬টি নাটকের ৩৫টি প্রদর্শনী সম্পন্ন করেছে। প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য প্রয়াত সমর দে, প্রয়াত দেলোয়ার হোসেন, অধ্যাপক দুলাল দাস, খোরশেদ আলম, সফিকুর রহমান প্রমুখ। বর্তমানে এ প্রতিষ্ঠানের হাল ধরে রেখেছেন বিশিষ্ট সাংবাদিক বি.এম হান্নান, মোবারক সিকদার, মহিউদ্দিন দাদন, সুমন, চপল প্রমুখ। এদের উল্লেখযোগ্য নাটকগুলো হচ্ছে- ‘নুরুল দীনের সারাজীবন’, ‘বাসন’,‘ওরা আসবেই’ ‘এলেকশন ক্যারিকেচার’ ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’, ইদানিং তিনি ভদ্র লোক, চোর এবং মলিয়ের রচিত ‘দা মাইজার’ অবলম্বনে হাসির নাটক ‘কঞ্জুস’।

বর্ণমালা থিয়েটার

২০০৫ সালে ১৬ই ডিসেম্বর নাটক মঞ্চায়নের মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করে ‘বর্ণমালা’ থিয়েটার। সভাপতি ছিলেন আক্রাম খান, সাধারণ সম্পাদক লিটন ভূঁর্ইয়া। বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হচ্ছেন হাবিবুর রহমান হাবীব এবং সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম। এই প্রতিষ্ঠান জনাব লিটন ভূঁইয়া’র রচিত নিম্নলিখিত নাটকগুলি সাফল্যের সাথে মঞ্চস্থ করে। এ পর্যন্ত এ প্রতিষ্ঠানটি ৭টি নাটক তারা প্রায় ১৫ বার মঞ্চস্থ করেছে। এ প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা কর্ণধার জনাব লিটন ভূঁইয়া সফল নাট্যকার, নির্দেশক, উপস্থাপক এবং লেখক। তার রচিত নাটক ‘শেকড়’, ‘বিবর্ণ বিন্দুর বিপরীতে’, ‘গ্রন্থিক (শেক্সপিয়ারের হ্যামলেট অবলম্বনে), ‘দ্যা ট্র্যাপ’, ‘একাত্তরের দিনলিপি’, ‘অগ্নিপুরুষ’, ‘পরী বানু’, ‘স্মৃতিঘর’, ইতিমধ্যেই ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ায় প্রদর্শিত হয়েছে। এমটিভি’তে ধারাবাহিক ২৬ পর্বের ধারাবাহিক নাটক ‘আগন্তুক’ প্রচারিত হবে শীঘ্রই। এছাড়া অসহায় হিজড়াদের নিয়ে লিখিত নাটক ‘অজ্ঞাতবাস’ এবং ‘উপেক্ষিতা মন্দাকিনী’ এই ডিসেম্বরেই ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ায় প্রদর্শিত হবে। স্বাধীনতার পরে নাট্যক্ষেত্রে আরও অবদান রেখেছেন মোহাম্মদ আলী (প্রয়াত), ভারতী পাল, শম্ভু আচার্য, বঙ্কিম নন্দী, রণজিত দাস, শ্রীমন্ত সরকার, জসিম উদ্দিন খান বাবুল প্রমুখ।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরই চাঁদপুরে নতুন বাজারে নগেন্দ্র চন্দ্র দে সরকারের উদ্যোগে আর একটা শৌখিন নাট্যগোষ্ঠী গড়ে ওঠে। এঁরা অনেক নাটক করেছেন। নগেন বাবু সবার কাছে ‘‘নগাদা’’ বলে সুপরিচিত ছিলেন। তিনি শিল্পীদের চমৎকার রূপসজ্জা দিতেন। তিনি ‘আলীবর্দি’ নামক নাটকে নাম ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে অশেষ প্রশংসা কুঁড়িয়েছেন। এখনও তাঁর সমকালীন-নাট্যামোদীদের মনে তাঁর সেই অভিনয় ভাস্বর হয়ে আছে। এই সময় থেকে নগাদার দীর্ঘ জীবনের নাট্য আন্দোলনের মিছিলে যাঁরা যোগ দিয়েছিলেন, তাঁরা হলেন,- অনিল ঘোষ, এলবার্ট ডেনিয়েল (তাঁর একটি হাত ছিল না), জীতেন শীল (ক্যাশিয়ার- জার্ডিন এন্ড স্কীনার কোম্পানী), রবি ঘোষ, হিমাংশু চক্রবর্ত্তী ও পশুপতি শীল। চাঁদপুর থেকে প্রকাশিত ‘নববঙ্গ’ পত্রিকার সম্পাদক হরেন্দ্রনাথ রায় চৌধুরী ছিলেন এই নাট্য দলের প্রধান পৃষ্ঠপোষক। নগাদা শুধু যে একজন দক্ষ অভিনেতা ছিলেন তা নয়, তিনি একজন বিশিষ্ট সমাজকর্মীও ছিলেন। শেষ বয়সে তিনি অভিনয় করতেন না, বিভিন্ন স্থানে নাটক পরিচালনা করতেন। ১৯৭০ সালে ডাব্লিউ রহমান জুট মিলে একটি নাটক পরিচালনা করতে গিয়ে রিহার্সেল রুমে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি ইহলোক ত্যাগ করেন। তিনি ছিলেন চিরকুমার।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর চাঁদপুরে নাট্য আন্দোলনে যাঁকে কেন্দ্র করে এক নব-যুগের সূত্রপাত হয়, তিনি হলেন চাঁদপুর বারের একজন মোক্তার- কানু মহলানবীশ। এই কালু মহলানবীশ ও নগাদা কুমিল্লা এসেও ভার্নালের হয়ে অনেক নাটক করেছেন। এই মহলানবীশের আমলেই চাঁদপুরে পৌরাণিক ও ঐতিহাসিক নাটকের পরিবর্তে সামাজিক ও রহস্যঘন নাটক জনপ্রিয় হয়ে উঠে। কালু বাবু ‘টকি অব টকিজে’র বঙ্গানুবাদ ‘রীতিমত নাটকে’ দিগম্বরের ভূমিকায় অভিনয় করে তাঁর প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন।

এই সময়ে নগেশচন্দ্র চক্রবর্ত্তী নামে একজন কৌতুক অভিনেতা চাঁদপুরের নাট্যাকাশে এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের মত আবির্ভূত হন।  নগেশ চক্রবর্ত্তী ও গিরিশ ঘোষ রচিত ‘ভ্রমর’ নাটকে উড়ে চাকরের ভূমিকায় অভিনয় করে দর্শকদের প্রচুর আনন্দ দানে সমর্থ হন। তিনি ‘লালপাঞ্জা’ নাটকে অভিনয় করে সোনার মেডেল পেয়েছিলেন। ‘লালপাঞ্জা’ বইতে অভিনয় করে বেলুলাল দে নামে আরেকজন অভিনেতাও দক্ষতার পরিচয় দিয়ে রৌপ্য পদক লাভ করেছিলেন। মণীন্দ্র মন্ডল নামে আরেকজন নারী চরিত্রে অভিনয় করতেন। এই অভিনেতা তাঁর অদ্ভুত সুন্দর নারী কণ্ঠে দর্শকদের মুগ্ধ করে রাখতেন। চাঁদপুরের একজন প্রাচীন নাট্যামোদীর ভাষায়- ‘‘মেয়েরাও তাঁর সামনে দাঁড়াতো পারতো না’’। ‘বঙ্গেবর্গী’ নাটকে তিনি মাধুরীর ভূমিকায় অশেষ দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। অবসরপ্রাপ্ত সাব-রেজিস্ট্রার শরফুদ্দিন সাহেবও একজন খ্যাতিমান অভিনেতা ছিলেন। তিনি চাঁদপুরে শাজাহানের ভূমিকায় অভিনয় করে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন।

এঁরা যখন যশের উচ্চশিখরে, তখনও চাঁদপুরে কোন টাউন হল ছিলো না। ১৯৪০ সনে চাঁদপুর মহকুমা প্রশাসক এস.কে. দেহলভী, আই.সি.এস এর প্রচেষ্টায় চাঁদপুর মিলনায়তন (টাউন হল) ও রঙ্গমঞ্চ তৈরি হয়। কিন্তু তখন সে মঞ্চে দর্শকদের আসনের কোন বন্দোবস্ত ছিলো না। তখন থেকে বহুগোষ্ঠী ঐ মঞ্চে অনেক বই মঞ্চস্থ করেছেন। দেশ বিভাগের পর বহু শিল্পী দেশ ছেড়ে চলে যাওয়ায় নাটক মঞ্চস্থ হওয়া বিরল হয়ে উঠে। অনেক নাট্যগোষ্ঠীর অস্তিত্বও লোপ পায়। ১৯৭১ সালের পরে প্রথম অবস্থায় চাঁদপুরে নাটক  করে এমন অনেক সংগঠনই জন্ম নিয়েছে। ‘চতুরঙ্গা’, ‘সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী’, ‘নিউ ড্রীমস থিয়েটার’, ‘নটরাজ প্রডাকশন্স’, ‘ঈগল ক্লাব’, ‘মিতালী ক্লাব’, ‘বহুরূপী নাট্যগোষ্ঠী’, ‘পুরাণবাজার শিল্পী তীর্থ নাট্যগোষ্ঠী’, ‘হরিবোলা সমিতি’, ‘আমরা ক’জনা’, ‘টাউন হল কর্তৃপক্ষসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান জন্ম নিলেও এঁদের অনেকই দু’একটা নাটক করে নাট্যাঙ্গন থেকে বিদায় নিয়েছেন। বর্তমানে টাউন হলের স্থলে বহুতল ভবনের নির্মাণ কাজ চলছে।

বর্তমানে সেখানে রয়েছে ‘বর্ণচোরা নাট্যগোষ্ঠী’, ‘অনন্যা নাট্যগোষ্ঠী’, ‘মিতালী নাট্যগোষ্ঠী’, ‘‘ঈগল ক্লাব নাট্যশাখা’। মিতালী নাট্যগোষ্ঠী তাঁদের নবম অবদান ‘ওয়াগন ব্রেকার’ অভিনয় করেই স্তিমিত হয়ে গেছেন। ঈগল ক্লাব নাট্য শাখা বই করেছেন, ‘ভাড়াটে চাই’, ‘যাদুর কাঠি’, ‘বৌদির বিয়ে’, নাট্য সম্পাদক জয়নাল আবেদীন রচিত ‘মাধব বাবুর তানপুরা’ ও ‘এবার দেখা দাও’। ১৯৭৭ সনে এঁরা ‘বৌদির বিয়ে’ মঞ্চস্থ করে মহকুমাভিত্তিক প্রতিযোগিতায় তৃতীয় পুরস্কার লাভ করেন। এরপর আর এঁদের নাম শুনা যায় না। ঈগল ক্লাবের সভাপতি ছিলেন আক্রাম খান ও সাধারণ সম্পাদক ছিলেন আশুতোষ রায়।

শেষোক্ত চার গোষ্ঠীর মধ্যে ‘বর্ণচোরা’ ও ‘অনন্যা নাট্যগোষ্ঠী’ নিয়মিত নাটক করে চলেছেন। বর্ণচোরা নাট্যগোষ্ঠীর জন্ম তারিখ- ১৭ই অক্টোবর, ১৯৭৪ সাল। উদ্যোক্তাবৃন্দঃ জনাব আক্রাম খান, বাবু অমল কুমার চক্রবর্ত্তী, স্বপন সেনগুপ্ত, সুরেশ দাস, পার্থসারথী, হাশেম প্রধানিয়া, গোলাম কাদের মিলন, রানু আহমেদ ও মনিরুল ইসলাম হুমায়ুন। এঁদের সভাপতিঃ অমল কুমার চক্রবর্ত্তী ও সাধারণ সম্পাদকঃ মোহসিন কায়েস। বিগত ২০/১০/৭৯ সন পর্যন্ত এঁদের মঞ্চস্থ নাটকের সংখ্যা ১৬টি ও প্রদর্শনী সংখ্যা ২৬টি।

নাটক, নাট্যকারের নাম, প্রথম ও শেষ মঞ্চায়নের তারিখঃ

১। ‘পাপ-মৃত্যু’, রচনায়- আক্রাম খান। দু’টি প্রদর্শনী- ১৭,১৮ অক্টোবর, ১৯৭৪, টাউন হল মঞ্চ, চাঁদপুর।

২। ‘জবানবন্দী’- রচনায় মোঃ আলাউদ্দিন। ১টি প্রদর্শনী- ৩/১২/১৯৭৪, টাউন হল মঞ্চ, চাঁদপুর।

৩। ‘ভাড়াটে চাই’- রচনায় সুবোধ সরকার, ২টি প্রদর্শনী- ১১,১২ই মার্চ, ১৯৭৫, টাউন হল মঞ্চ, চাঁদপুর।

৪। ‘দুই ভাই’- রচনায়- মোঃ আলাউদ্দিন। ১টি প্রদর্শনী- ২১/৫/৭৫, টাউন হল মঞ্চ, চাঁদপুর।

৫। ‘সাগর সেঁচা মাণিক’- রচনায় কল্যাণ মিত্র। ১টি প্রদর্শনী- ১৮/০৭/৭৫, টাউন হল মঞ্চ, চাঁদপুর।

৬। ‘শেষ কোথায়’,- রচনায় মোঃ হানিফ। ২টি প্রদর্শনী- ১৭,১৮ইং অক্টোবর, ১৯৭৫, টাউন হল মঞ্চ, চাঁদপুর।

৭। ‘আজকাল’,- রচনায় ভানু চট্টোপাধ্যায়। ২টি প্রদর্শনী- ৩,৪ অক্টোবর, ১৯৭৫ ও ১৭ইং জুন, ১৯৭৭, টাউন হল মঞ্চ, চাঁদপুর।

৮। ‘এসো দেশ গড়ি’- রচনায় আক্রাম খান। ২টি প্রদর্শনী- ১৫, ১৬ জুলাই, ১৯৭৬, মেহার পহ্চগ্রাম নাট্যমঞ্চে।

৯। ‘নরকের দরজা ভেঙ্গে’- রচনায় অনল গুপ্ত। ২টি প্রদর্শনী- ২১, ২২ শে আগস্ট, ১৯৭৬ টাউন হল রঙ্গমঞ্চ, চাঁদপুর।

১০। ‘জীবন রঙ্গ’- রচনায় শৈলেন গুহ নিয়োগী। ২টি প্রদর্শনী- একটি ১৭/১০/৭৭ এবং অপরটি ২২/৪/৭৯। টাউন হল মঞ্চ, চাঁদপুর।

১১। ‘বেকারের জ্বালা’ রচনায় অনল গুপ্ত। ১টি প্রদর্শনী- ১৫/৯/৭৭, রেলওয়ে ক্লাব মঞ্চ, চাঁদপুর।

১২। ‘বৌদির বিয়ে’- রচনায় শৈলেন গুহ নিয়োগী। ২টি প্রদর্শনী- একটি ১৭/১০/৭৭ এবং অপরটি ২২/৪/৭৯ টাউন হল রঙ্গমঞ্চ, চাঁদপুর।

১৩। ‘ভোরের মিছিল’- রচনায় রতনকুমার ঘোষ। ১টি প্রদর্শনী- ২১/৯/৭৮। টাউন হল মঞ্চ, চাঁদপুর।

১৪। ‘বিশ্বত্রাতা শ্রীরামকৃষ্ণ’- রচনায় প্রবোধ সরকার। ৩টি প্রদর্শনী- ১৭ ও ১৮ অক্টোবর, ১৯৭৮। আশ্রম মাঠ এবং ২৫/১১/৭৮, কালী বাড়ী, চাঁদপুর।

১৫। ‘চোরচোর’- রচনায় মোহম্মদ আলাউদ্দিন। ১টি প্রদর্শনী- ২২/৪/৭৯ টাউন হল মঞ্চ, চাঁদপুর।

১৬। ‘আপট্রেন’- রচনায়- মোহাম্মদ আলাউদ্দিন। ১টি প্রদর্শনী ২৫/৮/৭৯। টাউন হল মঞ্চ, চাঁদপুর।

কুমিল্লা জেলা শিল্পকলা পরিষদের ব্যবস্থাপনায় বর্ণচোরা গোষ্ঠী কুমিল্লা টাউন হলে ১৬/১১/৭৯ তারিখে ‘চোরচোর’ সাফল্যের সাথে মঞ্চস্থ করেন। রীনার ভূমিকায় মিসেস ভারতী মন্ডল সুন্দর অভিনয় করেছিলেন। নাট্য নির্দেশনায় ছিলেন ননীগোপাল দে।

গোষ্ঠীর উপদেষ্টাবৃন্দঃ জীবন কানাই চক্রবর্তী, ননীগোপাল দে (বি.এস.সি; বি.এড), অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার (তৎকালীন বাংলা বিভাগ প্রধান, চাঁদপুর কলেজ), বাবু মৃণালকান্তি সাহা (ব্যবসায়ী)। বর্ণচোরা নাট্যগোষ্ঠী ১৯৭৭ সালে চাঁদপুর মহকুমাভিত্তিক নাট্য প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করেছিলেন।

স্বনির্ভর আন্দোলনে ১৯৭৬ সনে মেহের পঞ্চগ্রাম ও শাহাতলী হামানকরদী গ্রামে স্বনির্ভরের উপর নাটক মঞ্চায়ন করেন।

এঁদের নিয়মিত অভিনেতা (১৯৮৭ সাল পর্যন্ত)ঃ ননী গোপাল দে, অমল  কুমার চক্রবর্তী, জনাব আক্রাম খান, মোহসিন কায়েস, জীবন কানাই চক্রবর্তী, মোহাম্মদ আলী, গৌতম রায়, মধুসূদন কর, রূপন কুমার পাল, শুকদেব রায়, জয়নাল আবেদীন, সোবাহান চুন্নু, মনিরুল ইসলাম হুমায়ুন, মোস্তফা কামাল বাবলু, মুজিবুর রহমান দুলাল, মাকসুদ হায়দার চৌধুরী, অজিত কুমার চন্দ, প্রণব চৌধুরী, ভারতী পাল, উমা পাল, অজন্তা চক্রবর্তী, গোধূলী, রিক্তা সেন গুপ্তা, মুজিবল হক, রাসেদ, চুন্নু ও মোঃ হানিফ।

এঁরা নাটকের প্রতি শিশুদের উৎসাহ বর্ধনার্থে ‘বর্ণচোরা শিশু নাট্যম’ নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। ‘বর্ণচোরা শিশু নাট্যমে’র জন্ম ২১শে মার্চ, ১৯৭৯ সাল। এঁদের শিল্পীঃ বাপ্পি কৃষ্ণ পাল, গোপাল, মাসুদ, রীনা, দিবা মুখার্জী, অলক রায়, শাসুদ্দিন, অরুণ, মুজিবুল হক, শাহজাদী বেগম ও শামীম। এরা মঞ্চস্থ করেছে ২টি নাটক। একটি ‘সোনার কাঠি রূপার কাঠি’; অপরটি ‘আপট্রেন’।

‘অনন্যা নাট্যগোষ্ঠী’ স্বাধীনতা উত্তরকালে ঝিমিয়ে পড়া নাট্যাঙ্গনকে সজীব করার ব্রত নিয়ে ৫/৬ তরুণ (মোহাম্মদ হানিফ, হরিপদ চন্দ্র, অজিত কুমার মুকুল, শাহ আলম, স্বপন ও সফিকুর রহমান) গড়ে তোলেন। এঁরা ১৯৭৫ সনে ১৭ ও ১৮ই অক্টোবর গোষ্ঠীর সদস্য মোহাম্মদ হানিফ রচিত ও পরিচালিত ‘শেষ কোথায়’ নাটকখানি বর্ণচোরা নাট্যগোষ্ঠীর ব্যানারে মঞ্চস্থ করেন। ১৯৭৫ এর ২৪শে অক্টোবর এঁদের প্রতিষ্ঠা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। তারপর থেকে তাঁরা নিয়মিত নাটক করে যাচ্ছেন।

