মেনু নির্বাচন করুন

ইলিশের বাড়ি চাঁদপুর

ডাউনলোড ব্র্যান্ড বুক

ছবিতে জেলা ব্র্যান্ডিং


বিস্তারিত


হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতির বহমান ধারায় সিক্ত নদীমাতৃক এই বাংলাদেশ। ষড়ঋতুর রূপ বৈচিত্র্য আর পাহাড়-সমতলের সবুজ-শ্যামলিমার মায়া ছাপিয়ে রূপের অনন্ত বিভায় নিরন্তর আনন্দে উচ্ছল করে রেখেছে তেরশত নদীর অমৃত জলধারা। পদ্মা ও মেঘনা এই নদীমাতৃক বাংলাদেশেরই বৃহৎ দুটি ধারা। তার সাথে দুরন্ত ডাকাতিয়া দল বেঁধে গড়ে তুলেছে ত্রিনদীর সঙ্গম। নয়ন ভোলানো, মন জুড়ানো এই ত্রি-ধারার মিলনস্থলেই গড়ে উঠেছে কিংবদন্তীর শহর ‘ইলিশের বাড়ি চাঁদপুর’।

লোককথার প্রসিদ্ধ চাঁদ সওদাগরের নাম কিংবা চাঁদ ফকিরের পুণ্য নামের স্মৃতিধন্য মেঘনার স্রোতধারায় পুষ্ট চাঁদপুর পর্যটকদের দৃষ্টির অন্তরালে রয়ে গেছে আজও। ভ্রমণপিপাসু মানুষের মনের জানালায় চাঁদপুরের ইতিহাস ঐতিহ্য পৌঁছে দিতেই এই ব্র্যান্ডিং প্রকাশনা।

ইলিশ এক অনন্য রূপালি সম্পদ, অনিন্দ্য জলজ সম্ভার, অতুলনীয় সমৃদ্ধি আর অফুরান গৌরবের আধার। রূপালি-লাবণ্যের দ্যুতি ছড়ানো ইলিশ আমাদের জাতীয় মাছ, বাঙালি সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক অনন্য বিজ্ঞাপন। আবহমান কাল থেকে অতুলনীয় স্বাদে বিশ্বজয়ী ইলিশ আমাদের খাদ্যাভ্যাস ও আমিষের চাহিদা পূরণ, জাতীয় অর্থনীতি এবং কর্মসংস্থানে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে আসছে। সারা বিশ্বে মোট পাঁচ প্রজাতির ইলিশ মাছ উৎপন্ন হয়। যার মধ্যে Tenualosa Ilisha (হিলশা ইলিশা বা পদ্মা ইলিশ), Tenualosa Toli (টলি ইলিশ বা চন্দনা ইলিশ) এবং Tenualosa Kelee (কেলি ইলিশ)-এ তিন প্রজাতির ইলিশ চাঁদপুরে পাওয়া যায়।

বিশ্বজয়ী সুস্বাদু মাছ ইলিশ গভীর সমুদ্রের মাছ হলেও তার জীবনকালের বেশ কিছু সময় সে কাটায় চাঁদপুরের মেঘনার জলে। অনেকটা সন্তানবতী মেয়ে যেমন বাপের বাড়ি আসে তেমনি ডিম ছাড়ার সময়ে ইলিশ চলে আসে মেঘনায়, চলে আসে চাঁদপুরে। ডিম ছাড়ে মেঘনার মিঠা পানিতে। বাচ্চারা বড় হয় এখানে। তাই ইলিশের বাড়িই যেনো চাঁদপুর। চাঁদপুরকে পর্যটন শিল্পের আলোক-সম্পাতে আনতে ‘ইলিশের বাড়ি চাঁদপুর’-ই হয়েছে এখন অদ্বিতীয় শ্লোগান।

কেবল ইলিশ নয়, মেঘনায় নৌ-বিহার ও জোছনা আস্বাদন কিংবা মেঘনার চরে যান্ত্রিক জীবনের ক্লেশ এড়িয়ে দু’দিনের নির্মল অবকাশ যাপনের জন্যে চাঁদপুর অতুলনীয়। বিশ্বে অনন্য তিন নদীর সঙ্গমস্থল এবং চাঁদপুর শহরের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত বাংলাদেশের টেমস্ খ্যাত ডাকাতিয়া নদীতে রাতে আলো ঝলমলে রূপ-মাধুর্যে পর্যটন সত্যিই অপার্থিব। প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে জেলার আটটি উপজেলায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে ইতিহাস-নন্দিত দর্শনীয় স্থাপনা ও কারুকার্য।