এদের নাটক ও নাট্যকারের নাম ও মঞ্চস্থ করার তারিখঃ

১। ‘জীবন বৃত্ত পেরিয়ে’- রচনায় পরিপদ চন্দ্র (নিজস্ব নাট্যকার)। এটা তাদের প্রথম প্রযোজনা। অভিনীত হয়েছে- ৬, ৭, ৮ ও ৯ ডিসেম্বর, ১৯৭৫ টাউন হল মঞ্চে।

২। ‘অন্ধকারের নীচে সূর্য’,- রচনায় অগ্নিদূত। এটা তাদের দ্বিতীয় প্রযোজনা। মঞ্চস্থ হয়েছে ’৭৬ সনের ২৪, ২৫ ও ২৬ শে জানুয়ারীতে মোহাম্মদ হানিফের নির্দেশনায় শহর মিলনায়তনে। ’৭৬ এর ফেব্রুয়ারিতে নাটকটি চাঁদপুর প্রদর্শনী কমিটির অনুরোধে প্রদর্শনী মঞ্চে অভিনীত হয়। হানিফ শ্রেষ্ঠ নির্দেশক হিসাবে আশরাফ আহমেদ ও শাহ আলম শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসাবে পুরস্কৃত হন। এটা হলো তাদের তৃতীয় প্রযোজনা।

৩। ‘বিয়ের পেয়ালা’- রচনায় আলাউদ্দিন। এটা তাদের চতুর্থ প্রযোজনা। অভিনয়ঃ ২০ শে মার্চ, ১৯৭৬ সালে, টাউন হল মঞ্চে, চাঁদপুরে।

৪। ‘পোস্ট মাষ্টার’- রচনা মূল রবীন্দ্রনাথ, নাট্যরূপ- হরিপদ চন্দ্র। এটা এদের পঞ্চম প্রযোজনা। অভিনয় ২রা জুন, ১৯৭৬ টাউন হল মঞ্চে, চাঁদপুরে।

৫। ‘অবক্ষয়’ রচনা নিজস্ব নাট্যকার অজিত কুমার মুকুল। এটা হলো এদের ৬ষ্ঠ প্রযোজনা। মঞ্চস্থ হয় ১৯৭৭ সনের ৩রা জুন টাউন হল মঞ্চে, চাঁদপুরে।

৬। ‘প্রতিরোধ’- রচনা অজিত কুমার মুকুল। এটা তাদের সপ্তম প্রযোজনা। অভিনয়ঃ ৪ঠা জুন, ১৯৭৭, টাউন হল মঞ্চে, চাঁদপুরে।

৭। ‘এখানেই শেষ নয়’- রচনায় অজিত কুমার মুকুল। এটা হলো তাদের অষ্টম প্রযোজনা। অভিনয়ঃ ৫ই জুন, ১৯৭৭। এ নাটকে শ্রেষ্ঠ অভিনেতার পুরস্কার পান হরিপদ চন্দ্র।

৮। ১৯৭৭ এর ১০ই জুন টাউন হলে সাংস্কৃতিক মাস উপলক্ষে আয়োজিত নাট্য প্রতিযোগিতায় হরপদ চন্দ্র রচিত ও মোহাম্মদ হানিফ পরিচালিত ‘জীবন বৃত্ত পেরিয়ে’ নাটক পুনঃমঞ্চস্থ করে। এরা প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় পুরস্কার লাভ করে। এটা হলো তাঁদের নবম প্রযোজনা।

৯। ‘স্পার্টাকাস বিষয়ক’ জটিলতা ও ফলাফল নিমণচাপ’ - রচনায় মমতাজ উদ্দিন। এটা হলো তাঁদের দশম ও একাদশ প্রযোজনা। অভিনয়ঃ ১৫ ও ১৬ অক্টোবর, ১৯৭৭। মোঃ হানিফ ছিলেন নির্দেশক।

১০। ‘কি পেলাম’ রচনা নিজস্ব নাট্যকার শামসুদ্দিন আহম্মদ। এটা হলো তাঁদের দ্বাদশ প্রযোজনা। অভিনয়ঃ ১৭ ও ১৮ ডিসেম্বর, ১৯৭৭ সনে টাউন হল মঞ্চে, চাঁদপুরে। নির্দেশনায় ছিলেন মোঃ হানিফ।

১১। ‘সুবচন নির্বাসনে’- রচনা আবদুল্লাহ আল মামুন। এটা হলো তাদের ত্রয়োদশ প্রযোজনা। অভিনয়ঃ ১৯ ও ২০ ডিসেম্বর, ১৯৭৭ সনে টাউন হল মঞ্চে, চাঁদপুরে। পরিচালনায় ছিলেন মোঃ হানিফ।

১২। এদের চতুর্দশ প্রযোজনা- ১৭ই জানুয়ারি, ’৭৮ সনে ঢাকায় দ্বিতীয় জাতীয় নাট্যোৎসবে মঞ্চস্থ করেছে ‘সুবচন নির্বাসনে’। ঢাকার অভিনয়ে যারা ছিলেনঃ বাবাঃ রতন গাঙ্গুলী, খোকনঃ মোঃ হানিফ, তপনঃ সিদ্দিকু রহমান বাবুল, বন্ধুঃ সমর দে, বসঃ স্বপন নন্দী, কেরানীঃ গোলাম কাদের লিলন, বিচারকঃ সত্য চক্রবর্তী, ইনসপেক্টরঃ আনোয়ারুল কবীর, রানুঃ শিবানী সাহা। মঞ্চ পরিচালনায়ঃ অজিত কুমার মুকুল, মঞ্চ সজ্জায়ঃ সরজিত রায় ও কৃতান্ত রাউথ, শামসুদ্দিন আহাম্মদ, তপল পাল; যন্ত্র সঙ্গীতেঃ সুরজিত চক্রবর্তী, হর্ষ ওয়াস্তি, অজয় চক্রবর্তী, হারাধন সরকার; গান রচনায়ঃ হরিপদ চন্দ, সুর সংযোজনায়ঃ শীতল ঘোষাল; আলোকেঃ রফিকুল হোসেন বাচ্চু, পরিচালনায়ঃ মোঃ হানিফ।

১৩। ‘এবার ধরা দাও’- রচনা- আবদুল্লাহ আল মামুন। এটা হলো তাদের পঞ্চদশ প্রযোজনা। অভিনয়ঃ ৬ ও ৭ আগস্ট ১৯৭৮ সালে চাঁদপুর টাউন হল (অধুনা লুপ্ত) মঞ্চে।

১৪। এঁদের ষোড়শ প্রযোজনা পূর্বোক্ত বই। অভিনয় ২৬ ও ২৭ নভেম্বর, ১৯৭৮ সনে, চাঁদপুর টাউন হল (অধুনা লুপ্ত) মঞ্চে।

১৫। এঁদের সপ্তদশ প্রযোজনা ছিলো রাধারমন ঘোষ রচিত ‘বিবর্ণ বিস্ময়’। মঞ্চস্থ হয়েছে ২৯শে মে, ১৯৭৯ সালে। এঁদের অষ্টাদশ প্রযোজনা হলো কিরণ মৈত্র রচিত ‘আলোয় কালোয়’। অভিনীত হয়েছে ২৯ শে মে ১৯৭৯ সালে। এদের মোট নাটক ১৪টি, প্রদর্শনী ২৭টি, প্রযোজনা ১৮টি।

গোষ্ঠীর নিয়মিত অভিনেতা-অভিনেত্রীবৃন্দঃ আবুল হোসেন, আশরাফ আহমেদ, শাহ আলম স্বপন, রতন গাঙ্গুলী, ফরহাদ এমদাদী, আহমেদ বাবলু, সমর দে, সত্য চক্রবর্তী, মোঃ হানিফ, হরপদ চন্দ, শামসুদ্দিন আহমেদ, অজিত কুমার মুকুল, এম.এ. জামান খোকন, শহীদ পাটওয়ারী, হারুন আল রশিদ, বি.এম হারুন, বাণী পাল, সফিকুর রহমান, সানাউল্লাহ খান, আনোয়ার, হাবিবুর রহমান, গোলাম কাদের মিলন প্রমূখ। প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্যঃ সমর দে, হরিপদ চন্দ, মোহাম্মদ হানিফ, অজিত কুমার মুকুল।

চাঁদপুর মহকুমার জনাব ফয়েজউদ্দিন মজুমদার এখন ঢাকায় চাকুরীতে নিযুক্ত আছেন এবং ঢাকাতেই সপরিবারে বসবাস করছেন। তিনি পরপর পাঁচখানি নাটক লিখেছেন। নাটকগুলি হলো- ‘আত্মপরিচয়’, ‘গড়মিল’, ‘দৃষ্টিকোণ’, ‘বাণের টানে’, ‘শ্রীমন্ত খাঁ’,। এই বইগুলি কোথাও কোথাও মঞ্চস্থ হয়েছে বলে জানা যায়। তবে বইগুলিতে নাট্য বৈভবের অভাব পরিলক্ষিত হওয়ায় নাট্য সাহিত্যে স্থায়ী স্থান করে নিতে পারেনি। তবে এ নাট্যকারের নাটক রচনায় আগ্রহাতিশয়তা প্রশংসনীয়।

 

মেঘনা থিয়েটার

প্রতিষ্ঠাকালঃ১লা সেপ্টেম্বর ২০০৮ইং

প্রতিষ্ঠাতাদের নামঃডাক্তার মোঃ হারুন অর রশিদ, মোঃ তবিবুর রহমান (রিংকু), মোঃ রুমান মিয়া, মোঃ আলী আক্কাস মাল, বি.এম. সফিকুর রহমান, মোঃ মাসুম প্রধানিয়া, আমিনুজ্জামান খান (বাপ্পী), মোঃ সামছুজ্জামান রেশমা আক্তার (রিমি)।

বর্তমান সদস্য সংখ্যাঃ ৭৫ জন

মোট প্রযোজনাঃ ৩টি

প্রদর্শনী সংখ্যাঃ ১২টি

বর্তমান সভাপতিঃ মোঃ তবিবুর রহমান (রিংকু), (২০১১-২০১৩)

বর্তমান সাধারণ সম্পাদকঃ বি.এম. সফিকুর রহমান (২০১১-২০১৩)

উল্লেখযোগ্য নাটক ঃ(১) ‘স্বাধীনতার সূর্য’; (২) ‘স্মাগলার’; (৩) ‘অন্য মানুষ’

চাঁদপুরে মুক্তিযুদ্ধর বিজয় মেলা মঞ্চে প্রদর্শিত নাটকঃ (১) ‘স্বাধীনতার সূর্য’, রচনায় এস.বি. গুপ্ত; (২) ‘স্মাগলার’, রচনায় শ্রী হীরেন্দ্র কৃষ্ণ দাস; (৩) ‘অন্য মানুষ’, রচনায় এস.এম. জয়নাল আবেদীন

মেঘনা থিয়েটারের বিশেষ উল্লেখযোগ্য অনুষ্ঠানঃবাংলা বর্ষবরণ উপলক্ষে ১৪১৮ সনে বর্ণাঢ্য র‌্যালী, আলোচনা সভা ও দেশাত্মবোধক গানের অনুষ্ঠান। এছাড়া মেঘনা থিয়েটার প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারি, ২৬ মার্চ, ১৬ ডিসেম্বর সহ জাতীয় দিবসগুলো যথাযথ সম্মানের সহিত পালন করে থাকে।

মেঘনা থিয়েটার ৪র্থ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে ২০১০ সালে এস.এস.সি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ছাত্রছাত্রীদের সংবর্ধনা প্রদান করে। ৫ম বর্ষ প্রদার্পণে মেঘনা থিয়েটার গুণীজন সংবর্ধনা, স্কুল ভিত্তিক কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠান সম্পন্ন করে এবং এ উপলক্ষে স্মরণিকা ‘ঢেউ ছন্দ’ প্রকাশিত করে।

শিশু থিয়েটার

 

‘‘এসো সম্প্রীতির বন্ধন গড়ি’’ এ বাণীকে সামনে রেখেই আমাদের পথচলা। কোমল মতি শিশুদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ সাধনের জন্যেই এই শিশু থিয়েটারের আত্মপ্রকাশ। যদিও সংগঠনিক স্থাপিত হয়েছিল ১৯৯৮ সালে। মহান মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার মঞ্চে প্রথম প্রযোজনা ‘বাংলা বাসি ভালো’ নাটকটি মঞ্চায়নের মাধ্যমে শুরু হয় এই প্রতিষ্ঠানের পদযাত্রা। এ পর্যন্ত এ প্রতিষ্ঠানটি ১৪টি নাটকের ৪৭টি মঞ্চায়ন করেছে। এর মধ্যে ২১টি পথনাটকের মঞ্চায়ন করে। উল্লেখযোগ্য নাটকগুলো হচ্ছে ‘বাংলা বাসি ভালো’, ‘পেনশন’, ‘ব্যারিকে চারদিক’। শিশুদের নিয়ে নাটক মঞ্চায়ানের পাশাপাশি এ প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করছে। শীত বস্ত্র বিতরণ, বৃক্ষরোপণ, দরিদ্র শিশুদের মাঝে বিনা লেখাপড়ার খরচ আমরা শিশু থিয়েটার এর অভিভাবকরা গ্রহণ করেছে। ‘শিশু থিয়েটার’ একুশ সুবর্ণ জয়ন্তী ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০০২ উপলক্ষে নিজস্ব প্রযোজনায় ‘লেখাপড়া’ নাটক মঞ্চস্থ করে। শিশুদের শ্রেষ্ঠ প্রযোজনা হিসাবে ‘একুশের’ সনদ লাভ করে। ২০০২ সালে পঞ্চম জাতীয় শিশু কিশোর নাট্য উৎসবে অংশগ্রহণ করে।

শিশুদের নিয়ে এ নাট্য সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক পি.এম. বিল্লাল হোসাইন।

 

‘স্বরলিপি নাট্য দল’

‘এসো সবাই শপথ করি, নাটকের মাধ্যমে স্বদেশ গড়ি’। এই স্লোগান নিয়ে ২০১১ সালে চাঁদপুরে আত্মপ্রকাশ করে স্বরলিপি নাট্যদল। তারা ‘সন্দেহ’ নামক নাটকটি জেলা শিল্পকলা একাডেমীতে মঞ্চস্থ করে। চাঁদপুরে ২০১১ সালের বিজয় মেলা মঞ্চে তারা মঞ্চস্থ করে জসীম মেহেদী লিখিত নাটক ‘একাত্তরের তারামন’।

 কবিগান

শিক্ষা ও সংস্কৃতির সুশমামন্ডিত উদ্যানে কবিগান মহকুমার এক অতি প্রাচীন ঐতিহ্যসম্পন্ন সম্পদ। কবিগানের জমজমাট আসর কবিয়ালদের রসালো ছন্দোবদ্ধ সুরেলা আবেশ মন্ত্রমুগ্ধ করতো কবিগানের শ্রোতামন্ডলীকে। কবিয়াল মণি জয়চন্দ্র মজুমদার বিখ্যাত কবিয়াল হরি আচার্যেরও বহু পূর্বে কবিগানের সুসংগঠিত দল গঠন করেছিলেন এই মহকুমাতেই তাঁরই পদাঙ্ক অনুসরণ করে পরবর্তীকালে যাঁরা কবিগানের আসরকে সমৃদ্ধ করার কাজে সর্বশক্তি নিয়োগ করে লোকান্তরিত হয়েও সার্থকতার ঔজ্জ্বল্যে অদ্যাবধি ভাস্বর হয়ে আছেন, তাঁরা হলে হরকুমার শীল, প্যারীমোহন আচার্য, জগবন্ধু দত্ত, কালী কুমার ও চন্দ্র কুমার। এঁদেরই সার্থক উত্তরসূরী ছিলেন কবিয়াল কালশশী চক্রবর্তী।

 সাহিত্য ও সাংবাদিকতা

সাহিত্য, শিল্প ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে কুসংস্কারের প্রায়ান্ধকার যুগে পশ্চাৎপদ ধ্যানধারণার বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ হয়ে লেখনী হাতে তুলে নিয়েছিলেন মহকুমার সূর্যসন্তান নাসির উদ্দিন সাহেব। তাঁরই প্রচেষ্টায় কুসংস্কারাচ্ছন্ন সমাজ ভেঙ্গে নতুন সমাজ গড়ার মহান ব্রতে ব্রতী হয়ে আত্মপ্রকাশ করেছিল ‘সওগাত’ সাহিত্য সাময়িকী। ‘দৃষ্টিপাতের’ লেখক যাযাবর, ‘বইয়ের বদলে’ ও ‘গীতে উপেক্ষিতা’ প্রভৃতি বই-র লেখক নিরঞ্জন ওরফে রঞ্জন, বিখ্যাত সাহিত্যিক আশুতোষ চক্রবর্তী, অসংখ্য আধ্যাত্মিক সঙ্গীত ও ধর্মীয় সাহিত্য পুস্তকের রচয়িতা স্বামী স্বরূপানন্দ, শান্তি নিকেতনের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠালগ্নে কবিগুরু সহযোগী শিল্পী সাহিত্যিক কালীমোহন ঘোষ, বিশ্ব ভারতীর এক সময়ের সহঅধ্যক্ষ বিশিষ্ট পন্ডিত বহু গ্রন্থ প্রণেতা হীরেন দত্ত, বিশিষ্ট সাহিত্যিক সাংবাদিক ভারত সাময়িকীর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক কেদার ঘোষ, সাহিত্যিক সাংবাদিক শান্তিবর্ধন, ভারতের প্রথিতযশা সাহিত্যিক সাংবাদিক সাগরময় ঘোষ, প্রাবন্ধিকা শৈলদেবী।

ড. বোরহান উদ্দীন খান জাহাঙ্গীরের উপর সংক্ষিপ্ত হলেও কিছু আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। তিনি একজন বিগদ্ধ ও মননশীল প্রবন্ধ শিল্পী। শিল্প, সাহিত্য, সমাজ ও রাজনীতির উপর তিনি প্রবন্ধ রচনা করেছেন, এবং এগুলি সংকলিত হয়েছে ‘স্বদেশ ও সাহিত্যে’, ‘শ্রাবণে আশ্বিনে’ গ্রন্থে।

তাঁর অন্যতম প্রিয় আলোচ্য বিষয় শিল্পকলা। দেশী-বিদেশী শিল্পকলা নিয়ে তিনি মূল্যবান আলোচনা করেছেন।

তাঁর প্রবন্ধের ভাষা আপন স্বাতন্ত্রে উজ্জ্বল- ইংরেজীতে যাকে বলা হয় ‘Style is the man himself’. এ ভাষা বৈদগ্ধপূর্ণ অথচ দীপ্ত ও স্বচ্ছ।

তিনি ১৯৩৬ খ্রীষ্টাব্দে কচুয়া থানার অন্তর্গত গুলবাহার গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। কিছুদিন তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করেন। তাঁর রচিত গ্রন্থঃ ‘অবিচ্ছিন্ন’ (১৯৬০), ‘দূর-দুরান্ত’ (১৯৬৮), ‘কণ্ঠস্বর’ (১৩৭৪ বঙ্গাব্দ) ও ‘স্বদেশ ও সাহিত্য’ (১৩৭৬ বঙ্গাব্দ), ‘বিশাল ক্রোধ’ (গল্প সংকলন), অভিনব উপন্যাসঃ ‘সর্বনাশ চতুর্দিকে’; সম্পাদিত গ্রন্থঃ বাউল গান ও দুদ্দুশাহ (১৩৭১ বঙ্গাব্দ), অনূদিত গ্রন্থঃ টেয়েল জেমস উলফ (লিয়ারি লুইসের ‘মার্ক টোয়েন, হেনরী জেমস, টমাস উলফ’ গ্রন্থের অনুবাদ (১৯৬৬), মানব প্রেমিক চিকিৎসকদের কাহিনী (বালফ নেভিং হিল রচিত ‘দি ডক্টরস কনকার্ড ইয়েলো ফিডার’ গ্রন্থের অনুবাদ, হেমিংওয়ে ফ্রস ফকনার ও রবাট ফ্রস্ট (১৩৬৯ বঙ্গাব্দ)।

মনস্তত্ত্ব বিশ্লেষণে তিনি একজন দক্ষ কথাশিল্পী। তার শ্রেষ্ঠ গল্পগ্রন্থ ‘মুন্ডহীন মহারাজ’।

এতদব্যতীত মাগন ঠাকুর, বুদ্ধদেব বসু, চারু চট্টেপাধ্যায়, বিপ্লবী কবি গায়ক মুকুন্দ দাস, কবি গায়ক সঙ্গীত রচয়িতা অতুল প্রসাদ সেন প্রমুখ মনীষীদের জীবনের এক উল্লেখযোগ্য কাল কেটেছে এই জেলারই আলোবাতাসে। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম, পল্লী কবি জসীম উদ্দিনসহ বিখ্যাত কবি-সাহিত্যিকগণের শুভাগমন চাঁদপুরের সাহিত্যসেবীদেরকে দিয়েছে অপুরন্ত প্রেরণা। উপরোক্ত লেখকদেরও পূর্বে যে খ্যাতিমান কবি-লেখকরা আমাদের জেলাকে সমৃদ্ধ করেছেন তাদের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন কবি দোনা গাজী। কবি দোনা গাজী এ জেলারই সন্তান। কবি দোনা গাজীর ‘সয়ফুল মুলুক ও বদিউজ্জামাল’ কাহিনী আরবী ‘আলেফ লায়লা’র উপাখ্যান অবলম্বনে রচিত। এটা একটি রোমাঞ্চকর প্রণয়োপাখ্যান।

মিশররাজ হজরত সুলায়মানের নিকট হইতে কয়েকটি উপহার পাইয়াছিলেন। মিশররাজের পুত্র সয়ফুল মুলুকের বয়স যখন চৌদ্দ বৎসর পূর্ণ হল, তখন মিশররাজ পুত্রকে উক্ত উপহারের একটি অর্থাৎ কাবাই দান করেছিলেন। সয়ফুল মুলুক ঐ কাবাতেই একটি পরমা সুন্দরী কন্যার ছবি দেখিয়া প্রণয়াসক্ত হইলেন। বহুদেশ ভ্রমণ ও অনেক দুঃখ-কষ্ট ভোগের পর সয়ফুল মুলুক সুন্দরী কন্যা বদিউজ্জামালের দর্শন পেয়েছিলেন এবং উভয়ের মিলন হয়েছিল।

মরহুম আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদ সংগ্রহ ও আমার সংগ্রহের কলমী পুঁথিগুলি আলোচনা করে ড. আহমদ শরীফ ‘সয়ফুল মুলুক-বদিউজ্জামাল’ সম্পাদনা করেছেন। সয়ফুল মুলুক-বদিউজ্জামালের পুঁথিতে দোনা গাজী ও বিরাহিমের ভণিতা পাওয়া যায়। ড. শরীফ দোনাগাজীকে মূল রচয়িতা ও বিরাহিমকে গায়ক প্রতিপন্ন করেছেন। দোনাগাজীর বাড়ী ছিল দোল্লাই পরগণায়, কচুয়া থানার উজানিগরে। তাঁহার বংশধরগণ বর্তমানে চাঁদপুর জেলার সোসাইর দ্বীপে বাস করেছেন বলে জানা যায়।

ড. মুহম্মদ এনামুল হক সাহেব তাঁহার মুসলিম বাংলা সাহিত্যের ৮২-৮৬ পৃষ্ঠায় (২য় সংস্করণ) দোনাগাজীর সময় সম্বন্ধে লিখেছেন, ‘‘আমাদের ধারণা কবি দোনাগজী ষোড়শ শতাব্দীর মধ্যভাগে আবির্ভূত হয়েছিলেন। তাঁর ভাষার প্রকৃত ভাব, ছন্দের শিথিলতা, অন্ত্যানুপ্রাসের শৈথিল্য এবং প্রাচীন শব্দ প্রয়োগের বাহুল্য সমস্তই একসঙ্গে মিলে তাঁকে স্বাধীনতা যুগের মুসলিম কবিদের সমপর্যায়ভুক্ত করে তুলেছে।’’ ড. আহমদ শরীফ তাঁর সম্পাদিত ‘সয়ফুল মুলুক-বদিউজ্জামাল’ গ্রন্থের ৪২ পৃষ্ঠায় লিখেছেন, ‘‘ ....... তথ্যের পরিপ্রেক্ষিতে এমন কি দোনা গাজী ষোল শতকের কবি হওয়াও অসম্ভব নয়। কাজেই অস্বীকৃতির আশঙ্কা না করেই নির্দ্বিধায় বলতে পারি তিনি সতেরো শতকের গোড়ার দিক্কার কবি।’’ অতএব, দোনা গাজী ষোড়শ শতাব্দীর কবি হইতে শরীফ সাহেবেরও আপত্তি নাই। ড. আহমদ শরীফের সম্পাদনায় সয়ফুল মুলুক-বদিউজ্জামাল পুঁথিটি সাহিত্যে স্থান অধিকার করার উপযোগী হয়েছে। তাঁর জ্ঞানগর্ভ সম্পাদনার জন্য গ্রন্থটি পুঁথি সাহিত্য রসিকদের প্রশংসা লাভ করেছে।

মির্জা হোসেন আলীঃ

রামপ্রসাদের প্রায় সমসময়ে কুমিল্লায় আবির্ভূত হন সাধক কবি মীর্জা হুসেন আলী। তিনি চাঁদপুর মতলব (দ) উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নে বেড়ে উঠেছেন। এখানে তাঁর সুকৃতির অনেক নিদর্শন রয়েছে। তিনি একজন মরমী সাধক ছিলেন। তিনি তৎকালীন ত্রিপুরা জেলার অন্তর্গত বরদাখাত পরগণার থোল্লা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি কালীসাধকও ছিলেন। ডক্টর শ্রী কুমার সেনের ‘বাঙালা সাহিত্যের ইতিহাস’ প্রথম খন্ড দ্বিতীয় সংস্করণে তার লেখার বিস্তৃত বিবরণ রয়েছে।

এই জেলার কিংবদন্তি-জনশ্রুতির সৃষ্টিতে বহু কালপূর্ব থেকেই নিম্নে উদ্ধৃত বিষয়সমূহ বিশেষভাবে স্থান/নামসমূহ সক্রিয়ঃ ‘দেবপুর’, ভেলুয়া গাং, ‘গাজীর আইল’, ‘পাঁচথুবী’ ‘উজানীনগর’, ‘পাটনীর খাওয়া’, ‘দোনা গাজী’ ‘বেহুলার বাপের বাড়ি’, ‘বেহুলার পাটা’, ‘মনসা মুড়া’, ‘বেহুলার দীঘি’, ‘দরিয়া সওদাগর’, ‘ভাগন ও মাগন শাহ’, ‘মাসিমপুরের নীলকুঠি’, ‘শাহরাস্তি সর্বানন্দ’, ‘আনন্দ রাজার দীঘি’, ‘চাঁদ সওদাগর’, ‘সপ্তডিঙ্গার চর’- এগুলোর কয়েকটিকে অবলম্বন করে সৃষ্টি হয়েছে বহু পুঁথি। আমাদের মধ্যযুগীয় সাহিত্য ভান্ডারকে সমৃদ্ধ করার ক্ষেত্রে এই পুঁথিগুলো বিশেষ অবদান রেখেছে।

পন্ডিত ড. রাসমোহন চক্রবর্তীঃ

প্রাচ্য ভাষাসমূহ, ধর্মতত্ত্ব, দর্শন, ইতিহাস ও পুরাতত্ত্বে তাঁর পান্ডিত্যে তুলনাহীন। তাঁর অজস্র মূল্যবান প্রবন্ধ নানা পত্র পত্রিকায় ইতঃস্তত বিক্ষিপ্ত হয়ে রয়েছে। উল্লেখযোগ্য গ্রন্থঃ ‘বাংলায় বৌদ্ধ ধর্মের ক্রমবিবর্তনের ইতিহাস’, ‘অতীশ দীপঙ্কর শ্রী জ্ঞান’, ‘শ্রীশ্রী চন্ডীর পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা, টিকা। তিনি চাঁদপুর সদরের হরিণা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।

ধীরেন্দ্র চন্দ্র দত্তঃ ১৯০৩ সালে তিনি চাঁদপুরে জন্মগ্রহণ করেন। সাহিত্যক্ষেত্রে তাঁর ছদ্মনাম ইন্দ্রজিৎ। তার রচিত গ্রন্থঃ ‘বন্ধনহীন গ্রন্থি’ (১৯৩৫), ‘বধূ অমিতা’ (১৯৩৮), ‘প্রাণবন্যা’ (১৯৪৬), ‘ইন্দ্রজিতের কথা’ (১৯৪৯), ‘লেডি চাটার্লির লাভার’ (লরেন্সের মূল অনুবাদ), ‘তিন বন্ধু’ (মূল গ্রন্থ- থ্রি কমরেডস- এরিয়া মারিয়া রেমার্ক)

নতুন কবিতা গোষ্ঠীঃ এই গোষ্ঠীর অন্যতম প্রধান কবি আবদুর রশিদ খান ১৯২৭ সালে চাঁদপুর সদরের (বর্তমানে পৌরএলাকা) জাফরাবাদ গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। আশরাফ সিদ্দিকী ও আবদুর রশিদ খান সম্পাদিত ‘নতুন কবিতা’ সংকলন গ্রন্থ প্রকাশিত হয় ১৯৫০ সালে। বিভাগ পূর্ব কালে প্রকাশিত আবদুল কাদির সম্পাদিত ‘কাব্য মালঞ্চ’ এর পরেই এটিই আমাদের কবিদের প্রথম কাব্য সংকলন। আমাদের কাব্য সাহিত্যে যে কিছুটা নতুন চেতনার জন্ম হয়েছিল, কবিরা যে বক্তব্য প্রকাশের সাথে সাথে ভাষা, বাকরীতি ও ভঙ্গীতে নতুন তত্ত্ব আনতে সেসময়েই সচেষ্ট হয়েছিলেন তার পরিচয় রয়েছে এই সংকলনের অনেক কবিতায়। তাঁর প্রথম দিক্কার কবিতায় মেঘনাপাড়ের মানুষের জীবনযাত্রা এবং আশা আকাঙ্খার আবেগময় প্রকাশ ছিল। তার লেখায় ব্যাঙ্গ বিদ্রুপ ও সমালোচনামূলক মনোভঙ্গী প্রকাশ পায়। তিনি ‘ময়মনসিংহ’ গীতিকা’র সুবিখ্যাত ‘মহুয়া’ কাহিনী অবলম্বনে আধুনিক ভাষায় রচনা করেন ‘‘মহুয়া সনেট কাব্য’। তাঁর ‘‘দ্বৈপথের সীমানা’ কবিতা খুবই উল্লেখযোগ্য, বর্তমানে যে গ্রন্থটি খুবই দুষ্প্রাপ্য।

অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলামঃ

অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম চাঁদপুরের মতলব অঞ্চলের কৃতীসন্তান। তিনি নজরুল ইসলামের অন্যতম প্রধান গবেষক এবং খ্যাতনামা ভাষাতত্ত্ববিদ। তার রচিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থসমূহ হচ্ছেঃ ‘নজরুল জীবনী’, ‘নজরুল নির্দেশিকা’, ‘বীরের এ স্রোতধারা মাতার এ রক্তধারা’, ‘কাজী নজরুল ইসলাম- জীবন ও প্রতিভা’, ‘নজরুল গীতি সংকলন’ এবং ‘শহীদ মিনারের ইতিহাস’। এছাড়া বহু মূল্যবান গবেষণামূলক প্রবন্ধ বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে এবং আজও হচ্ছে। তার অগ্রজ প্রখ্যাত রবীন্দ্র সাধক শিল্পী শিক্ষক আতিকুল ইসলাম ছিলেন উপমহাদেশের বরেণ্য সংগীত ব্যক্তিত্ব। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সান্নিধ্যে তিনি রবীন্দ্র সংগীত এবং সংগীতের অন্যান্য শাখায় পারঙ্গমতা অর্জন করে শুদ্ধ সংগীত বিস্তারে বিশেষ অবদান রাখেন। তাঁর স্ত্রী একজন প্রথিতযশা রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী।

সিরাজ উদ্দিন আহমেদঃ

কবি ও প্রাবন্ধিক সিরাজ উদ্দিন আহমেদ চাঁদপুরের সুসন্তান। তাঁর প্রবন্ধ ও পুস্তকের নামঃ ‘সমাজ দর্পণ’ এবং কাব্য গ্রন্থের নাম- ‘আয়রে ভাই চাষী’।

মনোমোহন রায় চৌধুরীঃ তিনি বহু গণিত গ্রন্থের প্রণেতা ছিলেন।

অবনীমোহন চক্রবর্তীঃ

তিনি ছিলেন চাঁদপুরের একজন প্রখ্যাত কবি। তাঁর রচিত ‘নীল সবুজের প্রাণের দোলায়’ এবং ‘মধুপর্ণী’ অত্যন্ত উঁচুমানের কাব্যগ্রন্থ।

প্রখ্যাত কবি মমতা ঘোষ চাঁদপুরের প্রখ্যাত গবেষক ড. মনোমোহন রায় চৌধুরীর সহধর্মিনী। কবি সত্যেন্দ্র দাস দত্ত তার মাতুল। ‘শুভদৃষ্টি’, ‘মৌনমুখর’ গীতাংশুক তাঁর উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ।

প্রখ্যাত কবি চপলা বসুও চাঁদপুরের মেয়ে। তাঁর রচিত গ্রন্থঃ ‘পুষ্পাঞ্জলি’, ‘নৈবেদ্য’ ও ‘অর্ঘ্য’ অত্যন্ত উচ্চগুণ সম্পন্ন।

সুলতান মাহমুদঃ

তিনি একজন প্রখ্যাত লেখক ছিলেন। তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থঃ ‘ফুলের জলসায় নীরব কেন কবি’’।

এ.জেড.এম মোরশেদ ছিলেন বহু সুখপাঠ্য পুস্তক প্রণেতা।

ড. জীবেন্দ্র বিনোদ সিংহ রায়ের সাহিত্যে রামমোহন রায় থেকে রবীন্দ্রনাথ, আধুনিক বাংলা গীতি কবিতা, বাংলা সনেট, প্রমথ চৌধুরী সম্বন্ধে বহু সমালোচনামূলক গ্রন্থ রচনা করেন। তাঁরই অগ্রজ ড. দ্বিজেন্দ্র বিনোদ সিংহ রায় অনেক গুলো কলেজ পাঠ্যপুস্তক রচনা করেছিলেন।

মেজর রফিকুর ইসলাম বীর উত্তমঃ

 মহান মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার। তিনি মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক ইতিহাস সমৃদ্ধ গবেষণা গ্রন্থ রচনা করেন। তাঁর উল্লেখযোগ্য রচনাগ্রন্থ হচ্ছেঃ ‘লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে’ এবং ‘এ টেইল অব মিলিয়নস’।

চাঁদপুরের কলেজের প্রাক্তন অধ্যাপক হেলাল উদ্দিন আহমেদ রচনা করেন অনুবাদ গ্রন্থ ‘মহামানবের সাগর থেকে’।

চাঁদপুর কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ মতিউর রহমানও অনেক কলেজ পাঠ্যপুস্তক ও অনুবাদগ্রন্থ রচনা করেন।

চারণ কবি সামছুল হক মোল্লাঃ তিনি ছিলেন একজন প্রকৃত চারণ কবি এবং সংগ্রামী নেতা, গরীবের বন্ধু। তিনি অনেকগুলো গ্রন্থ রচনা করেন। ‘গরীবের কথা’ ১৯৪৫ সালে প্রকাশিত। পাক আমলে পাকিস্তানের অত্যাচারের বিরুদ্ধে তিনি ‘ফরিয়াদ’ ও ‘সময়ের ডাক’ নামে দু’খানি কাব্যগ্রন্থ রচনা করেন। স্বাধীনতার পরে রচনা করেন ‘ভুলবোনা’ এবং ‘দেশের মানুষ কাঁদে’। এছাড়া বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় তার অগ্নিঝরা কবিতা নিয়মিত প্রকাশিত হয়েছে।

স্বাধীনতার পরে কয়েকজন গীতিকার অনেকগুলো চমৎকার গান রচনা করেন। কবি লেখক গীতিকার ও সংস্কৃতি সংগঠক জনাব মোখলেসুর রহমান মুকুল রচিত প্রখ্যাত গানের প্রথম কলি হচ্ছে ‘এই বাংলায় এসেছিল দুর্জয় শপথের দিন’। হরিপদ চন্দ রচনা করেন ‘কেঁদোনা মা কেঁদোনা’, আনোয়ার আহমেদ ‘জন্মভূমি মাগো’, সমর মোদক রচনা করেন ‘নতুন শপথ নিয়ে আমরা’, ‘মনীষা চক্রবর্তী রচনা করেন ‘আমি একাত্তরের ষোলই ডিসেম্বর’, প্রফেসর সৈয়দ আবদুস সাত্তার রচনা করেন ‘ভুলি নাই ভুলবোনা’।

নিরঞ্জন মজুমদারঃ

তিনি ‘স্টেটসম্যান’ পত্রিকার সহযোগী সম্পাদক ছিলেন। তিনি রঞ্জন ছদ্মনামে ‘শীতে উপেক্ষিতা’ ও ‘বইয়ের বদলে’ গ্রন্থ রচনা করেন। তার উল্লেখযোগ্য উপন্যাস হচ্ছে ‘অনন্যা ও অসংলগ্ন’।

বিণয় ভূষণ মুখার্জী চাঁদপুর হাসান আলী জুবিলী হাই স্কুলের (বর্তমান হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়) ছাত্র ছিলেন। তিনি যাযাবর ছদ্মনামে রচনা করেন ‘যাযাবর’ নামে প্রখ্যাত গ্রন্থ।

১৯২৬ সনে কুমিল্লা যাওয়ার পথে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর পিতা ফণীভূষণ মুখার্জীর পাট কোম্পানীর বাংলোয় (ডাকাতিয়া নদীর দক্ষিণ পাড়ে) বিশ্রাম গ্রহণ করেন।

ড. রণেন্দ্র নাথ ঘোষ ছিলেন কোলকাতার প্রখ্যাত দন্ত চিকিৎসক। তিনি দন্ত্য চিকিৎসা বিষয়ক মাসিক পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।

ইলিয়াছ পারভেজ, ফেরদৌস মোবারক, মুহিবুল আহসান আলী মাঝি ও কিশোর কুমার সংকর সম্মিলিতভাবে অনিয়মিত সাহিত্য সাময়িকী প্রকাশ করেন।

শিশু সাহিত্যঃ ফখরুজ্জামান চৌধুরী জন্ম ১৯৪০। তিনি শিশুদের জন্য রচনা করেন অনেকগুলো অনুবাদ গ্রন্থ। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ‘রিপভ্যান উইঙ্কল ও অন্যান্য গল্প’ (১৯৫৯), ‘হাড়কিপটে বুড়ী’ (১৯৬১), মোঃ আবদুল কুদ্দুস জন্ম ১৯০৮ হাজীগঞ্জের নাসিরকোর্টে। তার রচিত শিশু পাঠ্য বইয়ের সংখ্যা ১৫। (১) অমর যাদের জীবন কথা (১৯৫৫), (২) পিয়ারে নবী (১৯৬৪), (৩) কাজী নজরুল ইসলাম (১৯৬৪), (৪) সৈয়দ আহমদ (১৯৬৫), (৫) ইসলামী গজল সংকলন (১৯৬৫), (৬) কোরানের শতবাণী (১৯৬৫), (৭) ছোটদের নজরুল (১৯৭২), (৮) বাংলার প্রবচন, প্রবাদ, ধাঁধাঁ (১৯৭৩), (৯) ছোটদের নবী মোস্তফা (১৯৮০), (১০) কবিদের হাসিদের কথা (১৯৮০), (১১) বেগম রোকেয়া (১৯৮০), (১২) নজরুল কাব্যে নবী মোস্তফা (১৯৮০), (১৩) এ দেশের এক হাতেম তায়ী (১৯৮০), (১৪) পিয়ারে হাবীঃ বাংলায় মিলাদ (১৯৮৩), (১৫) শিশু সাহিত্যে নজরুল (১৯৮৩)।

 

মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন (জন্ম ১৮৮৯)ঃ

প্রখ্যাত মাসিক সওগাত সম্পাদক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন ছিলেন শিশু সাহিত্য প্রকাশনার অগ্রনায়ক। তাঁর রচিত ‘শিশু সওগাত’ মুসলিম সমাজের ছোটদের জন্য চিত্রবহুল শিশু পত্রিকার প্রথম প্রকাশনী । এই পত্রিকাটি ১১ বৎসর চলেছিল। প্রথম সংখ্যায় কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছেন ‘শিশু সওগাত’ কবিতা-