জেলা ব্র্যান্ডিং এর কর্মপরিকল্পনা


পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সময় ও প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে ব্র্যান্ডিং কর্ম-পরিকল্পনাকে তিনটি বিভিন্ন মেয়াদে ভাগ করা হয়েছে। যথা-    

* স্বল্প মেয়াদী : ০৬ মাস    
* মধ্য মেয়াদী: ০১ বছর ০৬মাস  
* দীর্ঘ মেয়াদী: ৩ বছর

প্রণীত কর্ম-পরিকল্পনা

* জেলা ব্র্যান্ডিং এর ব্র্যান্ড-পণ্য নির্ধারণ।
* লোগো ও ট্যাগলাইন তৈরি।
* জেলা ব্র্যান্ডিং এর বিভিন্ন কমিটি গঠন ও দায়িত্ব বন্টন।
* নিয়মিত সভা-সমিতির মাধ্যমে অগ্রগতি নিরূপণ ও পরবর্তী কর্মপন্থা নির্ধারণ।
* জেলা ব্র্যান্ডিং এর প্রচারণা।
* জেলা ব্র্যান্ড-বুক প্রণয়ন।
* জেলা-ব্র্যান্ডিং এর থিম সং তৈরি।
* পর্যাপ্ত পর্যটন-মান সম্পন্ন আবাসন সুবিধা নির্মাণ।
* যানজট নিরসন ও সড়ক ব্যবস্থার উন্নয়ন।
* পর্যটকের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সিসি ক্যামেরার ব্যবহার।
* গণমাধ্যমে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জেলা-ব্র্যান্ডিং কর্মকান্ডের পরিবেশনা ও উপস্থাপন।
* ইলিশের উৎপাদন আগামী তিন বছরে ২০% বৃদ্ধি।
* জেলা ভিক্ষুকমুক্তকরণ কর্মসূচির মাধ্যমে হতদরিদ্র ও দরিদ্রদের পুনর্বাসন এবং এর দ্বারা পর্যটকবৃন্দকে ভিক্ষুক কর্তৃক বিড়ম্বনা ও বিরক্তি উৎপাদন হতে রেহাই প্রদান।
* গৃহহীনকে গৃহদানের মাধ্যমে সবার জন্যে ঘর নিশ্চিতকরণ এবং এর মাধ্যমে রাস্তাঘাটে ভাসমান মানুষের সংখ্যা হ্রাস করে ব্র্যান্ড-জেলাকে পর্যটকের কাছে আকর্ষণীয় করে তোলা।
* আশ্রয়ন প্রকল্পকে সফল করার মাধ্যমে জেলাকে দরিদ্রমুক্ত করা ও জেলা ব্র্যান্ডিং এর মূল উদ্দেশ্য তথা জেলার সামগ্রিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা।
* অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরি ও এর মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।
* নদীতীর ও চরে অধিক সংখ্যক পিকনিক স্পট ও পর্যটন স্পট সৃষ্টি করা।
* নদীমাতৃক পর্যটন সহায়ক নৌযান এর প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা।
* নদী-সংস্কৃতি কেন্দ্র নির্মাণের মাধ্যমে ইতিহাস ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ করা।
* বহুবর্ণিল আলোকায়নের মাধ্যমে রাতের চাঁদপুরকে পর্যটকের কাছে মোহনীয় করে তোলা।
* ক্রীড়ামাস ও সাংস্কৃতিক মাস উদ্যাপনের মাধ্যমে সংস্কৃতি ও ক্রীড়া চর্চার বিকাশ এবং মানবসম্পদের উন্নয়ন ঘটানোর মাধ্যমে জেলা-ব্র্যান্ডিংকে তাৎপর্যমন্ডিত করে তোলা।
* ইলিশকেন্দ্রিক সাহিত্য সৃজনে প্রণোদনা প্রদানের মাধ্যমে জেলা-ব্র্যান্ডিং এর মননশীল গুরুত্ব পরিস্ফুটিত করা।
* পরিচ্ছন্ন নগরী গঠনের মাধ্যমে পর্যটনকে বিকশিত করতে ‘ক্লিন চাঁদপুর গ্রিন চাঁদপুর’ কর্মসূচির বাস্তবায়ন।
* অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরির মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা ও জেলার আর্থ-সামাজিক কাঠামোর উন্নয়ন ঘটানো।
* ইলিশকেন্দ্রিক শিল্পস্থাপন যেমন ইলিশ প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প, শুধুমাত্র ইলিশ নির্ভর খাদ্য বিপনন কেন্দ্র স্থাপন ইত্যাদি।


3f93b598ada6267418eb550a95ec3905.pdf 3f93b598ada6267418eb550a95ec3905.pdf


জেলা ব্র্যান্ডিং ভিডিও গ্যালারী



Share with :