‘‘ওরে শিশু ঘরে তোর এল সওগাত

আলোপানে তুলে ধর ননী মাখা হাত।

তোর চোখে দেখিয়াছি নবীন প্রভাত

তোর তরে আজিকার নব সওগাত।’’

বাংলাদেশে শিক্ষাতত্ত্ব নিয়ে যাঁরা আলোচনা করেছেন, তাঁদের মধ্যে সবিশেষ উল্লেখ্য মোঃ আবদুল কুদ্দুস। তিনি গতানুগতিক শিক্ষাপদ্ধতিকে মেনে নেননি। ব্যবহারিক ও কার্যকরী শিক্ষাপদ্ধতির তিনি প্রবক্তা। তিনি বয়স্কশিক্ষার ওপর গ্রন্থ রচনা করেছেন।

তিনি শুধু একজন শিক্ষাতাত্ত্বিক নন, একজন সাহিত্য সমালোচক ও গবেষক বটে। নজরুলকে নিয়ে তিনি আলোচনা করেছেন- বিশেষতঃ নজরুলের কুমিল্লার জীবন নিয়ে। তার ‘কুমিল্লায় নজরুল গ্রন্থে নজরুলের কুমিল্লার জীবন বিধৃত হয়েছে। তাছাড়া, তিনি নজরুলের ইসলামী ভাবধারা নিয়ে গ্রন্থ এবং নজরুলকে কিশোরদের নিকট পরিচিত করবার উদ্দেশ্যে ‘ছোটদের নজরুল’ রচনা করেছেন।

তিনি (মোহাম্মদ আবদুল কুদ্দুস) ১৯০৬ খ্রীস্টাব্দে হাজীগঞ্জ থানার নাসিরকোর্ট গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। তিনি শিক্ষা বিভাগে নিযুক্ত থেকে এ.ডি.পি.আই হিসাবে অবসর গ্রহণ করেন এবং সাহিত্য সাধনায় নিয়োজিত ছিলেন।

চাঁদপুরের একজন প্রখ্যাত গীতিকার, সুরকার ও কবি এবং সংস্কৃতির সংগঠক হলেন মুখলেছুর রহমান। সুদীর্ঘ ২৮ বছর তিনি ‘চাঁদপুর ললিতকলা একাডেমী’ নামাক সংস্কৃতি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানটির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। তার পিতা আলহাজ্জ খলিলুর রহমান এবং মাতা জীবুন্নেসা বেগম। ৬ ভাইবোনের মধ্যে ৫ম মুখলেছুর রহমান ১৯৫৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর হাজীগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। দু’টি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে- (১) ‘একমুঠো রৌদ্র চূর্ণঃ প্রকাশকাল ১৯৭৪; (২) ‘নাম রেখেছি সোনাগাছিঃ প্রকাশকাল ১৯৯০।

 

চাঁদপুর থেকে প্রকাশিত লিটন ম্যাগাজিন, সাহিত্য সাময়িকী ইত্যাদি’র সংক্ষিপ্ত বিবরণী

‘ঢেউ’ একটি সাহিত্য পত্র।

সম্পাদনায়ঃ এনামুল হক মনির

প্রকাশকালঃ ১৮ই জুলাই-২০০৩

প্রকাশনায়ঃ আমরা ক’জন সাহিত্য প্রেমী

পরিচালনায়ঃ মানিক দাস, অজিত দত্ত

 

‘ডাকাতিয়া’র বাঁকে’ একটি সাহিত্য পত্র

প্রকাশকালঃ ২০০৪ নভেম্বর।

সম্পাদনায়ঃ রীভার আহমেদ ফারুক।

প্রকাশনায়ঃ বন্ধুজন সাহিত্য সংঘটন

শাহতলী বাজার, চাঁদপুর।

যারা ছিলেনঃ সুমন কুমার দত্ত, রণজিৎ সিংহ, কামাল হোসেন টাইস, কে.এম. মনির হোসেন দুর্জয়।

 

‘ভালবাসার শিকড়’- বিনোদনমুখী সাহিত্য পত্রিকা

প্রকাশকালঃ ২০০২ একুশে ফেব্রম্নয়ারি

সম্পাদনায়ঃ জাবেদ ইমন

যারা ছিলেনঃ এস.আর. ফয়সাল, তোফায়েল আহম্মদ মিরণ

 

‘বিরহের যন্ত্রণা’- একগুচ্ছ কবিতা সংকলন

সম্পাদনাঃ জসীম মেহেদী

প্রকাশকালঃ ২০০১

 

‘উপমা’- সাহিত্য পত্রিকা

প্রকাশকালঃ ১ বৈশাখ, ১৪১১ বঙ্গাব্দ

সম্পাদনাঃ ম. নূরে আলম পাটওয়ারী

সাহিত্য পত্রিকাটির বড় অর্জন হচ্ছে আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১০৬তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে জ্যৈষ্ঠ ১৪১২ বঙ্গাব্দ একটি বিশেষ স্মারক সংখ্যা প্রকাশ। যা ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে ও সুধী সমাজে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা লাভ করে; যা এখন পর্যমত্ম চাঁদপুরে নজরম্নলকে নিয়ে একক প্রকাশনায় শ্রেষ্ঠত্বের আসন অলংকৃত করে আছে।

 

‘কলম সৈনিক’- সাহিত্য পত্র

১ম সংখ্যাঃ ডিসেম্বর ২০০২

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ নুর মোহাম্মদ বেপারী খোকা

প্রকাশনায়ঃ কলম সৈনিক মহল, কল্যাণপুর, চাঁদপুর।

প্রতিষ্ঠাতাঃ আব্দুল গণি মাস্টার, সায়ীদ আহম্মদ খান, জসীম মেহেদী, কায়সার।

 

‘নবীন প্রতিভা’- একটি অনিয়মিত সাহিত্য পত্রিকা

প্রকাশকালঃ জুলাই- ২০০৩

উপদেষ্টা- সায়ীদ আহমাদ খান,

সম্পাদকঃ মোঃ সাইফুল আলম রাজু

নির্বাহী সম্পাদকঃ মোঃ বিল্লাল ঢালী

 

‘বক্ষবুলি’- সাহিত্য পত্র

প্রকাশকালঃ জুলাই ২০০০

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক প্রকাশকঃ জাহাঙ্গীর হোসেন

 

‘সাহিত্য সময়’

প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশকঃ জসীম মেহেদী

প্রধান সম্পাদকঃ জাহাঙ্গীর হোসেন

সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতিঃ ডাঃ মোঃ আহসান উল্লাহ

 

‘লালন’- একটি সাহিত্য ম্যাগাজিন

প্রকাশনায়ঃ লালন পরিষদ, চাঁদপুর

সম্পাদনায়ঃ লিটন ভূঁইয়া

 

‘সাহিত্য দর্পণ’

সম্পাদনায়ঃ মোঃ ইব্রাহীম

প্রকাশকালঃ ২০০৫ ফেব্রুয়ারি

 

‘ঘনান্ত’- একটি সাহিত্য পত্রিকা

‘ঘনান্ত’- একটি ভাজপত্র। সম-সাময়িক সাহিত্যের তান্ডব ঘনান্তের খাদ্য। তান্ডব ঝড়ে জুলাই ২০১১ তে জন্ম নেয় ঘনান্ত।

প্রকাশকালঃ জুলাই ২০১১

উপদেষ্টাঃ অধ্যাপক মোশাররফ হোসেন লিটন, পীযুষ কান্তি রায় চৌধুরী

পৃষ্ঠপোষকঃ ঝরণা বেগম

সম্পাদনায়ঃ ফরিদুল ইসলাম (রুবেল)

 

সাহিত্য কণ্ঠ

একটি অনিয়মিত সাহিত্য পত্র

প্রথম প্রকাশঃ অক্টোবর ২০০৩

সম্পাদনায়ঃ সুমন কুমার দত্ত

প্রকাশনায়ঃ বন্ধুজন সাহিত্য সংগঠন, শাহতলী বাজার, চাঁদপুর।

সহ-সম্পাদকঃ রীভার আহম্মেদ ফারম্নক

নির্বাহী সম্পাদকঃ কে.এস. মনির হোসেন দুর্জয়

 

‘পল্লী কাহিনী’

(পল্লী বাসীর জীবনচিত্র সম্বলিত পাতায় মাসিক ম্যাগাজিন)

প্রধান সম্পাদকঃ মোঃ ওয়ালী উল্লাহ মজুমদার

সম্পাদকঃ এ. কে. এম. সালাহউদ্দিন

নির্বাহী সম্পাদকঃ এ্যাড. জাকির হোসেন সিরাজী

কার্যালয়ঃ গল্লাক বাজার, ফরিদগঞ্জ, চাঁদপুর।

 

‘বনলতা- সাহিত্য পত্র

সম্পাদনায়ঃ আল-আমিন শাহ্ বুলবুল

১ম সংখ্যাঃ ডিসেম্বর ২০০০

প্রকশনায়ঃ বনলতা লিখনী কুঞ্জু, হাইমচর, চাঁদপুর।

 

‘উদ্দীপন’- সাহিত্য ম্যাগাজিন

প্রকাশকালঃ ২০০৪

সম্পাদনায়ঃ মুহাম্মদ মুরাদ হোসাইন

 

‘কথক’- সাহিত্য আন্দোলনের মুখপাত্র

প্রথম প্রকাশঃ ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১১

সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতিঃ রোটাঃ কাজী শাহাদাত

উপদেষ্টা সম্পাদকঃ শামীম আহমেদ, মির্জা জাকির

সম্পাদকঃ মিজানুর রহমান রানা

আর্কাইভঃ মারুফা আক্তার রিতা

সহযোগিতায়ঃ কণ্ঠস্বর আবৃত্তি একাডেমী, বঙ্গবন্ধু লেখক পরিষদ, সময়ের আয়না, জাতীয় কবিতা পরিষদ।

 

 

সংগঠন

চাঁদপুর লেখক পরিষদ

প্রতিষ্ঠাকালঃ ৩০ জানু ’০৫ইং, স্থানঃ জেলা সাহিত্য একাডেমী

উদ্যোক্তাঃ লিটন ভূঞা, জাহাঙ্গীর হোসেন, ফতেউল বারী রাজা, জসীম মেহেদী, অভিজিৎ আচার্যী, হারুন আল রশীদ, বেলাল মাহমুদ, সবুজ, প্রবীর মজুমদার বাবুল, এস.এম. জয়নাল আবেদিন, ডাঃ মোঃ আহসান উল্লাহ, ম. নূরে আলম পাটওয়ারী।

প্রকাশনাঃ সময়ের ডাক।

উল্লেখযোগ্য অনুষ্ঠানঃ ৮ই জুলাই ’০৫, কবি-লেখক সম্মেলন (জেলা শিল্পকলা একাডেমী), প্রকাশনা উৎসব ’০৭- এস.এম. জয়নাল আবেদিনের ‘তুমি কি সেই মুক্তিযোদ্ধা’ কাব্যগ্রন্থ ও ‘ঝড়’ উপন্যাস, ২৫ অক্টোবর ’০৮ জীবনানন্দ দাশ স্মরণে দিনব্যাপী অনুষ্ঠান (উদয়স সঙ্গীত বিদ্যালয় মিলনায়তন), ডাঃ মোঃ আহসান উল্লাহ’র ‘অনন্যার অনন্য ছোঁয়া’ কাব্য গ্রন্থের প্রকাশনা উৎসব (ডিসেম্বর ২০০০), মুক্তিযুদ্ধের বিজয়মেলার নিয়মিত কার্যক্রম, পুরানবাজার বিজয় উৎসব ও পুরানবাজার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে কার্যক্রম, ৬ মাস ব্যাপী পাক্ষিক সাহিত্য আসর (২০১০)।

মুক্তধারা

শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি বিষয়ক প্রকাশনা

প্রতিষ্ঠাকালঃ ২০০০

প্রতিষ্ঠাতা, সম্পাদক ও প্রকাশকঃ ফখরুল আলম অপু

সময়ের আয়না

সাহিত্য, সংস্কৃতি বিষয়ক পরিষদ

প্রতিষ্ঠাকালঃ ২০১০

প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সমন্বয়কারীঃ ফখরুল আলম অপ, সভাপতি- মিসেস মাহফুজা জালাল, সাধারণ সম্পাদক- মিজানুর রহমান রানা

 

হামানকর্দ্দি সাহিত্য সংগঠন

যারা ছিলেনঃ গাজী মোঃ আরমান কিশোর, রহমত উল্যা খান, ইসমাইল গাজী, বাবলু খান, তরু মিঞা

 

‘আমরা ক’জন সাহিত্য প্রেমী’

সম্পাদনাঃ এনামুল হক মনির

‘‘এসো বন্ধু কলম হাতে, কলম হোক মোদের হাতিয়ার’- এই বাণীকে সামনে রেখে এই সংগঠনটি গড়ে উঠে।

উল্লেখযোগ্য প্রকাশনাঃ ‘ঢেউ’, ‘রক্তিম প্রভা’, ‘ভালোবাসার পুষ্পার্ঘ্য’, ‘চেতনা’, ‘এসো নিপবনে’।

 

 সঙ্গীত, নৃত্য ও অন্যান্য কলা

পদ্মা-মেঘনা-ডাকাতিয়ার প্রবহমানা স্রোতধারা আবহমান কাল ধরে সৃষ্টি করে আসছে মিষ্টি মধুর সুরের ব্যঞ্জনা। আবার এই মেঘনারই ভাঙ্গনের প্রচন্ডতা করুণ সুরের অনুরণনও কম সৃষ্টি করেনি। প্রাণের অফুরন্ত প্রেম-ভালোবাসা, দুঃখ-বেদনা, হাসি-কান্না মূর্ত হয়েছে সঙ্গীতে, নৃত্যে আর শিল্প কলার অন্যান্য প্রকৃষ্ট মাধ্যমের সযত্ন আর একনিষ্ঠ সাধনা ও চর্চার মধ্য দিয়ে। সঙ্গীতের ক্ষেত্রে চাঁদপুরের রয়েছে এক বিশেষ অবদান। বিশ্ব ভারতীর সঙ্গীত ও নৃত্যের বিশিষ্ট শিক্ষক শান্তিদেব ঘোষ, আকাশ বাণীর এক সময়ের বিশিষ্ট শিল্পী গীতা দত্ত, জ্ঞান দত্ত, মঞ্জু দাস, শৈলেন ঘোষ, শান্ত ঘোষ, বিশিষ্ট সঙ্গীতজ্ঞ রায় গাঙ্গুলী, লক্ষ্মণ গাঙ্গুলী, জগদীশ গাঙ্গুলী, রেবতী ঘোষাল, নকুল চক্রবর্তী, কালাচাঁদ, সঙ্গীতজ্ঞ আতিকুর রহমান, শরৎ চন্দ্র কীর্ত্তনীয়া, কীর্ত্তনীয়া সারদা বৈষ্ণবী, নগেশ চক্রবর্তী, সাধুরচণ ওয়াস্তী, আবদুল জাববার, দুই সহোদর নজরুল শিল্পী সাদী মোহাম্মদ ও নৃত্যশিল্পী শিবলী মোহম্মদ (পিতা- প্রয়াত সঙ্গীতশিল্পী সলিম উল্লাহ, আদি বাসস্থান কচুয়া ) সহ অনেক অনেক সঙ্গীতজ্ঞ ও কণ্ঠশিল্পীকে উপহার দিয়েছে।

 

বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী ও সঙ্গীত পরিচালক মোসলেহ উদ্দিন চাঁদপুরের একজন কৃতী সংগীত ব্যক্তিত্ব। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অত্যন্ত প্রিয়জন ছিলেন শান্তিনিকেতনের প্রাক্তন অধ্যক্ষ শান্তিদেব ঘোষের পিতা কালীমোহন ঘোষ। তাঁর উপরই অর্পিত হয় শান্তি-নিকেতন প্রতিষ্ঠার মূল দায়িত্ব। শান্তিনিকেতনের নৃত্যশিল্পী কৃষ্ণচন্দ্র ঘোষ ও ভারতবিখ্যাত স্থাপত্যশিল্পী শৈলেন ঘোষ চাঁদপুরেরই কৃতি সন্তান ছিলেন। বোয়ালিয়ার নিশীথ রায় চৌধুরী ‘মরুপ্রান্তরের গোধূলী’ নামীয় স্থাপত্যশিল্পের জন্য আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। বোয়ালিয়ার আরেকজন কৃতী সন্তান ছিলেন শান্তি নিকেতনের আলিম্পন শিল্পী সুকুমারী দেবী। সিবন ও চিত্রশিল্পে তাঁর সুখ্যাতি ছিল। তাকে নিয়েই নন্দলাল বসু শান্তিনিকেতনে আল্পনা বিভাগ গড়ে তোলেন। ভারতবিখ্যাত মৃৎশিল্পী উপেন্দ্রনাথ ঘোষ, বিখ্যাত চিত্র শিক্ষিকা অবলা বসু চাঁদপুরে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। ভারতের প্রখ্যাত সঙ্গীত পরিচালক কালীপদ সেন চাঁদপুরের কৃতী সন্তান। চিত্রশিল্পী হিসেবে যাদের নিয়ে আমরা গর্বিত তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন প্রখ্যাত শিল্পী হাসেম খান, শিল্পী মুনিরুল ইসলাম, শিল্পী মনোরঞ্জন ভৌমিক, ভাস্কর দীননাথ কুন্ডু প্রমুখ স্থানীয়ভাবে চাঁদপুরের কৃতী চিত্রশিল্প বিষয়ক শিক্ষক হচ্ছেন সাধন সরকার ও অমল সেনগুপ্ত, অজিত দত্ত প্রমুখ। প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য যে, শিল্পী হাসেম খান আমাদের রাষ্ট্রের সংবিধানের অলংকরণের গুরুদায়িত্ব পালন করেন। ১৯২৮ সালে পুরাণবাজারের মেঘনা পাড়ের মেয়ে নিভাননী দেবী শান্তিনিকেতনের ছাত্রী থাকা অবস্থায়ই কবিগুরুর সান্নিধ্য লাভ করেন এবং পরবর্তী সময়ে তার নাম চিত্রনিভা’য় রূপান্তরিত করে তাকে শান্তি নিকেতনে শিক্ষক নিযুক্ত করেন।বোয়ালিয়ার মুকুল চক্রবর্তীর কীর্ত্তনের দল ছাড়াও নয়নতারা, রাধারানী, সুশীলা রানী, রাজলক্ষ্মী ও শশী চক্রবর্তীর কীর্ত্তনীয়া দলও এক সময় বিখ্যাত ছিল।

চাঁদপুরের সুসন্তান রেনুকা সেনের দু’খানা বিখ্যাত গান ‘‘যদি গোকুল চন্দ্র ব্রজে না এলো’’ এবং ‘‘পাগলা মনটারে তুই বাঁধ’’ (অতুল প্রসাদ রচিত) গ্রামোফোন রেকর্ডভুক্ত হয়ে সারা ভারতবর্ষকে এক সময়ে আলোড়িত করেছিল।

চাঁদপুরের অধ্যাপক হীরন দত্তের কন্যা অধ্যাপিকা পূরবী দত্ত বিশিষ্ট রবীন্দ্র সঙ্গীত শিল্পী ছিলেন। ইলা দত্ত ছিলেন বেতারের প্রখ্যাত শিল্পী।

আশালতা রায়  ছিলেন পল্লী ও ভাটিয়ালী গানের অমর শিল্পী।

আশালতার সহোদর ভাস্কর মজুমদারও প্রখ্যাত তবল বাদক ছিলেন। আশালতার কন্যা মীরা বসুও ভারতবর্ষের বিখ্যাত গায়িকা ছিলেন।

পল্লীগীতি ও ভাটিয়ালী গানের রেকর্ড করে যিনি ভারতবর্ষকে মাতিয়ে তুলেছিলেন তিনি হচ্ছেন সুরবন্ধু মজমুদার (সুরকার, গীতিকার, শিল্পী)। তার পুত্র প্রবীর মজুমদার প্রখ্যাত সুরকার এবং চিত্রজগতের লব্ধ প্রতিষ্ঠ সঙ্গীত পরিচালক।

যন্ত্রশিল্পীঃ

তবল বাদকঃ প্রয়াত মনুঘোষ, সুন্দর লাল, শংকর হরিজন, পরান মৌলিক, সুরেশ চন্দ্র দাস ঝন্টু, দীপক চক্রবর্তী, সুবীর ঘোষ (বিশ্বভারতী থেকে তবলে মাস্টার্স ডিগ্রিপ্রাপ্ত), খোকন হরিজন প্রমুখ।

সরোদ বাদকঃ ডাঃ চারু চন্দ্র বসু

এসরাজঃ প্রয়াত হরলাল সাহা, গোপাল সরকার, দক্ষিণারঞ্জন চক্রবর্তী, রেবতী ভট্টচার্য্য

সেতারঃ প্রয়াত রমণী চক্রবর্তী, ভরত সাহা প্রমুখ

বেহালা বাদকঃ প্রয়াত দুর্গাচরণ, প্রয়াত ললিত কুমার চৌধুরী প্রমুখ

সানাই বাদকঃ ওসমান নাগার্সী

চলচ্চিত্র শিল্পীঃ অভিনেত্রী জহরত আরা, মালতি দে, কারেবী মজুমদার, কাবেরী দে, অঞ্জনা রহমান, শুভ্রদেব, অভিনেতা ওয়াসিম, অভিনেতা শরীফ চৌধুরী। চাঁদপুরের কৃতি সন্তান বিশিষ্ট গীতিকার, সুরকার এবং শিল্পী কবির বকুল এবং তদীয় পত্নী বিশিষ্ট শিল্পী উপস্থাপিকা দিনাত জাহান মুন্নী চাঁদপুরের গৌরব।

 

১৯৬৩-৬৪ সালে বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে সারাদেশে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘‘পাকিস্তান আর্টস কাউন্সিল’’- এর শাখা। ঠিক ঐ সময়েই মিঃ সুলতান আহমদ, আক্কাস মিয়া, ওস্তাদ মমতাজ উদ্দিন, শ্যামল সেন, রাধাগোবিন্দ তুলাল, গোবিন্দ দে, জীবন কানাই চক্রবর্তী, দেবদাস ভৌমিক ও তপন রায় চৌধুরী প্রমুখের চেষ্টায় গড়ে উঠে ‘চাঁদপুর শিল্পী গোষ্ঠী’। এই ‘শিল্পী গোষ্ঠী’র অভ্যন্তরে (তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে) অঙ্কুরোদগম ঘটে বর্তমানে সঙ্গীত সংস্কৃতি প্রশিক্ষণের সর্ববৃহৎ প্রতিষ্ঠান ‘সঙ্গীত নিকেতন’। ১৯৬৪ সালে চাঁদপুরের তৎকালীন মহকুমা প্রশাসক প্রয়াত নূরুল কাদের খান মহোদয়ের উদ্যোগে তৎকালীন বিডি হলে (বর্তমানে সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রীনিবাস) প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে ‘পহেলা বৈশাখ’-এর অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয় সরকার প্রদত্ত ভবনে। ১৯৬৭ সালের ১লা অক্টোবর সংগীত নিকেতন গৃহে প্রবেশ করে। আজকে চাঁদপুরে যারা প্রতিষ্ঠিত বিশিষ্ট শিল্পী তাঁদের অধিকাংশই এক সময়ই এই প্রতিষ্ঠানের ছাত্র/ছাত্রী ছিলেন। প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ ছিলেন প্রয়াত শ্যামল সেন গুপ্ত। বর্তমানে তাঁরই ভ্রাতা স্বপন সেনগুপ্ত এই প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ। পদাধিকার বলে এই প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হচ্ছেন জেলা প্রশাসক মহোদয়। ১৯৭২ থেকে অদ্যাবধি এ প্রতিষ্ঠানে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন প্রবীণ সংস্কৃতি সংগঠক জীবন কানাই চক্রবর্তী। এই প্রতিষ্ঠানে শুদ্ধ সংগীতের চর্চা করা হয়। বিভাগগুলো হচ্ছে কণ্ঠসংগীত, যন্ত্রসংগীত (তবল), নৃত্য ও চিত্রকলা। সংগীত নিকেতন থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন যারা তারা হচ্ছেন প্রয়াত শীতল ঘোষাল, স্বপন সেন গুপ্ত, পীযূষ রায় চৌধুরী, দিলীপ দত্ত,  প্রয়াত সুরেশ চন্দ্র দাস (প্রাক্তন অধ্যক্ষ), প্রয়াত এ্যাড. বিভূতিভূষণ মজুমদার, মন্দ্রা দে চেরী, রূপম রায় চৌধুরী, শেফালী দাস, দীপালি দাস, বিউটি মজুমদার,  মীরা সেনগুপ্ত, সীমা দে (প্রয়াত), রুবী রহমান, কাবেরী রক্ষিত, স্বপন কুমার দাস, দিলীপ দাস, রূপম রায় চৌধুরী, অরুণ কর্মকার, বাবুল চক্রবর্তী, দীপক চক্রবর্তী, বিমল দে, অমল সেন, সৈকত সাহা, রঞ্জন সূত্রধর, চুমকি চন্দ, মাধুরী সাহা, পলাশ সেন, সুবীর ঘোষ, পুতুল দাস, অনিমেষ দাস টিটো, সত্য চক্রবর্তী, গোধূলী চক্রবর্তী (অজন্তা চক্রবর্তী), মৌসুমী মজুমদার, অনিতা নন্দী, তাহমিনা হারুন, বিউটি মজুমদার, মৃণাল সরকার, বিপাশা সাহা, তমাল ঘোষাল (তবল), অনির্বান সাহা, তন্ময় রক্ষিত, শুভ্রজিৎ রক্ষিত, অভিজিৎ রায়, অজিত দত্ত, রফিক আহমেদ মিন্টু, গৌরাঙ্গ সাহা, রুমা সরকার, অনিমা সেন, সৈকত মজুমদার সিজার, মনোজ আচার্যী, গৌরাঙ্গ সাহা, নাসির আহমেদ, সোমা দত্ত, রীতা পাল, অপূর্ব পাল, দিলীপ ঘোষ, শংকর পাল, আনোয়ার হোসেন রাজু, রীতা মজুমদার, বীণা ঘোষ, জয়া সরকার, তাজরিয়া হালিম তুল্পা, শারমিন জাহান, লীনা সাঈদ, দীনা সাঈদ, ডেভিড বাবলা প্রমুখ শিক্ষক ও শিল্পী।

২০১১ সালে মাস্টার্সের চূড়ান্ত পরীক্ষায় বিপাশা সাহা বিশ্বভারতীর সংগীত বিভাগে কণ্ঠসঙ্গীতের সকল শাখায় প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হয়েছে।

১৯৮২ সালের ৬ই অক্টোবর থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত ‘সঙ্গীত নিকতন’ এর উদ্যোগে চাঁদপুরের বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় চাঁদপুরে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয় ৭ দিন ব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এ উপলক্ষে প্রকাশিত হয় ঐকতান নামে সংগীত নিকতনের পঞ্চদশ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী’র স্মরণিকা ‘ঐকতান’। এর সম্পাদনার দায়িত্বে ছিলেন অজিত কুমার মুকুল, সহযোগিতায় ছিলেন হরিপদ চন্দ ও মামুন মোরশেদ, প্রচ্ছদ অংকন করেন অমল সেন; প্রচারে ছিলেন বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক সংগঠক এবং শিল্পকলার প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক অজয় ভৌমিক। মূল উদ্যোক্তা সংগঠক ছিলেন জীবন কানাই চক্রবর্তী।

২০০৫ সালের ৮ জুন থেকে ১০ জনু পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রথমবারের মত চাঁদপুরেই ৩ দিনব্যাপী ‘নজরুল সম্মেলন’ অনুষ্ঠিত হয়।এর পূর্বে চাঁদপুরের বাইরে দেশের কোথায়ও নজরুল বিষয়ক এ ধরনের সম্মেলনের খবর আমাদের জানা নেই। এ সম্মেলনের পরের দিন ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয় প্রথম আন্তর্জাতিক নজরুল সম্মেলন।

সংগীত নিকেতন ঋতুভিত্তিক অনুষ্ঠানসহ পহেলা বৈশাখ, ২১ ফেব্রুয়ারি, স্বাধীনতা দিবস, বিজয় দিবস ইত্যাদি দিবসে উল্লেখযোগ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করে চলেছে। ঋতু ভিত্তিক অনুষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে বর্ষাঞ্জলি, শারদার্ঘ, বসন্ত উৎসব, রবীন্দ্রজয়ন্তী ও নজরুল জয়ন্তী। এ অনুষ্ঠানগুলো প্রতিবছরই নিয়মিতভাবে উদযাপন করা হয়।

সংগীত নিকেতন কর্তৃক আয়োজিত বিশেষ বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হচ্ছে- অকাল বোধন (গীতিনকশা), সংগীত পরিচালনায় ছিলেন প্রয়াত শ্যামল সেনগুপ্ত। পরবর্তীতে স্বপন সেনগুপ্ত এবং শীতল ঘোষাল এবং রূপালী চম্পক বিভিন্ন সময়ে সংগীত পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেন। চন্ডীপাঠ ও ধারা বর্ণনা করতেন জীবন কানাই চক্রবর্তী।

নিম্নলিখিত নৃত্যনাট্যগুলো চাঁদপুরে সর্বপ্রথম সংগীত নিকেতন উপস্থাপন করে।

১। সামান্য ক্ষতি (রবীন্দ্র); ২। শ্যামা (রবীন্দ্র); ৩। অনন্ত তৃষা (নজরুলের প্রেমসংগীত নির্ভর); ৪। চন্ডালিকা (রবীন্দ্র); ৫। শাল পিয়ালের বনে (নজরুল ইসলাম); ৬। বিবর্তন (বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি সম্বন্ধীয় বিশেষ অনুষ্ঠান)।

 

চতুরঙ্গ সাংস্কৃতিক সংগঠন

 

অ্যাডভোকেট বিণয় ভূষণ মজুমদার, হারুন আল রশিদ, উত্তম রায় বাবু, অজিত মজুমদার প্রমুখ ব্যক্তিদের সমন্বয় উদ্যোগে ১৯৮৩ সনের ১৫ মে আত্মপ্রকাশ করে প্রখ্যাত সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘চতুরঙ্গ সাংস্কৃতিক সংগঠন’। এই সংগঠনটি অনেকগুলো মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সফলভাবে জনগণকে উপহার দিয়ে জনগণের চিত্ত আকৃষ্ট করে। তারা ২০০৬ সালের ৪ দিনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ২০০৭ সালে ৩ দিনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং ২০০৮ সালে ৩ দিনের সাংস্কৃতিক উৎসব উদযাপন করে বিশেষ কৃতিত্বের পরিচয় দেয়। এই সংগঠনের প্রাণপুরুষ বিশিষ্ট সংস্কৃতি সংগঠক, গায়ক ও নাট্যাভিনেতা ও উপস্থাপক হারুন আল রশিদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় চাঁদপুরের প্রখ্যাত সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর অংশগ্রহণে বাংলাদেশের মধ্যে সর্বপ্রথম এবং একমাত্র অনুষ্ঠান ‘ইলিশ উৎসব’ উদযাপন করে। চাঁদপুরের ঐতিহ্য পদ্মার ইলিশকে রক্ষার জন্যে, জাটকা রক্ষা কার্যক্রমকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্যে এবং হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে এনে সারা বিশ্বে পদ্মার তথা চাঁদপুরের ইলিশকে পরিচিত করানোর জন্যে অনন্যধর্মী এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন । এ অনুষ্ঠানের রূপকার এবং স্বপ্নদ্রষ্টা সংগঠনের মহাসচিব জনাব হারুন আল রশিদ। এই উৎসবটি শুরু হয় ২০০৯ সালে। ২০১০ সালে ২য় ইলিশ উৎসব এবং ২০১১ সালের ২১, ২২ ও ২৩ জুলাই তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয় ৩য় ইলিশ উৎসব। এ উৎসবটি বাংলাদেশের বেতার-টেলিভিশনসহ সমস্ত মিডিয়ায় ব্যাপক আলোড়নের সৃষ্টি করে। অনুষ্ঠানগুলো চাঁদপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমীতেই অনুষ্ঠিত হয়। এই প্রতিষ্ঠানটি চাঁদপুরে সর্বপ্রথম ওয়েবসাইট (www.chaturangachandpur.com)চালু করে।

৩য় ইলিশ উৎসব-২০১১

ইলিশ আমাদের জাতীয় মাছ, সুদীর্ঘ কালের ঐতিহ্য। ইলিশ কেবল চাঁদপুরের নয়, বাংলাদেশের ঐতিহ্যের স্মারক। বাংলাদেশে প্রথমবারের মত ২০০৯ সালে প্রবর্তিত এ ইলিশ উৎসব জেলাবাসীর কাছে মহা মিলন উৎসব। পর পর দুই বছর প্রথম ও দ্বিতীয় ইলিশ উৎসবে আশাব্যঞ্জক সাফল্যের পর চতুরঙ্গ আয়োজন করে তৃতীয় ইলিশ উৎসব।

এ উৎসবে ৩ দিনের আয়োজনে জাতীয় সম্পদ ইলিশ রক্ষায় আমাদের করণীয় ও বাংলাদেশের অর্থনীতিতে এর ইতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে জেলাবাসীর মাঝে অনেক সচেতনতার সৃষ্টি হয়েছে।

চাঁদপুরে প্রতি বছর ইলিশের ভরা মৌসুমে এই উৎসব আয়োজনের ধারা অব্যাহত থাকলে, চাঁদপুর তথা বাংলাদেশের মানুষের মাঝে জাটকা নিধন প্রতিরোধ, পানি ও নদী রক্ষা আন্দোলন সহ আরো ব্যাপক গণসচেতনার সৃষ্টি হবে- এই কথাটি আপামর জনগণের কাছে লক্ষ্যে এই উৎসবের আয়োজন।

সেই লক্ষ্যে চতুরঙ্গ সাংস্কৃতিক সংগঠন এর প্রতিষ্ঠার ২৮ বছর পূর্তি উপলক্ষে চতুরঙ্গ ৩য় ইলিশ উৎসব এর পরিকল্পনা গ্রহণ করে।

  নৃত্যাঙ্গন

সংগীত নিকেতনের প্রাক্তন ছাত্রী এবং বিশিষ্ট নৃত্যশিক্ষিকা রূমা সরকারের পরিচালনায় ‘নৃত্যাঙ্গন’ নামে একটি নৃত্যশিক্ষার প্রতিষ্ঠান ২০০২ সালে পথযাত্রা শুরু করে। প্রতিষ্ঠালগ্নে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেন রূমা সরকার, তপন সরকার, অধ্যাপক রণজিত কুমার বণিক প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ। এ প্রতিষ্ঠানটি বর্ষবিদায়, বর্ষবরণ, বিজয় মেলার অনুষ্ঠানসহ সরকারিভাবে অনুষ্ঠিত প্রতিটি জাতীয় অনুষ্ঠানে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে দর্শকদের প্রশংসা কুঁড়িয়েছে। এ প্রতিষ্ঠানটি বাংলাভিশন সহ কয়েকটি মিডিয়ায় তাঁদের অনুষ্ঠান প্রচার করে। এ প্রতিষ্ঠানের উল্লেখযোগ্য শিল্পী হচ্ছে সাদিয়া, নাদিয়া, মৌমিতা দাস তুষ্টি, প্রেরণা দেব তাথৈ, তিথীষা নন্দা, জান্নাতুল ফেরদৌস প্রমুখ।

 সপ্তরূপা নৃত্য শিক্ষালয়

১৯৮৭ সালের ২১ জানুয়ারি সংগীত নিকেতনের প্রাক্তন ছাত্রী এবং বিশিষ্ট নৃত্যশিক্ষিকা অনিমা সেন চৌধুরীর অক্লান্ত পরিশ্রমে আত্মপ্রকাশ করে চাঁদপুরের বিশিষ্ট নৃত্যশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ‘সপ্তরূপা নৃত্য শিক্ষালয়’। এ প্রতিষ্ঠানটি শ্যামা, চন্ডালিকা, চিত্রাঙ্গদা এবং ‘স্বাধীনতা আমার স্বাধীনতা’ প্রভৃতি নৃত্যনাট্য সফলভাবে দর্শকদের সম্মুখে উপস্থাপন করে বিপুলভাবে সমাদৃত হয়। প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য যে, নৃত্য শিক্ষিকা অনিমা সেন চৌধুরী সংগীত নিকেতনের পর কুমিল্লা এবং ঢাকার বিশিষ্ট নৃত্য শিক্ষিকাদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। এই প্রতিষ্ঠানের উল্লেখযোগ্য শিল্পীরা হচ্ছেন সোমা সাহা, অাঁখি, লোপা মুদ্রা মজুমদার, কুমু, রিমি সাহা, ইভা, গৌরী সরকার, অন্তু ও জুঁই।

 

 সপ্তসুর সংগীত একাডেমী

বিশিষ্ঠ কণ্ঠশিল্পী চম্পক সাহা’র উদ্দীপনায় এবং স্বনামখ্যাত কণ্ঠশিল্পী রূপালী চম্পকের পরিচালনায় ২০০৩ সালের ৫ই ডিসেম্বর চাঁদপুরের মুক্তিযুদ্ধের বিজয়মেলায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপহার দেওয়ার মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করে। শুদ্ধ সংগীতের চর্চায় প্রতিষ্ঠানটি নিবেদিত। প্রথম থেকেই এই প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ হচ্ছেন রূপালী চম্পক। এই প্রতিষ্ঠানের একমাত্র উপদেষ্টা শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি সাংবাদিকতায় নিবেদিত দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠের প্রধান সম্পাদক কাজী শাহাদাত। এ প্রতিষ্ঠান প্রতি বছর বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা ছাড়াও তাদের পহেলা বৈশাখ সহ বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠান পালন করে থাকে। এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন রূপালী চম্পক, রীতা পাল, মানষী চক্রবর্তী ও তৃষ্ণা বণিক। এ প্রতিষ্ঠানের প্রখ্যাত নৃত্যশিল্পী হচ্ছে সোমা সাহা, রিমি সাহা, দুর্গা বসাক প্রমুখ।

 

 উদয়ন সংগীত বিদ্যালয় (পুরাণ বাজার)

২০০৩ সালে সংগীত নিকেতন ও ছায়ানটের প্রাক্তন ছাত্র রফিক আহমেদ মিন্টু, গৌরাঙ্গ সাহা, আনোয়ার হোসেন রাজু প্রমুখ ব্যক্তিবর্গের ঐকান্তিক আগ্রহে এবং সংগীত নিকেতনের বিশিষ্ট শিক্ষকদের সহযোগিতায় পুরাণবাজারে গড়ে উঠে শুদ্ধ সংগীত সংস্কৃতি প্রশিক্ষণের বিশিষ্ট সংগঠন ‘উদয়ন সংগীত বিদ্যালয়’। এ প্রতিষ্ঠানটি বর্ষবরণ, ২১শে ফেব্রুয়ারি, বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস, রবীন্দ্রজয়মত্মী, নজরুলজয়ন্তী উদযাপন সহ মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলায় প্রতি বছর অংশগ্রহণ করে থাকে। চাঁদপুরে জাতীয় রবীন্দ্র সংগীত সম্মেলন চাঁদপুর শাখা প্রতিষ্ঠায় এই প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। এই প্রতিষ্ঠানের বিশিষ্ট শিল্পী বিজলী দাস (প্রয়াত) ছিলেন চাঁদপুরের একমাত্র বি.মিউজ ডিগ্রিধারী। বর্তমানে যারা এ প্রতিষ্ঠানের সুনাম বৃদ্ধিতে কাজ করছেন এবং সংগীতে জাতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন তারা হচ্ছেন কাকলী দাস, দীপ্তি দাস, পান্না সরকার, ছবি ঘোষ প্রমুখ। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, জনাব লিটন ভূঁইয়া এবং আকরাম খান এর পরিচালনায় এবং নির্দেশনায় এই প্রতিষ্ঠানটি রবীন্দ্রনাথের ‘ছুটি’ নামক ছোটগল্পের নাট্যায়নে বিশেষ অবদান রাখে এবং ২০১১ সালে শিশু নাট্য প্রতিযোগিতায় তাদের এই নাটকটি চট্টগ্রাম বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করে।

 

 উদীচী

১৯৭২ সালে অধ্যাপক সৈয়দ আবদুস সাত্তার (প্রয়াত), প্রয়াত কমরেড আবদুর রহমান, অরুণ মজুমদার, রূপন রায় চৌধুরী ও অরুণ কর্মকারের উদ্যোগে ‘উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী’ চাঁদপুরে প্রথম আত্মপ্রকাশ করে। প্রথমদিকে এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সংগীত নিকেতনের প্রাক্তন ছাত্র রূপন রায় চৌধুরী এবং অরুণ কর্মকার। প্রতিষ্ঠানের বিশিষ্ট শিল্পীরা ছিলেন কৃষ্ণা চক্রবর্তী, লীনা সায়ীদ, দীনা সায়ীদ, রীনা চক্রবর্তী (প্রয়াত) প্রমুখ। বর্তমানে এ প্রতিষ্ঠানে সভাপতি হচ্ছেন এডভোকেট বিণয় ভূষণ মজুমদার এবং সাধারণ সম্পাদক জনাব জাকির হোসেন। বর্তমানে বিশেষ দায়িত্ব পালন করছেন অধ্যাপক দুলাল চন্দ্র দাস। তাঁদের সাড়াজাগানো অনুষ্ঠান হচ্ছে মাহমুদ সেলিম রচিত ‘ইতিহাস কথা কও’ ইতিহাস ভিত্তিক সংগীত গীতিনাট্য। বর্তমানে তাদের উল্লেখযোগ্য শিল্পী হচ্ছে খুকি, হাসান মাহমুদ প্রমুখ।

 

সপ্তক সংগীত শিক্ষালয়

‘সপ্তক সংগীত শিক্ষালয়’ প্রতিষ্ঠানটি ১৯৯৪ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক বিশিষ্ট সমাজসেবক সাবেক ৩নং কল্যাণপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জনাব হুমায়ুন কবীর সাহেবের উদ্যোগে বাবুরহাটে পদযাত্রা শুরু করে। এ প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান সভাপতি আলহাজ্ব আঃ মান্নান মাল (চেয়ারম্যান, ৩নং কল্যাণপুর ইউনিয়ন পরিষদ) ও সাধারণ সম্পাদক বাবু অশোক চক্রবর্তী। এ প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে জাতীয় দিবসগুলোতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত করে আসছে এবং সংগীত শিক্ষা ও চর্চায় ভূমিকা রেখে আসছে।

শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদ

‘শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদ’ ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠি হয়। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা মোঃ মোবারক হোসেন আখন্দ ও প্রধান পৃষ্ঠপোষক এডঃ ফজলুল হক সরকার। প্রতিষ্ঠানটি জাতীয় দিবস গুলো রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় পালন সহ ১০ জানুয়ারী বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস, মহান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, পালন করে থাকে।

 

মিঠুন ফ্রেন্ডস এসোসিয়েশন

‘মিঠুন ফ্রেন্ডস এসোসিয়েশন’ ১৯৯৭ইং সনের নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে আত্মপ্রকাশ করে। সংগঠনটির মূল প্রতিষ্ঠাতা বাঙ্গালীর সাংস্কতিক সৃষ্টিকে সর্বোচ্চ উঁচু স্থানে পৌঁছে দেবার জন্য নিরলসভাবে যিনি প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছেন বাঙ্গালীর গর্ব ভারতের চলচ্চিত্র অঙ্গনের শক্তিমান অভিনেতা এবং সাংস্কৃতিক পুরোধা ব্যক্তিত্ব মিঠুন চক্রবর্তী মহাশয়। জন্মসূত্রে তিনি বাঙ্গালী ও বাংলাদেশের নাগরিক। এই প্রতিষ্ঠানটি একটি অরাজনৈতিক আন্তর্জাতিক সেবা, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সংগঠন। চাঁদপুরে এই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হলেন পলাশ কুমার দে। চাঁদপুরে সাংগঠনিক কার্যক্রম হাটি-হাটি পা-পা করে চলতি ২০১১ সনে দীর্ঘ ১৫ বছর অতিক্রম করতে শুরু করেছে। সংগঠনটি ২০০১ সালে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফলতার জন্য ৩৪ জন চাঁদপুরের কৃতি সন্ত-ান ও গুণিজনকে সংবর্ধনা প্রদান করে। এছাড়া মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ, পঙ্গু ব্যক্তির মাঝে হুইল চেয়ার বিতরণ করে থাকে। প্রতি বছর বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, অসহায় শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ, বন্যাদুর্গতদের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ ও চিকিৎসা সেবা প্রদান, চাঁদপুর মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলার বিজয় মঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান প্রদর্শন, ফুটবল, ক্রিকেট ও দাবা প্রতিযোগিতা আয়োজন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন করে। ২০০৯ সালে সংগঠনটি মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা মঞ্চে চাঁদপুর জেলার ১০ জন অসহায় মুক্তিযোদ্ধাকে এবং মুক্তিযোদ্ধার পরিবারকে সংবর্ধনা প্রদান করে। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ও বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকীতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনসহ গরীব-দুঃখী মানুষের পাশে গিয়ে দাঁড়াতে সর্বদা প্রস্ত্তত। মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলায় সংগঠনের সদস্যদের নিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান প্রদর্শন করে আসছে।

 স্বদেশ সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী (পুরাণবাজার)

প্রতিষ্ঠাকালঃ ৭ মার্চ ২০০৫

অস্থায়ী কার্যালয়ঃ পুরাণবাজার মধুসূদন উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ সংলগ্ন কক্ষ।

প্রশিক্ষণের বিষয়ঃ কণ্ঠসংগীত, চিত্রাঙ্কণ ও তবল।

প্রতিষ্ঠাকালীন উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিবর্গঃ মনোজ আচার্যী (প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ), মাহবুবুর রহমান মানিক (সভাপতি), এ.কে. আজাদ (সাধারণ সম্পাদক), রাজীব সাহা, শুভ্রত দাস, মিজানুর রহমান খান বাদল, মোঃ জাকারিয়া, সুজন সরকার, মুক্তা আচার্যী, খোকন, রিয়াদ, আলামিন, অরিন্দম আচার্যী, স্বনীল দাস প্রমুখ।

মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলায় এ প্রতিষ্ঠানটি দৃষ্টিনন্দন অনুষ্ঠান উপহার দিয়ে আসছে। ২০০৮ সালে একুশে টেলিভিশনের ‘দেশজুড়ে’ অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করে তারা সুনাম অর্জন করে। এ প্রতিষ্ঠানটি প্রতি বৎসর রবীন্দ্রজয়ন্তী, নজরুলজয়ন্তী উদযাপনসহ রাষ্ট্রীয় বিশেষ দিবসে অনুষ্ঠান করে আসছে। এ প্রতিষ্ঠানের শিল্পী কবিতা ঘোষ ও মধুরীমা আচার্যী জাতীয় রবীন্দ্র সংগীত প্রতিযোগিতায় এবং বঙ্গবন্ধু শিশু-কিশোর প্রতিযোগিতায় স্ব-স্ব বিভাগে কৃতিত্বপূর্ণ স্থান অর্জন করে। বর্তমানে উল্লেখযোগ্য শিল্পী হচ্ছে এ.কে.আজাদ, রিপন, অভিজিৎ আচার্যী। এ প্রতিষ্ঠানটি ঢাকা ও কুমিল্লায় পথনাটক উৎসবে অংশগ্রহণ করে প্রশংসা কুঁড়িয়েছে। এ প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ মনোজ আচার্যী সংগীত নিকেতনের শিক্ষার্থী হিসাবে আন্তরিকতার সাথে সংগীত শিক্ষা শুরু করেন এবং পরবর্তীতে সংগীত নিকেতনের বর্তমান অধ্যক্ষ স্বপন সেনগুপ্তের নিজ বাসায় উচ্চাঙ্গ সংগীতের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। সংগীত নিকেতনে তাঁর প্রথম শিক্ষক ছিলেন সত্য চক্রবর্তী। তিনি একজন প্রখ্যাত গণসংগীতশিল্পী। ইতিমধ্যে তার কণ্ঠে গীত ১০টি গানের একটি গণসংগীতের অ্যালবাম প্রকাশ করেছে ‘লেজার ভিশন’।

 

 

 নৃত্যধারা নৃত্য শিল্পালয়

চাঁদপুর জেলার নৃত্য চর্চাকে বেগবান করার লক্ষ্যে ২০০৪ সনের ৪ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠা লাভ করে ‘নৃত্যধারা নৃত্য শিল্পালয়’। এ নৃত্য শিক্ষালয়টির নামকরণ করেন সোমা দত্তের স্বামী স্বর্গীয় সুমন দত্ত। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই এই প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ ও কর্মকর্তাগণ আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যায় যাতে করে প্রতিষ্ঠানটির মধ্যে নৃত্যকলার বিকাশ অধিকতরভাবে বিকশিত হয়। প্রতিষ্ঠাতা সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন শ্রদ্ধেয় জনাব শবে বরাত। সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন প্রয়াত সুমন দত্ত এবং অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন সোমা দত্ত। প্রতিষ্ঠালাভের পর থেকে আজো অধ্যক্ষের দায়িত্বে আছে সোমা দত্ত। এই সংগঠনটি নৃত্যকলা ও নৃত্যচর্চায় চাঁদপুর জেলায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। বর্তমানে প্রায় ৫০ জন ছাত্র-ছাত্রী নিয়মিত নৃত্যকলার উপর শিক্ষা গ্রহণ করছে।

অধ্যক্ষ সোমা দত্ত, পিতা- প্রয়াত অমল মজুমদার, মাতা- বাসন্তী মজুমদার। অমল মজুমদারের ২ কন্যা ও ২ পুত্র সন্তানের মধ্যে সোমা দত্ত সর্বকনিষ্ঠ। সোমা দত্তের বড় বোন সীমা মজুমদার কণ্ঠ সংগীত ও নৃত্যশিল্পে সমানভাবে পারদর্শী। ৪ বছর বয়সে সোমা দত্ত তৎকালীন সময়ের চাঁদপুরের সেরা নৃত্যশিল্পী মন্দ্রা দে চেরীর (সংগীত নিকেতন) নিকট নৃত্যের তালিম নেওয়া শুরু করেন। তারপর কুমিল্লার তপন দাস গুপ্ত, অদিতি রায় কলি, পি.সি সাহা পলাশ এবং চাঁদপুরের রুমা সরকার ও অনিমা সেন চৌধুরী। সর্বশেষ ঢাকার শিল্পী শিবলী মোহাম্মদ ও শামীম আরা নিপার কাছে তালিম নেন। বর্তমান নৃত্যধারার অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি জেলা শিল্পীকলা একাডেমীর নৃত্য শাখার শিক্ষক হিসাবেও দায়িত্ব পালন করছেন। এরই মধ্যে তিনি ঢাকা শিল্পকলা একাডেমী হতে নৃত্যশিল্পের উপর বিশেষ প্রশিক্ষণ নিয়ে এসেছেন।

নৃত্যধারা নৃত্য শিক্ষালয়ের ১০ জন ছাত্রছাত্রী জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে পুরস্কার লাভ করে চাঁদপুরবাসীর মুখ উজ্জ্বল করেছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, শুভ বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের পরিবেশন ও রাষ্ট্রীয় সকল অনুষ্ঠানে ‘নৃত্যধারা নৃত্য শিল্পালয়’ নিয়মিত অংশগ্রহণ করে থাকে।

 

 কম্পন সাংস্কৃতিক ও সমাজ কল্যাণ প্রতিষ্ঠান

কম্পন সাংস্কৃতিক ও সমাজ কল্যাণ প্রতিষ্ঠানমিউজিক ট্র্যাক, শতদল, বিবর্তন প্রভৃতি কতগুলো সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান কতগুলো সুন্দর অনুষ্ঠান উপহার দিয়ে উল্কার মতোই যেন ক্ষণিকের আলো বিচ্ছুরিত করে মিলিয়ে গেল সংস্কৃতির নভোমন্ডলে। দেওয়ান হযরত আলী, গিয়াস উদ্দিন সরকার প্রমুখের প্রচেষ্টায় ১৯৭৮ সালে আত্মপ্রকাশ করে এ প্রতিষ্ঠানটি। স্মরণীয় অনুষ্ঠান উপহার দেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয়ে এ প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা একসময় বিশেষ অবদান রেখেছিল। তারা একাদশ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে ১৯৯০ সালে ৫ই জানুয়ারি চাঁদপুর টাউন হলে একাদশ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন করে অত্যন্ত সার্থকভাবে এবং এ উপলক্ষে একটি সুন্দর স্মরণিকাও প্রকাশ করা হয়।

 

‘কম্পন’-এর ইতিকথা

ঊনিশ’শ আটাত্তর সাল। চাঁদপুরের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তখন এক অভাবনীয় নিস্তব্ধতা। কিছু সংখ্যক উদীয়মান ও উৎসাহী যুবককে ভাবিয়ে তুললো। যে চাঁদপুর সাংস্কৃতিক কর্মের দিক দিয়ে আপন মহিমায় ভাস্কর, সে চাঁদপুরে তাঁরা পুনঃগতিশীলতা আনয়নের জন্যে একটি সংগঠন খোলার মনস্থির করেন। আটাত্তর সালের সাতই ডিসেম্বর ‘কম্পন’ সাংস্কৃতিক ও সমাজকল্যাণ প্রতিষ্ঠান- এর প্রতিষ্ঠা ঘোষণা করেন। সাথে সাথে লক্ষ্য-উদ্দেশ্যও স্থির করলেন। আর তা’ হচ্ছেঃ সর্বপ্রকার জাতীয় অনুষ্ঠানাদি পালন, সংস্কৃতির সুষ্ঠু বিকাশের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করা, দেশের প্রকৃত সংস্কৃতির ধারাকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরার প্রচেষ্টা, সকল শিল্পীর মর্যাদা অর্জনে উদ্যোগী হওয়া, অপসংস্কৃতির অনুপ্রবেশ রোধ করা, সমাজসেবায় অংশগ্রহণ, প্রতিভার বিকাশ সাধন, সাহিত্য প্রকাশনায় নিয়োজিত থাকা তথা বাংলাদেশের মানুষের সার্বিক মুক্তির লক্ষ্যে কর্মসূচী প্রণয়ন।

আটাত্তর থেকে ঊননববই। ‘কম্পন’- এর বয়স ইতিমধ্যে এগার বছর পেরিয়ে গেছে। এ দীর্ঘ সময়ে স্বীয় লক্ষ্য-উদ্দেশ্য বাস্ত-বায়নে ‘কম্পন’ ধারাবাহিকভাবে তার কর্মতৎপরতার চালিয়ে গেছে। যোগ্য প্রতিষ্ঠাতাদের উত্তরসূরী হিসেবে এ কর্মতৎপরতা সম্পর্কে শুধু গর্ভভরে একটি কথাই বলা যায় যে, ‘কম্পন’ মানুষের মনে স্পন্দন সৃষ্টি করেছে। কেননা সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের পাশাপাশি ব্যাপকভাবে সমাজকল্যাণমূলক কাজের দৃষ্টান্ত ‘কম্পন’ ছাড়া চাঁদপুরের অন্য কোনো সংগঠন যুগপৎভাবে প্রদর্শন করতে পারেনি।

সংগীত বিদ্যালয় ও দাতব্য চিকিৎসালয় খোলা, নাটক মঞ্চায়ন, গরীব ও মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের বৃত্তি প্রদান, উড়িরচরে জলোচ্ছ্বাসে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে সাহায্য- সামগ্রী বিতরণ, রাষ্ট্রপতির ত্রাণ তহবিলে অর্থ দান, বেওয়ারিশ লাশ দাফন, গরীব মেয়ের বিবাহ সম্পাদনে আর্থিক সাহায্য প্রদান, মেঘনার ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে ত্রাণকার্য পরিচালনা, চক্ষু শিবির পরিচালনায় সহযোগিতা, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মরহুম দেওয়ান হযরত আলী ও কৃতি ফুটবলার সালাউদ্দিন স্মরণে ফুটবর টুর্ণামেন্টের আয়োজন ইত্যাদি হচ্ছে ‘কম্পন’- এর এগার বছরের কর্মকান্ডের উল্লেখযোগ্য দিক। নিয়মিত কার্যক্রম হিসেবে জাতীয় দিবস ও স্বীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনে এবং ঈদ পুনর্মিলনী ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিবস উপলক্ষে ‘কম্পন’ আয়োজন করেছে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ১৯৮৬ সালে জেলা শিল্পকলা একাডেমী আয়োজিত পক্ষকালব্যাপী সাংস্কৃতিক উৎসবে অংশগ্রহণ করে ‘কম্পন’- এর শিল্পীরা পুরস্কৃত হয়েছে।

বলা যায় যে, কম্পন- এর অতীত কর্মকান্ড প্রেরণাদায়ক ও গর্ব করার মত। অতীত থেকে প্রেরণা আহরণ করে এগিয়ে যাওয়াই হবে সঠিক কাজ। ‘কম্পন’- কে প্রতিষ্ঠা করে যাঁরা শক্ত হাতে হাল ধরেছিলেন, তাঁদের কেউই আজ ‘কম্পন’- এর সাথে জড়িত নেই। কেবল জড়িত আছেন কিছু প্রবীণ সদস্য। বলা বাহুল্য, এসব প্রবীণ সদস্যদের উদ্যোগ, উদ্যম আর উৎসাহ এ সংগঠনটিকে দীর্ঘায়ু করেছে।

মফস্বল শহর চাঁদপুর। এখানে যে কোন সাংগঠনিক কর্মকান্ড চালানো বড় কষ্টকর। এর কারণ হচ্ছে নানারকম সীমাবদ্ধতা। তবুও ‘কম্পন’সহ বহু চেষ্টা ও ত্যাগ তিতিক্ষার বিনিময়ে একাদশ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনে ৩ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালা সম্পন্ন করেছে। এর পেছনে চাঁদপুরের সমাজসেবী, বিত্তবান ও উদার চিত্তের অধিকারী কিছু সংস্কৃতিবান মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত  ও সর্বান্ত-রিক সহযোগিতা কাজ করেছে। এজন্যে আমরা তাঁদের নিকট কৃতজ্ঞ। আমরা সর্বোপরি কৃতজ্ঞ আমাদের শ্রদ্ধেয় অতিথিবৃন্দের নিকট যাঁরা আমাদের অনুষ্ঠানে এসে ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিয়ে আমাদেরকে গৌরবান্বিত করেছেন তথা ‘কম্পন’কে পরিয়েছেন ঐশ্বর্য্যে মাল্য। এজন্যে ‘কম্পন’ তাঁদেরকে চিরদিন স্মরণ করবে। কাজী শাহাদাত রচিত সম্পাদকীয় শুভেচ্ছা বাণী অবলম্বনে

বঙ্গবন্ধু আবৃত্তি পরিষদ, চাঁদপুর

 

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ২০০৯ সালে যাত্রা শুরু করে ‘বঙ্গবন্ধু আবৃত্তি পরিষদ’’ নামক একটি ঢাকা কেন্দ্রীক আবৃত্তি সংগঠন। দেশব্যাপী তার যাত্রাকালেই ২০ মার্চ ২০০৯ খ্রিষ্টাব্দে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব পীযূষ কান্তি রায় চৌধুরীকে আহবায়ক ও কে.এম. মাসুদকে সদস্য সচিব করে ১৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। যা ৩ জুলাই ২০০৯ খ্রিষ্টাব্দে কেন্দ্রীয় কমিটি কর্তৃক অনুমোদনের মাধ্যমেই জেলা শাখা চাঁদপুরে তার আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ ঘটে। উক্ত আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠানে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মঞ্চে কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন নিপু, কবি আসলাম সানী, প্রখ্যাত আবৃত্তিকার সমরজীৎ দাশ টুটুল, কাজী শাহাদাতসহ স্থানীয় বিশিষ্টজনরা উপস্থিত ছিলেন।

পরবর্তীতে সংগঠনটি তার নিজস্ব কর্মসূচির পাশাপাশি বিভিন্ন জাতীয়, কেন্দ্রীয়, বিভাগীয়, আঞ্চলিক ও স্থানীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করে। সংগঠনটির ধারাবাহিক কর্মসূচি ও বিভিন্ন জাতীয়, কেন্দ্রীয়, বিভাগীয়, আঞ্চলিক ও স্থানীয় অংশগ্রহণমূলক কর্মকান্ডের মধ্যে উল্লেখযোগ্য- ২০ মার্চ ২০০৯ কেন্দ্রীয় কমিটিতে জেলা প্রতিনিধি হিসেবে যুগ্ম-আহবায়ক অভিজিৎ আচার্যীর যোগদান; ৪ জুন ২০০৯ কুমিল্লা জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে চট্টগ্রাম বিভাগীয় সম্মেলনে আহবায়ক পীযূষ কান্তি রায় চৌধুরীর যোগদান; ১৯ জুন ২০০৯ মহান ভাষা সৈনিক গাজীউল হকের মহাপ্রয়াণে শোক প্রকাশ; ৩০ জুন ২০০৯ চাঁদপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর, আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যনির্বাহী প্রেসিডিয়াম ও গুরুত্বপূর্ণ সম্পাদকীয় পদে মনোনীত হওয়ায় ফুলেল শুভেচ্ছা প্রদান; ১৭ আগষ্ট ২০০৯ চঁদপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৩৪তম শাহাদাৎ বার্ষিকী পালন করা হয়; ৬, ৭ নভেম্বর ২০০৯ ফেনী জেলা শাখার আঞ্চলিক কর্মশালায় কে.এম. মাসুদ ও সিগমা হাসান কনকের যোগদান; ১৬ ডিসেম্বর ২০০৯ মহান মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা উপলক্ষে অঙ্গীকার পাদদেশে শুদ্ধ নিবেদন; ২০ ডিসেম্বর ২০০৯ মহান মুক্তিযুদ্ধের বিজয় মেলা মঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আবৃত্তি ও সংগীত পরিবেশন; ২১ ডিসেম্বর ২০০৯ জেলা শিল্পকলা একাডেমি মঞ্চে ২০ ডিসেম্বর ২০০৯ মহান মুক্তিযুদ্ধের বিজয় জেলা মঞ্চে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী কলাকুশলীদের অনুষ্ঠান পরবর্তী পুনর্মিলনী।

বঙ্গবন্ধু আবৃত্তি পরিষদ চাঁদপুর ৩ জানুয়ারি ২০১০ কমিল্লা টাউন হলে চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রতিনিধি সভায় যুগ্ম-আহবায়ক মোঃ আবু সায়েম ও ম. নূরে আলম পাটওয়ারীর যোগদান; ২৩ জানুয়ারি ২০১০ চট্টগ্রামের ডি.সি হিলে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কবিতা আবৃত্তি উৎসবে জেলা প্রতিনিধি সভার আহবায়ক পীযূষ কান্তি রায় চৌধুরী, মোঃ আবু সায়েম, ম. নূরে আলম পাটওয়ারীর যোগদান ও ম. নূরে আলম পাটওয়ারী’র এককভাবে কবিতা আবৃত্তি; ১২,১৩ মার্চ ২০১০ চাঁদপুর ল’ কলেজে আবৃত্তি কর্মশালায় প্রশিক্ষণ প্রদান; ১৭ মার্চ ২০১০ বঙ্গবন্ধুর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে জেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আবৃত্তি অনুষ্ঠানমালা উপস্থাপন; ১৯ মার্চ ২০১০ জেলা শিল্পকলা একাডেমি মঞ্চে ‘দৈনিক আমাদের কুমিল্লা’ পত্রিকার আয়োজনে তিন দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক উৎসব’১০ এ আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বৃন্দআবৃত্তি পরিবেশন; ২৬ মার্চ ২০১০ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালি ও মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদের সাথে যৌথ অনুষ্ঠানে উন্মোক্ত আবৃত্তি পরিবেশন; ২৬ আগস্ট ২০১০ বাংলাদেশ টেলিভিশনে সংগঠনের সদস্যদের পরিবেশনায় বৃন্দ আবৃত্তি ও আহবায়ক পীযূষ কান্তি রায় চৌধুরী’র বিশেষ সাক্ষাতকার রেকর্ডিং করা হয়। যা ২২ সেপ্টেম্বর ২০১০ তারিখে বাংলাদেশ টেলিভিশনে সম্প্রচার করা হয়। উক্ত বৃন্দ আবৃত্তির সদস্যরা হলেন মোঃ আবু সায়েম, ম. নূরে আলম পাটওয়ারী, গোলাম হোসাইন রাবিব, শাহ মোঃ নেয়ামুল হক, শ্যামা ভট্টচার্য, আবু বকর সিদ্দিক, রিফাত সামিরা চৌধুরী, পল্লবী কর্মকার তিথি, হালিমা নাহিদ রাত্রি। তাছাড়াও ২০১০ সালে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ টেলিভিশনে এককভাবে কবিতা আবৃত্তি করে সাবেকুন নাহার মানাল, শ্যামা ভট্টচার্য, গোলাম হোসাইন রাবিব; ১১,১২ ফেব্রুয়ারি ২০১১ জেলা মেডিক্যাল এসোসিয়েশন ভবনে দুইদিন ব্যাপী আবৃত্তি কর্মশালা প্রদান ও ১৩ ফেব্রুয়ারি জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে দিন ব্যাপী প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা, সনদপত্র ও পুরস্কার বিতরণ; ২০ ফেব্রম্নয়ারি জেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জেলা প্রশাসন আয়োজনে ৫ দিন ব্যাপী বই মেলা ও একুশ উদযাপন অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের আহবানে বঙ্গবন্ধু আবৃত্তি শিল্পীবৃন্দ সদস্যদের বৃন্দ আবৃত্তি পরিবেশন; ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১১ কুমিল্লা জেলা টাউন হল বিজয় মঞ্চে, টাউন হল কর্তৃক আয়োজিত বই মেলায় আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে কবিতা আবৃত্তি করেন অভিজিৎ আচার্যী; পুনরায় ২৫ মার্চ ২০১১ কুমিল্লা জেলা প্রশাসন ও কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমীর যৌথ আয়োজনে টাউন হল মঞ্চে মহান স্বাধীনতা ও বিজয় দিবস আয়োজিত অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে কবিতা আবৃত্তি করেন অভিজিৎ আচার্যী; ১৭ মার্চ ২০১১ বঙ্গবন্ধু জন্মবার্ষিকীতে চাঁদপুর জেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পূর্ব পাশে অস্থায়ীভাবে নির্মিত বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও সন্ধ্যায় জেলা শিল্পকলা একাডেমি মঞ্চে সদস্যদের আবৃত্তি পরিবেশন; ৩১ মার্চ ২০১১ সন্ধ্যা ৬.৩০ মিনিট জেলা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মহান স্বাধীনতা ও বিজয় দিবস উপলক্ষে ‘ইতিহাসে আবৃত্তি কথা বলে’ শীর্ষক এক মনোজ্ঞ আবৃত্তি অনুষ্ঠানমালা পরিবেশন; জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা শিল্পকলায় ২০১১ সালে রবীন্দ্র সার্ধশত বার্ষিকীতে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ এবং ১ম, ২য়, ৩য় পুরস্কার সহ ৭টি পুরস্কার অর্জন করে। বঙ্গবন্ধু লেখক ও বঙ্গবন্ধু আবৃত্তি পরিষদ যৌথভাবে আবৃত্তি স্ক্রিটের মাধ্যমে আবৃত্তি পরিবেশন করে। ১৪১৮ বঙ্গাব্দে বর্ষবরণ উদযাপনে কবিতা বুলেটিন প্রকাশ ও শুভেচ্ছা বিনিময়। ২৬ মে ২০১১ জাতীয় কবি নজরুল ইসলামের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে কবিতা আবৃত্তি ও সংগীত  পরিবেশন করে। জাতীয় সাংস্কৃতিক উৎসবে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে জারিগান কবিতা আবৃত্তি ও সংগীত পরিবেশন করে। চাঁদপুর লেখক পরিষদ আয়োজিত নজরুল জয়ন্তী সাহিত্য একাডেমিতে পালন করে গত ৩ জুন ২০১১ আছিয়া আক্তার ও মুনমুন কবিতা আবৃত্তি করে। ’৭২ সালের সংবিধান রক্ষাকল্পে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা সড়কে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। ১৪ জুন ২০১১ বঙ্গবন্ধু আবৃত্তি পরিষদ যুদ্ধাপরাধীর বিচার তরান্বিত করতে মানবন্ধনে সাংস্কৃতিক শিল্পীবৃন্দের সাথে বঙ্গবন্ধু আবৃত্তি পরিষদ জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সম্মুখে মানববন্ধন করে। উদীচী, সুরধ্বনী, চতুরঙ্গ, চাঁদপুর ললিতকলা প্রভৃতি সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো উপস্থিত ছিল। কেন্দ্রীয় শিল্পকলা একাডেমিতে সারাদেশব্যাপী আয়োজিত সাংস্কৃতিক সমন্বয় পরিষদ চাঁদপুর আগমন উপলক্ষে চাঁদপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে আয়োজিত সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বঙ্গবন্ধু পরিষদ ১ম ও ২য় স্থান অর্জন করে। সমন্বয় পরিষদের বিভাগীয় প্রতিযোগিতায় ১ম স্থান অধিকারী আছিয়া আক্তার অংশগ্রহণ করে। চতুরঙ্গের ইলিশ উৎসব ২০১১ তে বঙ্গবন্ধু আবৃত্তি পরিষদ কবিতা আবৃত্তিতে ১ম, ২য়, ৩য় ও ৪র্থ স্থান দখল করে। ২০১১ বঙ্গবন্ধু আবৃত্তি পরিষদের ইফহার মাহফিল অস্থায় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। ব্যবস্থাপনায় আবু সায়েম ও ম. নূরে আলম পাটওয়ারী। ১৫ আগস্ট ২০১১ সংগঠনের সদস্য শ্যামা ভট্টচার্য বিটিভিতে আবৃত্তি করে থাকে। কেনদ্রীয় কমিটির সাথে আলোচনা সাপেক্ষে বিভাগীয় চিঠির মাধ্যমে গত ৩ বৎসরে আহবায়ক কমিটির কার্যক্রমকে ধন্যবাদ জানিয়ে বিলুপ্ত করার নির্দেশ দিয়ে নতুন কার্যকরী কমিটি গঠন করার জন্য অনুরোধ করে। গত ৭ আগস্ট ২০১১ বঙ্গবন্ধু আবৃত্তি পরিষদ চাঁদপুর জেলা শাখা আহবায়ক কমিটি বিলুপ্ত করে সাধারণ সদস্যদের উপস্থিতিতে ২৯ সদস্য বিশিষ্ট একটি পুর্ণাঙ্গ কার্যকরী কমিটি সর্বসম্মতিক্রমে গঠন করে। দৈনিক চাঁদুপুর দর্পণের যুগপূর্তি উৎসব ২০১১ উপলক্ষে চাঁদপুর জেলা সাতিহ্য সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় সদর উপজেলার প্রতিযোগিতায় আবৃত্তি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে বঙ্গবন্ধু আবৃত্তি পরিষদের আবৃত্তিকার আছিয়া আক্তার ১ম, আফসানা মুনমুন ২য়, জেরিন জামিল ডোনা ৩য় স্থান দখল করে নেয়।

 

শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি, সমাজেবিজ্ঞানী, কবি-দার্শনিক চিন্তানায়ক অখন্ড মন্ডলেশ্বর শ্রীশ্রীমৎ স্বামী স্বরূপানন্দ পরমহংসদেব

 

সম্পর্কে দু’টি কথা

 

নিজ জীবনে স্বার্থকরূপ দান করে যিনি সকলকে আপন করলেন তিনি হলেন এই বাংলা মায়ের এক শ্রেষ্ঠ সন্তান অখন্ড মন্ডলেশ্বর শ্রীশ্রীমৎ স্বামী স্বরূপানন্দ পরমহংসদেব। জন্ম তাঁর চাঁদপুর শহরে অবস্থিত পুরাণ আদালত পাড়ায়, ঊনবিংশ শতকের শেষভাগে, প্রসিদ্ধ গাঙ্গুলী পরিবারে। পিতামহ প্রতিথযখা ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, অতিথিপরায়ণ ব্যবহারজীবী হরিহর গঙ্গোপাধ্যায়, পিতা তৎকালীন প্রখ্যাত স্বভাব কবি ও গায়ক সতীশ চন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়, মাতা মমতা দেবী। পিতা-মাতার জ্যেষ্ঠ সন্তান স্বামী স্বরূপানন্দ পরমহংসদেবের পূবর্বাশ্রমের নাম বঙ্কিম গঙ্গোপাধ্যায়, আদর করে ডাকা হত বল্টু বলে।

বিংশ শতাব্দীর তৃতীয় দশকের কথা। ব্রিটিশ ভারত জুড়ে চলছিল পরাধীনতার শৃংখল ভাংগার আন্দোলন, এর মধ্যে বাংলার অকুতোভয় বিপ্লবীরা ছিলেন অগ্রগণ্য। বিপ্লবীদের হাতে পাওয়া যেত স্বামী স্বরূপানন্দের বিরচিত গ্রন্থ- ‘কর্ম্মের পথে’, ‘কর্ম্মভেরী’, ‘পথের সাথী’, ‘পথের সন্ধান’, ‘সাধন পথ’, ‘পথের সঞ্চয়’।

সমাজ ও সুন্দর জীবন গঠনের জন্য বিভিন্ন আধ্যাত্মিক মতবাদের নির্যাসের সুমন্বয় ঘটেছে তাঁর সর্বজনীন মহাগ্রন্থ ‘অখন্ড সংহিতা’- ২৪টি খন্ডে। আরও ৭৬টি গ্রন্থ প্রকাশে অপেক্ষমান। এছাড়াও ‘গুরু’, ‘বিবাহিতের ব্রহ্মচর্য্য’, ‘বিবাহিতের জীবন সাধনা’, ‘সধবার সংযম’, ‘বিধবার জীবনযজ্ঞ’ ইত্যাদি পুস্তকও তিনি প্রণয়ন করেন।

শ্রীশ্রীমৎ স্বামী স্বরূপানন্দ পরমহংসদেব একাধারে সাহিত্যিক-কবি-দার্শনিক-বাগ্মি ও সংগীতজ্ঞ (সুরকার-গীতিকার-গায়ক)। তাঁর স্বকণ্ঠে গীত ২টি গান রেকর্ডকৃত এবং প্রায় দুইশতাধিক গানের স্বরলিপি প্রদান করেছেন এবং বহু সংগীতের সুরারোপ করেছেন, তাঁর বিরচিত ৪টি সংগীতের গ্রন্থ আছে- ‘মন্দির’, ‘মূর্চ্ছনা’, ‘মধুমাল্লার’। তাঁর নিজ পরিচালনায় ৬টি লং প্লেইং রেকর্ড প্রকাশিত হয়েছে।

সমাজ-জীবনে বহুবিধ সমস্যার প্রেমপূর্ণ সুসমাধান তিনি প্রদান করেছেন। তাঁর আর এক বিরাট সৃষ্টি-স্বরূপানন্দ পত্র সাহিত্য- ‘‘ধৃতং প্রেমণায়’’- যা ৩৮ খন্ডে প্রকাশিত হয়েছে। অতি সম্প্রতি এই পত্র সাহিত্যের উপর গবেষণা করে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় হতে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেছেন শ্রীমতী অঞ্জলি দত্ত রায় নামে এক বিদুষী ভদ্র মহিলা।

মহান চিন্তানায়ক স্বরূপাননেদর কর্মধারা সম্পূর্ণ রাজনীতি নিরপেক্ষ। অথচ তাঁরই দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধকারিনী লেখনী ছিল বিপ্লবী যুবকদের প্রেরণার উৎস। তিনি একাধারে সমাজ বিজ্ঞানীও। তাই তিনি ১৯১৪খ্রিঃ চরিত্র গঠন আন্দোলন এর কর্মসূচি প্রণয়ন করেন। তৎ মর্মে জীবনের ‘প্রথম প্রভাত’, ‘আদর্শ ছাত্র জীবন’, ‘কুমারীর পবিত্রতা’- ৬ষ্ঠ খন্ডে, ‘আত্মগঠন’, ‘সংযম সাধনা’, ‘প্রবৃদ্ধ যৌবন’, ‘সরল ব্রহ্মচর্য্য’, ‘দিনলিপি’, ‘বনপাহাড়ের চিঠি’- ২ খন্ডে, শান্তিরবারতা- ২ খন্ডে প্রণয়ন করেছেন।

তাঁহার প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানের নাম অযাচক আশ্রম (অযাচক আশ্রম-বাংলাদেশ, ফিলানথ্রোফিক ট্রাস্ট)। এবং সংগঠনের নাম- বাংলাদেশ অখন্ড সংগঠন। ‘‘স্বরূপানন্দ সাহিত্য ও সংগীত পরিষদ’’ নামে এর একটি সংস্কৃতি বিষয়ক অঙ্গসংগঠন রয়েছে।

চাঁদপুরেও অযাচক আশ্রমে ‘‘কিশলয় সংগীত স্কুল’’ নামে একটি সংগীত শিক্ষার প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এ প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক হচ্ছেন আশ্রমের অধ্যক্ষ এবং সঙ্গীত শিক্ষক হচ্ছেন শ্রী শান্তি রক্ষিত।

স্বামী স্বরূপানন্দ পরম হংসদেবের রচিত গ্রন্থাবলীর পূর্ণাঙ্গ তালিকা নিম্নে প্রদত্ত হলঃ

‘অখন্ড সংহিতা-১ম খন্ড’, ‘অখন্ড সংহিতা- ২য় খন্ড’, ‘অখন্ড সংহিতা-৫ম খন্ড’, ‘অখন্ড সংহিতা ২১-২৩ খন্ড’, ‘জীবনের প্রথম প্রভাত’, ‘আত্মগঠন’, ‘আদর্শ ছাত্রগঠন’, ‘অসংযমের মূলোচ্ছেদ’, ‘আপনার জন’, ‘দিনলিপি, ‘প্রবুদ্ধ যৌবন’, ‘সংযম সাধনা’, ‘স্ত্রী-জাতিতে মাতৃভাব’, ‘সরল ব্রহ্মচর্য্য’, ‘কুমারীর পবিত্রতা ১ম, ২য়, ৩য় খন্ড’, ‘কুমারীর পবিত্রতা ৪র্থ, ৫ম, ৬ষ্ঠ খন্ড’, ‘নবযুগের নারী’, ‘কর্ম্মের পথে’, ‘কর্ম্মভেরী’, ‘সাধন পথে’, ‘পথের সাথী’, ‘পথের সন্ধান’, ‘পথের সঞ্চয়’, ‘গুরু’, ‘সমবেত উপাসনা’, ‘বিবাহিতের ব্রহ্মচর্য্য’, ‘বিবাহিতের জীবন সাধনা’, ‘সধবার সংযম’, ‘মন্দির’, ‘মঙ্গল মুরলী’, ‘মূর্চ্ছনা’, ‘মধু মল্লার’, ‘বন-পাহাড়ের চিঠি’, ‘বিধবার জীবন যজ্ঞ’, ‘সর্পাঘাতের চিকিৎসা’, ‘The Message of Love’‘স্বরূপানন্দ সঙ্গীত স্বরলিপি’, ‘দশবিধ সংস্কার’, ‘অখন্ড সাধনে দীক্ষা’, ‘ওঙ্কার তত্ত্ব’, ‘নাথ তত্ত্ব’, ‘নাম মাহাত্ম্য’, ‘পরমপ্রভুর চরণ পদ্মে’, ‘বাবামণির শ্রীচরণ সঙ্গে’, ‘অখন্ড বিধিতে শুভ বিবাহ প্রকরণ’।

 টাউন হলের প্রতিষ্ঠাতা ও উদ্যোক্তা

চাঁদপুর টাউন হলের উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠাতাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেনঃ হরদয়াল নাগের পুত্র মনকুমার নাগ, মোক্তার ইন্দুভূষণ গুহ, সাধুচরণ ওয়াস্তী, এ্যাডঃ বিমল চন্দ্র বসু ও স্বনামখ্যাত সমাজসেবী আবদুর রহমান।

চাঁদপুরের সর্বশ্রেষ্ঠ পাঠাগার চাঁদপুর পৌর পাঠাগার।

 

প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, ১৯২৫-২৬ সালে ফণী মুখার্জীকে সম্পাদক করে প্রতিষ্ঠিত কমার্শিয়াল ক্লাবটি সঙ্গীত চর্চার প্রয়োজনেই ‘‘পূর্ণিমা সম্মেলনী’’ নামে নামান্তরিত হয়। অবশ্য এরও বহুপূর্বে ১৯০১ সালে কালীচরণ ওয়াস্তীর অক্লান্ত প্রচেষ্টায় ও অর্থানুকুল্যে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘‘চন্দ্রলোক সঙ্গীত সম্প্রদায়’’। এই প্রতিষ্ঠানটি অনেক সুপ্ত প্রতিভার সার্থক বিকাশে যুগিয়েছিল উৎসাহ, উদ্দীপনা, করেছিল সাহায্য সহযোগিতা।  এরই ফলশ্রুতিতে উদয় শঙ্করের সুযোগ্য ছাত্র ভারত নাট্যমের বিশিষ্ট শিল্পী অরুণ বসু, দীননাথ বসু ও গিরীন্দ্র বসু প্রমুখ ব্যক্তিগণ দেশে বিদেশে কুঁড়িয়েছেন প্রচুর প্রশংসা। বোয়ালিয়া, বরদিয়া, বহরিয়া, বাজাপ্তি, বলাখাল, বাবুরহাট, বাকিলা প্রভৃতি ‘ব’ আদ্যাক্ষর বিশিষ্ট গ্রামগুলি (অজ্ঞাত কারণে) ও কচুয়ার সাচার ছিল গ্রামাঞ্চলে সঙ্গীত যাত্রা চর্চার প্রধান প্রধান কেন্দ্র। ওস্তাদ আলাউদ্দিন খান ও মোহাম্মদ হোসেন খসরু এসেছেন চাঁদপুরে, দিয়েছেন প্রশিক্ষণ।

২০০২ সালে চাঁদপুরে সর্বপ্রথম ৩ দিনব্যাপী জাতীয় রবীন্দ্র সঙ্গীত সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ সম্মেলনে দিল্লী, কোলকাতা, আগরতলা সহ সারাদেশের প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, কবি, সাহিত্যিক, সংগীতশিল্পী এবং কলাকুশলীবৃন্দ অংশগ্রহণ করেছিলেন। এ ধরনের সম্মেলন চাঁদপুরে হতে আবার সময় লাগবে প্রায় ৪০ বৎসর।

সাহিত্য একাডেমী

একটি জাতির মূল্যবোধ ও পরিচয়কে বহন করে সে জাতির নিজস্ব সাহিত্য ও সংস্কৃতি চিন্তা। আর জন্যই বোধ করি বলা হয়ে থাকে, সাহিত্যই জাতির বৃহত্তর দর্পণ। কিন্তু অপ্রিয় হলেও সত্যি যে, আমাদের দেশে সাহিত্যের চর্চা ও অনুশীলনের ক্ষেত্র ব্যাপকভাবে গণ মানুষের জীবনকে অধিকার করেনি। রাজধানী ও দু’ একটি বড় শহরের মধ্যেই সাহিত্যের ভাবনা চিন্তা সীমাবদ্ধ। সাহিত্য চর্চার এ ক্ষেত্রকে প্রসারিত করে দেয়ার উদ্দেশ্যেই সাহিত্য একাডেমী, চাঁদপুর- এর আনুষ্ঠানিক জন্ম। কতিপয় প্রবীণ ও নবীন সাহিত্য সেবীর আগ্রহকে সম্বল করে বিগত ১৯৮৬ সালের ৬ই জুলাই গঠিত হয় সাহিত্য একাডেমী, চাঁদপুর। এই সাহিত্য একাডেমী প্রতিষ্ঠার পূর্বে ১৯৮৪ সালে নির্ঝর সাহিত্য চক্র, নির্ঝর মাসিক সাহিত্য সাময়িকী প্রকাশ করে। এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন অধ্যাপক খুরশেদুল ইসলাম (প্রাক্তন অধ্যক্ষ, চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজ), প্রয়াত অধ্যাপক কবি জাকির হোসেন, কাজী শাহাদাত, কাজী নজরুল ইসলাম নজু, আবদুল্লাহেল কাফী, সলিমউল্লাহ সলিম প্রমুখ ব্যক্তিবর্গ। নির্ঝর মাসিক সাহিত্য সাময়িক পত্রের উদ্যোগে চাঁদপুর গণি উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৯৮৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে সাড়ম্বরে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উপরোক্ত ব্যক্তিবর্গ উক্ত অনুষ্ঠানে সাহিত্য চর্চার ক্ষেত্র প্রসারিত করার লক্ষ্যে চাঁদপুরে একটি সাহিত্য একাডেমী প্রতিষ্ঠা করার প্রস্তাব তুলেন। এই অনুষ্ঠানটি বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয় এবং তৎকালীন জেলা প্রশাসক এস.এম. সামছুল আলম মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। জেলা প্রশাসক মহোদয় উৎসাহিত হয়ে খুরশেদুল ইসলাম সহ সংশিস্নষ্ট ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে এই ব্যাপারে আলোচনা করেন। পরবর্তী সময়ে চাঁদপুরের শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতি অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে এক সভায় উপস্থিত থাকার আহবান জানান। এ সভাতেই সাহিত্য একাডেমী প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। বর্তমান সাহিত্য একাডেমী ভবনের পূর্বে মিশন রোডে একটি দালানে সাহিত্য একাডেমীর কার্যক্রম শুরু হয়। ১৯৮৬ সালে মিশনরোডস্থ গিরিধামে উদ্বোধন করা হয়। ১৯৮৮ সালে সাহিত্য একাডেমী ভবন নির্মিত জোড়পুকুর পাড়ে। প্রথম দিকে সাহিত্য একাডেমী অত্যন্ত সক্রিয় ছিল। পরবর্তী সময়ে এমনকি মাঝখানে অনেকটা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। ২০০৮ সালে কয়েক বছর নিয়মিত সাহিত্য পাঠের আসর বসে এবং নবীন-প্রবীণ লেখকরা এই সাহিত্য আসরে উপস্থিত হন। এখন বিশেষ বিশেষ দিনে বিশেষ অনুষ্ঠান পালন করা হয়। সাহিত্য একাডেমীতে অনেক দুর্লভ পুস্তক নিয়ে একটি পাঠাগারও আছে।

শিল্পকলা একাডেমী

পাকিস্তান আমলে সরকারি উদ্যোগে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য প্রতিষ্ঠিত হয় পাকিস্তান আর্টস কাউন্সিল। পূর্ব পাকিস্ত-ানে এর নাম ছিল পূর্ব পাকিস্তান আর্টস কাউন্সিল। চাঁদপুরেও এর শাখা গড়ে উঠে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার অব্যবহিত পরে পূর্ব পাকিস্তান আর্টস কাউন্সিল এর নাম পরিবর্তন করে নাম রাখা হয় বাংলাদেশ আর্টস কাউন্সিল। পরবর্তীতে এ প্রতিষ্ঠানটি শিল্পকলা একাডেমী নামে নামাঙ্কিত হয়। চাঁদপুর শাখার নাম হয় চাঁদপুর শিল্পকলা একাডেমী। সরকারি বিভিন্ন দিবস উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সংগঠনে এ প্রতিষ্ঠানটি মূল ভূমিকা পালন করে। প্রয়াত ডাঃ নুরুর রহমান, সংস্কৃতি সংগঠক অজয় কুমার ভৌমিক সহ বেশ কয়েকজন এ প্রতিষ্ঠানের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক সংগঠক অজয় কুমার ভৌমিক সুদীর্ঘকাল যাবৎ এ প্রতিষ্ঠানের সাধারণ সম্পাদকের (মনোনীত) দায়িত্ব পালন করেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে একবার মাত্র এ প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন হয় এবং নির্বাচিত কমিটি দায়িত্ব পালন করেন। বিগত বেশ কয়েক বছর যাবত অ্যাডহক কমিটি দ্বারা প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হয়ে আসছে। এ প্রতিষ্ঠানে নিয়মিতভাবে সঙ্গীত, নৃত্য, নাটক, কবিতা আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কনসহ সংস্কৃতির বিভিন্ন শাখায় চর্চা করা হয় ও প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।

শিশু একাডেমী

শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের লক্ষ্যে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৪ সালে তৎকালীন শিল্প, সাহিত্য, সংস্কৃতি অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে একটি ধারণাপত্র প্রণয়নের আহবান জানান এবং এর আলোকে শিশু একাডেমী গঠনের অনুকূলে একটি রূপরেখা তৈরি হয়। কিন্তু ১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্ট স্বপরিবারে বঙ্গবন্ধু শাহাদাত বরণ করায় এই কার্যক্রম আর অগ্রসর করা যায়নি। ওই রূপরেখার আলোকে পরবর্তী সময়ে ১৯৭৬ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে শিশু একাডেমী প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৯৩ সাল থেকে চাঁদপুরে জেলা শিশু একাডেমীর কার্যক্রম শুরু হয়। শিশু একাডেমীতে নৃত্য, কণ্ঠসংগীত, আবৃত্তি ও চিত্রাঙ্কন বিষয়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। এ প্রতিষ্ঠানটি প্রতি বৎসর জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতার আয়োজন সহ শিশুদের মানসিক উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে আসছে। বিভিন্ন জাতীয় দিবস উপলক্ষে শিশু একাডেমী প্রতি বৎসর নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে। শিশু একাডেমী শীত ও বর্ষাকালে কয়েক দিন ব্যাপী নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে। এ প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনার জন্য জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা নিয়োজিত আছেন। বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয় চাঁদপুর স্টেডিয়ামের মূল প্যাভিলিয়নের নীচতলায় অবস্থিত।

 

চাঁদপুর অংকুর কচি-কাঁচার মেলার প্রতিষ্ঠার ইতিকথা

 

১৯৫৬ সনের ৫ই অক্টোবর ঢাকা হাটখোলা এলাকায় মহিলা কবি বেগম সুফিয়া কামালের তারাবাগ বাড়ির পুকুর পাড়ে গাছ-গাছালির নিচে ইত্তেফাক পত্রিকার শিশু বিভাগের সম্পাদক রোকনুজ্জামান খান (দাদা ভাই), বেগম সুফিয়া কামাল, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন, পল্লী কবি জসিম উদ্দিন, আব্দুল ওয়াদুদ, ড. আল- মূতী শরফউদ্দিন, অধ্যাপক অজিত কুমার গুহ সহ বেশ ক’জন তরুণ কচি-কাঁচার মেলা নামক একটি শিশু সংগঠন গড়ে তুলেন। পরবর্তীতে ঐ সংগঠনটির নাম করণ করা হয় কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলা।

কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলা গঠনের এক বছরের মাথায় চাঁদপুরে প্রতিষ্ঠা লাভ করে অংকুর কচি-কাঁচার মেলা। ১৯৫৭ সনের ৭ জুলাই তৎকালীন জুবলী হাই স্কুল (বর্তমানে চাঁদপুর হাসান আলী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়) কক্ষে অংকুর কচি-কাঁচার মেলা গঠন করা হয়। ঢাকার বাইরে চাঁদপুরই প্রথম কচি-কাঁচার মেলা শাখা গঠন হয়। প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে যারা এ রূপরেখার সাথে এবং সংগঠনের সাথে বিভিন্নভাবে জড়িত ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম প্রখ্যাত সাংবাদিক আহমেদ জামান চৌধুরী (আজাচৌ), শিল্পী হাশেম খান, অরুণ কুমার নন্দী, মিয়া মোঃ আব্দুল খালেক, আব্দুল বাসেত, প্রিয়লাল, মোস্তাফিজুর রহমান, অপূর্ব প্রমুখ। শিশু সংগঠনটি গড়ে ওঠার পর পর্যায়ক্রমে পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন অধ্যাপক ছৈয়দ আঃ ছাত্তার, অধ্যাপক জালাল উদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক হেলাল উদ্দিন আহমেদ, কামরুজ্জামান চৌধুরী, অধ্যাপক মোঃ হোসেন খান এবং এমএ মাসুদ ভূঞা।

১৯৭৩ সনে অংকুর কচি-কাঁচার মেলার ব্যপ্তি ঘটাতে চাঁদপুরে আসেন সওগাত সম্পাদক নাছির উদ্দিন আহমেদ, বেগম সুফিয়া কামাল, রোকনুজ্জামান খান (দাদা ভাই)। ঐ সময়ে অংকুর কচি-কাঁচার মেলাকে চাঁদপুরের কেন্দ্রীয় মেলা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে বেশ ক’টি শাখা মেলা গঠনের প্রস্তাব সর্বসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সে লক্ষে চাঁদপুর শহরে তালতলা বর্ণালী কচি-কাঁচার মেলা, মাতৃপীঠ শতদল কচি-কাঁচার মেলা, লেডী প্রতিমা দোলনচাঁপা কচি-কাঁচার মেলা, আলীমপাড়া সূর্য কচি-কাঁচার মেলা, ফিশারী মৎস্যাঙ্গন কচি-কাঁচার মেলা, আদালতপাড়া রঙ্গম কচি-কাঁচার মেলা, নদীর পাড় কলতান কচি-কাঁচার মেলা, মুন্সেফপাড়া মধ্যমণি কচি-কাঁচার মেলা, শহীদ জাবেদ মেঘনা পাড় কচি-কাঁচার মেলা, পুরানবাজার উদয়ন কচি-কাঁচার মেলা ও ইলশেপাড় কচি-কাঁচার মেলা, শাহ্তলী নীল পাখী কচি-কাঁচার মেলা, মৈশাদী শিশির কচি-কাঁচার মেলা, চান্দ্রা বাজার সবুজ প্রাণ কচি-কাঁচার মেলা। এ ছাড়া মতলবে সূর্যমুখী কচি-কাঁচার মেলা, ফরিদগঞ্জে নবীন কচি-কাঁচার মেলা, রহিমা নগরে সত্য সুন্দর কচি-কাঁচার মেলা ও পল্লী স্মৃতি কচি-কাঁচার মেলা গঠন করা হয়।

শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের লক্ষে ক্রীড়া, সাহিত্য, সাংস্কৃতিক, সমাজসেবা, কৃষি, শিক্ষাসহ নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে আসছে। এ সংগঠনের প্রতিষ্ঠাকাল থেকে জাতীয় শিক্ষা শিবির, বিশেষ প্রশিক্ষণ এবং বর্হি বিশ্বে অনেক ভাই-বোন অংশ গ্রহণ ও ভ্রমন করেছে। এমনকি চাঁদপুরে প্রতিষ্ঠাকাল থেকে এ যাবৎ এ সংগঠনের সুনাম সর্ব মহলে গ্রহণ যোগ্যতা রয়েছে।

 

খেলাঘর আসর, চাঁদপুর

‘খেলাঘর আসর একটি জাতীয় শিশু-কিশোর সংগঠন। ১৯৫২ এর মহান ভাষা আন্দোলনের চেতনায় খেলাঘর আসরের জন্ম হয়। শিশুরা বিশ্বের আশা। কিশোররা জাতির আগামীদিনের কর্ণধার। বাংলাদেশের শিশু-কিশোরদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হলে প্রয়োজন তাদের শরীর ও মনের পরিপূর্ণ বিকাশ সাধন। খেলাঘর সেই বিকাশের জন্য কাজ করে যাচ্ছে।

১৯৭৪ সালের ২রা মার্চ চাঁদপুর সরকারি কলেজের প্রাক্তন অধ্যাপক সৈয়দ আঃ সাত্তার এর প্রচেষ্টায় চাঁদপুর জেলায় খেলাঘর আসরের জন্ম হয়। তিনি তাঁর কলেজের ছাত্র তপন সাইদ, নজরুল ইসলাম নসু, রূপণ রায় চৌধুরী, খলিলুর রহমান জাকির, হোসাইন আহম্মেদ দুলাল, শ্যামসুন্দর মন্ডল, হেদায়েত উল্যা, জাহাঙ্গীর কবির কাঁকন, তপন সেনগুপ্ত, অরুণ কর্মকার এবং অন্যদের নিয়ে চাঁদপুরে খেলাঘর আন্দোলনের বিস্তার ঘটান। চাঁদপুরে প্রথমে খেলাঘর আসরের শাখা আসরগুলো ছিল ‘ইলশে গুড়ি খেলাঘর আসর’, ‘মেঘনাপাড় খেলাঘর আসর’, ‘গাংচিল খেলাঘর আসর’। পরবর্তীতে আরো খেলাঘরের বিভিন্ন শাখা আসরের প্রসার ঘটে। বর্তমানে চাঁদপুর জেলায় খেলাঘরের ১৩টি শাখা আসর রয়েছে। খেলাঘর আসরের ৫১ সদস্যবিশিষ্ট চাঁদপুর জেলা কমিটি রয়েছে। জেলা কমিটির সভাপতি হাফেজ আহমেদ এবং সাধারণ সম্পাদক শ্যামসুন্দর মন্ডল। চাঁদপুরে খেলাঘর আসর যথাযোগ্য মর্যাদায় ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস, ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস, ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন সহ বাংলা নববর্ষ অনুষ্ঠান, খেলাঘর আসরের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী, শহীদ বুদ্ধিজীবি দিবস, জাতীয় শিশু দিবস, জাতীয় শিশু মেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসবসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে।

খেলাঘর আসর শুধু দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক মন্ডলেও এর পদচারণা। বিশ্বের বিভিন্ন শিশু সংগঠনের সাথে এর বন্ধন রয়েছে। বিশ্ব ভারতীয় শিশু-কিশোর সংগঠন সব পেয়েছি আসরের আমন্ত্রণে ‘শিশু সাংস্কৃতিক উৎসবে’ খেলাঘরের শিশুরা প্রতি বছর ভারতের কলকাতায় অংশগ্রহণ করে। এদের মধ্যে রয়েছেন রুমা সরকার (ঐকতান আসর), বিপাসা সাহা (ঐকতান আসর), ফাতেমাতুজ জান্নাত (বণানী খেলাঘর আসর), মৃণাল সরকার (বণানী খেলাঘর আসর), অনন্যা সরকার তিথি (বণানী খেলাঘর আসর), সাবিয়া খানম স্বর্ণা (বণানী খেলাঘর আসর), কাবেরী চক্রবর্তী জয়া (সাতফুল খেলাঘর আসর)। আগামী ৩০ ডিসেম্বর ২০১১ইং থেকে ৭ই জানুয়ারী ২০১২ পর্যন্ত ভারতের সব পেয়েছি আসরের আমন্ত্রণে শিশু সাংস্কৃতিক উৎসবে ‘ঐকতান’ আসরের কাব্য কণিকা ঘোষ অংশগ্রহণ করবে।

 

চাঁদের হাট

শিশু সংগঠন

শিশু-কিশোরদের সুপ্ত প্রতিভাকে বিকাশিত করে ভবিষ্যতের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়াসে ১৯৭৪ সালের ১৪ই আগস্ট চাঁদপুরে অধ্যাপক হুমায়ুন আজাদকে আহবায়ক ও ফরিদউদ্দিন কে যুগ্ম আহবায়ক করে চাঁদের হাট- এর চাঁদপুর শাখা গঠিত হয়। এই প্রতিষ্ঠানের সাথে চাঁদপুরের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, শিল্পী ও সংগঠকবৃন্দ যুক্ত ছিলেন।

এই সংগঠনের সাথে যুক্ত ছিলেন সালমা আক্তার, নাজমা আক্তার, অধ্যাপক ইসমাইল তপাদার (বর্তমানে চাঁদপুর সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ), জেসিমন আক্তার, আহসান উল্লাহ, সানাউল্লাহ খান, নেয়ামত হোসেন।

১৯৮৪ সালে ‘চাঁদের হাট’ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে ৩ দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সাকী নামে একজন শিশু শিল্পী জাতীয় পর্যায়ে প্রশংসা অর্জন করেছে।